সেন্ট গ্রেগরীর ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ দীর্ঘ পথচলায় শিক্ষার গুণগত মান আপনারা কীভাবে ধরে রেখেছেন?

সেন্ট গ্রেগরী ১৮৮২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪৪ বছর ধরে মিশনারি ফাদার ও ব্রাদারদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত গ্রেগরীর এ সুদীর্ঘ পথচলার মূল সুর একই। শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা সবসময় সহজ নয়। তবে গ্রেগরীতে যে নীতি বা পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়, সেখানে আমরা শৃঙ্খলা, দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক কাঠামো সৎ ও নিরপেক্ষ রাখাকে অত্যন্ত অগ্রাধিকার দিই। প্রতিটি শিক্ষার্থী যাতে তার নিজস্ব মেধা ও আগ্রহ অনুযায়ী বেড়ে উঠতে পারে, আমরা সেই সুযোগ তৈরিতে কোনো আপস করি না। এসব কারণে আমরা এখানে শিক্ষার এমন একটি সংস্কৃতি তৈরিতে সক্ষম হয়েছি, যেখানে শুধু পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনাই সব নয়। আমাদের মূল লক্ষ্য—শিক্ষার্থীকে একজন গুণগত মানসম্পন্ন, বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। এ বিষয়গুলোই সেন্ট গ্রেগরীর শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে পারার মূল কারণ বলে মনে করি।

গ্রেগরীয়ানরা দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরির মূল রহস্য কী?

এটিকে হয়তো মূল কারণ বলা ঠিক হবে না, তবে বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক ক্লাব কার্যক্রম নেতৃত্ব তৈরিতে অন্যতম সহায়ক ভূমিকা পালন করে বলে মনে করি। এখানে ১৩-১৪টি ক্লাব আছে, এবং এ ক্লাবগুলোর বেশির ভাগকেই দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাব কার্যক্রমের পাইওনিয়ার বলা যায়। বাংলাদেশে বিতর্ক ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব, বাস্কেটবল, রাগবি বা ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্লাব পরিচালনায় আমাদের ছাত্ররা পথ দেখিয়েছে। এ ক্লাবগুলোর মূল চালিকাশক্তি শিক্ষার্থীরাই; শিক্ষকরা শুধু মডারেটর হিসেবে গাইড করেন। সংগঠন পরিচালনা থেকে শুরু করে প্রোগ্রাম আয়োজন—সব শিক্ষার্থীরাই করে। এসব থেকে তাদের মধ্যে নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক ক্ষমতার বিকাশ ঘটে।

বর্তমান এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষার্থীদের কীভাবে প্রস্তুত করছেন?

প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল চালিকাশক্তি শিক্ষার্থীরাই। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সময়োপযোগী প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিশ্চিতে তাদের একটি আধুনিক প্লাটফর্মে নিয়ে আসতে কাজ করছি আমরা। আমাদের জায়গার সীমাবদ্ধতা থাকায় আমরা খুব বেশি অবকাঠামোগত সুবিধা দিতে পারছি না, তবে দুটি সমৃদ্ধিশালী কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। এছাড়া ‘ইনোভেশন ক্লাব’ তৈরি করেছি, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে অভ্যস্ত হতে পারছে এবং নিজেদের মেধা বিকশিত করার সুযোগ পাচ্ছে।

বর্তমানে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগ শুধু ভালো ফলাফল বা নম্বরের পেছনে ছুটছে। একজন প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে এ মানসিকতাকে কীভাবে দেখেন?

এটি আমাদের সমাজে একটি ক্ষতিকর সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পেছনে অভিভাবকদের মানসিকতা, সামাজিক প্রেক্ষাপট, স্কুলের পড়ার চাপ এবং সরকারের প্রতিনিয়ত বইয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়া সবকিছুরই দায় রয়েছে। নম্বরের পেছনে ছোটার প্রবণতা যে আমাদের কতটা ক্ষতি করছে, তা অভিভাবকদের বোঝাতে আমাদের খুব বেগ পেতে হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীরা কোচিংয়ের পেছনে ছুটে তাদের ব্যক্তিগত পড়াশোনার মূল্যবান সময় নষ্ট করছে এবং সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তারা মনে করে স্কুলের সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলো অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয়। সচেতন মহলের বোঝা উচিত—আমরা কি শুধু ভালো নম্বর চাই, নাকি শিক্ষার্থীর সার্বিক উন্নয়ন চাই? সবচেয়ে বড় ভয়ের ব্যাপার হলো, আমাদের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরে কোনো বই পড়ছে না। অথচ যথাযথ বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য পাঠ্যবইয়ের বাইরেও বই পড়া জরুরি। শুধু ভালো নম্বরের পেছনে ছোটার মানসিকতা পরিবর্তন না হলে জাতি হিসেবে আমরা কোথায় যাব, তা নিয়ে আমি শঙ্কিত।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সেন্ট গ্রেগরীতে কী ধরনের উদ্যোগ রয়েছে?

আমরা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমাদের এখানে একজন ফুলটাইম প্রফেশনাল কাউন্সেলর আছেন এবং একজন দক্ষ ব্রাদার মাসে তিনদিন কাউন্সেলিং সেবা দেন। পাশাপাশি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক সেবার জন্য আমরা একটি আধুনিক ‘হেলথ কেয়ার সেন্টার’ চালু করেছি। আমরা মনে করি, একাডেমিক এক্সিলেন্সির পাশাপাশি শিক্ষার্থীর মানসিক সুস্থতা অত্যন্ত জরুরি।

শিক্ষকদের দক্ষতা ও মান নিশ্চিতে আপনারা কী ধরনের কার্যক্রম ফলো করেন?

দক্ষ শিক্ষক ছাড়া দক্ষ জনশক্তি তৈরি অসম্ভব। আমার দর্শন হলো, শিক্ষাকে আমি কখনো চ্যারিটি মনে করি না। সেন্ট গ্রেগরীতে শিক্ষকরা আসেন যোগ্যতা নিয়ে। তবে শুধু ভালো ফলাফল থাকলেই ভালো শিক্ষক হওয়া যায় না। তাই আমরা সরকারি ট্রেনিংয়ের অপেক্ষা না করে বছরে তিন-চারটি ইন-হাউজ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করি এবং বাইরে থেকে ট্রেইনার নিয়ে আসি। নিজেদের ভুলত্রুটি নিয়ে আমরা আত্মসমালোচনা করি এবং প্রতিনিয়ত শিক্ষকদের দক্ষ করে তোলার চেষ্টা চালাই।

শিক্ষার্থীদের সঠিক বিকাশের জন্য আপনারা অভিভাবকদের সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করেন?

আমাদের বিশাল ছাত্র সংখ্যা ও একাধিক শিফট থাকার কারণে প্রতি তিন মাস পরপর সবার সঙ্গে বসা অসম্ভব। তবু আমরা বছরে অন্তত একবার বা দুবার সব অভিভাবকের সঙ্গে বসে বিভিন্ন ইস্যুতে খোলামেলা আলাপ করি এবং তাদের মতামত নেই। তবে নবম, দশম বা ইন্টারমিডিয়েট লেভেলের অভিভাবকদের সঙ্গে বিশেষ ক্লাসের প্রয়োজনে আমাদের কিছুদিন পরপরই বসা হয়।

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে সেন্ট গ্রেগরীর বিশেষ কোনো উদ্যোগ রয়েছে? সেন্ট গ্রেগরী আজ পর্যন্ত তার গুণগত মান নিয়ে টিকে আছে। এর মূল কারণ আমাদের ‘ভ্যালুজ অ্যান্ড ইথিকস। আমাদের নিয়মিত রুটিনেই ‘মোরালিটি ক্লাস’ রয়েছে। এছাড়া এ বছর থেকে আমরা ‘মাসভিত্তিক মূল্যবোধ চর্চা’ শুরু করেছি। এক্ষেত্রে প্রতি মাসের জন্য একটি করে মানবিক গুণ নির্দিষ্ট করা আছে—যেমন ধৈর্য, ভালোবাসা, ক্ষমা ইত্যাদি। ওই নির্দিষ্ট মাসে শিক্ষকরা ক্লাসে এবং ক্লাসের বাইরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এবং চর্চা করান। এভাবে মূল্যবোধগুলোকে অভ্যাসে এবং অভ্যাসকে চরিত্রে পরিণত করার চেষ্টা করছি আমরা।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো কী কী?

চ্যালেঞ্জ অনেক। তবে প্রথম ও প্রধান বাধা হলো সদিচ্ছার অভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাব। আমাদের সমাজে সৎ মানুষ এবং সৎ মানসিকতার বড় অভাব। প্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়ে অনেক সময় আমরা সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলতে পারি না, পক্ষপাতমূলক আচরণের চাপ আসে। আমাদের মতো মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্রোতের বিপরীতে গিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানো এখন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। চারদিকে ঘুস ছাড়া কোনো কাজ হচ্ছে না। শিক্ষা দপ্তর বা বিভিন্ন সরকারি অফিসে যখন একটি কমিটি অনুমোদনের জন্য বা শিক্ষক নিয়োগের জন্য ঘুস চাওয়া হয়, তখন একজন প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিবেককে হত্যা করা হয়। ৫ লাখ টাকা ঘুস দিয়ে যে শিক্ষক চাকরিতে ঢুকবেন, তিনি কি প্রতিষ্ঠানের প্রতি বা শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবেন? তিনি তো ভাববেন আমি টাকা দিয়ে এসেছি, ক্লাসে যাই বা না যাই। আমরা সেন্ট গ্রেগরীতে শিক্ষক নিয়োগের আবেদনের জন্য কোনো ডিডি (ডিমান্ড ড্রাফট) বা টাকা নিই না। আমরা প্রার্থীদের ট্যালেন্টকে সম্মান জানাই, তাদের এক কাপ চা খাইয়ে বরণ করি। শিক্ষক নিয়োগে এ ধরনের স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি। স্বচ্ছতা ও চিন্তাভাবনা যদি রাষ্ট্র ও জাতির মধ্যে না আসে, তবে শিক্ষার মানোন্নয়নের চ্যালেঞ্জগুলো দিন দিন আরো কঠিন হয়ে পড়বে।

আগামী ১০ বছর পর সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজকে কোন অবস্থানে দেখতে চান?

আমাদের ১০ বছরের পরিকল্পনা হলো—শিক্ষার্থীদের আরো বেশি সৃজনশীল ও গবেষণানির্ভর করে গড়ে তোলা। আমাদের দেশের শিক্ষায় তাত্ত্বিক জ্ঞান বেশি হলেও গবেষণার খুব অভাব। তাই আমরা শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে একীভূত করার পাশাপাশি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কাউন্সেলিং সুবিধা আরো বাড়াব এবং নৈতিক মূল্যবোধের স্বতঃস্ফূর্ত চর্চায় জোর দেব।

বর্তমান তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে আপনার বিশেষ কোনো উপদেশ বা বার্তা আছে?

আমার শিক্ষকতা জীবন থেকে দেখেছি, গাইডবই ও কোচিং-নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের মেধা ও নৈতিকতাকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। এক জরিপে দেখা গেছে, স্কুলের ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী বাইরে কোনো না কোনো কোচিং সেন্টারে পড়ে। কোচিং সেন্টারগুলো এক একটি ব্যাচে ৬০-৭০ জন ছাত্র পড়ায়, অথচ যেখানে কোনো সঠিক পরিবেশ বা নৈতিকতার শিক্ষা, নিয়মনীতি নেই। অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের পরিবেশে শিক্ষার্থীদের নৈতিক অধঃপতন ঘটছে এবং তারা পরীক্ষায়ও আশানুরূপ ফল পাচ্ছে না। তরুণদের প্রতি আমার বার্তা—তোমরা কেবল নম্বরের পেছনে না ছুটে আনন্দ নিয়ে শেখো, পাঠ্যবইয়ের বাইরেও বই পড়ো এবং নিজের সার্বিক বিকাশ ঘটাও।

আপনার মতে দেশের শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারের কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত?

শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে শিক্ষা খাতকে সর্বাগ্রে দুর্নীতিমুক্ত ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে। বর্তমানে শিক্ষা খাতে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে তার বেশির ভাগেরই মূল কারণ দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব। যেমন মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে শিক্ষকরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষক যদি যথাযথ যোগ্যতা ও দক্ষতাসম্পন্ন না হন তবে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের ঘাটতি তৈরি হয়। কিন্তু দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক সময়ই দেখা যায়, অনেক অযোগ্য ব্যক্তিও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন। আবার প্রায়ই আমরা শিক্ষার উন্নয়নে নেয়া নানা কর্মসূচিতে অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ হতে দেখি এবং এসব অনিয়ম-দুর্নীতির জন্য উদ্যোগগুলো শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না। আর একজন শিক্ষার্থী যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এ ধরনের দুর্নীতির চর্চা দেখে, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে দেখে তখন তার মধ্যে সততা ও নৈতিকতার বিকাশ ঘটানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। আমাদের দেশে আরেকটি বড় সমস্যা হলো বারবার কারিকুলাম পরিবর্তন ও শিক্ষার্থীদের গাইডবই-কোচিংনির্ভরতা। বারবার কারিকুলাম পরিবর্তন কখনো ইতিবাচক ফলাফল দেয় না। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ওপর ক্রমে বইয়ের বোঝা বাড়ছে। অনেক সময়ই ক্যারিয়ার স্টাডিজ বা শারীরিক শিক্ষার মতো এমন অনেক সাবজেক্ট সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর বিদ্যালয়ে খেলার মাঠসহ প্রয়োজনীয় সক্ষমতা না থাকায় কোনো বাস্তবিক প্রয়োগ নেই, অথচ শিক্ষকরা সেখানে ৫০-এ ৫০ দিয়ে দিচ্ছেন। এ ধরনের বিষয় থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, যেসব বিষয় বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগ নেই সেগুলো সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা নেই, শিক্ষার্থীদের ওপর বইয়ের বোঝা কমাতে হবে এবং গাইডবই ও কোচিং কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার পরিকল্পনা হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি। এখানে রাজনৈতিক দর্শনের তুলনায় শিক্ষার প্রকৃত উন্নয়নকে গুরুত্ব দিতে হবে। ক্ষমতায় যারাই থাকুক শিক্ষার পরিকল্পনা যেন ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যায়, বারবার পরিবর্তিত না হয় সেটি খেয়াল রাখতে হবে। অন্যথায় শিক্ষা খাতের কার্যকর উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।