আগে থেকেই হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা বাড়ানো আর প্রচলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় নির্ভর করলে সংকট মোকাবেলা সম্ভব নয়। আবার প্রাইমারি স্বাস্থ্যসেবা ও তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর হস্তক্ষেপ ছাড়া ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব নয়, বরং তৃণমূল পর্যায়ে সমন্বিত কার্যক্রম বাড়ানোর নীতিগত পরিবর্তন দরকার। ডেঙ্গুর হটস্পটগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত রেসপন্স টিম মোতায়েন জরুরি। কোনো এলাকায় কারো ডেঙ্গু শনাক্ত হলে এক কিলোমিটার এলাকায় আরো রোগী আছে কিনা খুঁজতে হবে।

ডেঙ্গুর ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে অসচেতন বলাটা ঠিক হবে না। এখন মানুষ জানে মশার কামড়ে কি ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু কোথায় ও কীভাবে এডিস বংশবৃদ্ধি করে—এসব বিষয়ে কারিগরি তথ্য তাদের কাছে যায়নি। এজন্য ডেঙ্গুর বিষয়ে মানুষকে সঠিক তথ্য দেয়া জরুরি। ডেঙ্গু মোকাবেলায় শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নয়—স্থানীয় সরকার, সমাজকল্যাণ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বয়ে ‘পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করা প্রয়োজন। সিটি করপোরেশন বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফির বিনিময়ে বাসাবাড়ি লার্ভামুক্ত করার কারিগরি সেবা চালু করা যেতে পারে। দমনমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তে এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ মানুষকে আরো বেশি সম্পৃক্ত করবে।

ডা. মুশতাক হোসেন: সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)