হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় তখন অপরিশোধিত তেল সংগ্রহে হিমশিম খাওয়া অন্যান্য ক্রেতার জন্য বাজার উন্মুক্ত হয়। অন্যদিকে ভারত ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার শোধনাগারগুলো থেকে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ার ধাক্কা সামলাতে দেশটি রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা বাড়িয়েছে; পরিশোধিত জ্বালানি রফতানি দ্বিগুণ করেছে।

চীন যেভাবে অপরিশোধিত তেল আমদানি কমিয়েছিল, ভারতের রাশিয়ার তেল কেনা এবং পরিশোধিত জ্বালানি রফতানি বাড়ানোর সিদ্ধান্তটিও কোনো পরোপকারী উদ্দেশ্যে নয়; বরং বাজার পরিস্থিতি সামাল ও মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে নেয়া। ভারতের তেল শোধনাগারগুলো অপরিশোধিত তেলের তুলনায় ডিজেল ও পেট্রলের মতো জ্বালানির উচ্চ মূল্যের সুযোগ নিচ্ছে। পরিশোধিত জ্বালানির চড়া দামের সুযোগ কেবল ভারতই নিচ্ছে তা নয়; রফতানি ক্ষমতা থাকা অন্য দেশগুলোও উৎপাদন বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন দেশের এ চেষ্টার পরও এশিয়ায় জ্বালানি পণ্যের আমদানি যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির চেয়ে কম। এ থেকে স্পষ্ট যে এশিয়ার পরিশোধিত জ্বালানির বাজার এখনো সংকটময়। এমনকি শোধনাগারগুলোর কাছে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের দরুন তৈরি হওয়া বিশাল ঘাটতি পূরণ করার মতো যথেষ্ট রফতানি সক্ষমতা বাজারগুলোতে নেই।

ক্লাইড রাসেল: রয়টার্সের এশিয়ান পণ্য ও জ্বালানিবিষয়ক কলামিস্ট

রয়টার্সের নিবন্ধ থেকে সংক্ষেপিত