কিন্তু যুদ্ধবিরতির সময় দেখা গেল, প্রত্যাশার তুলনায় ভারত পরিস্থিতি বেশ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছে। আমার মতে, এর পেছনে যেমন কিছুটা ভাগ্যের ভূমিকা ছিল, তেমনি ছিল সরকারের সচেতন নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি। সরকার ধরে নিয়েছিল সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তাই দুই মাস ধরে পেট্রল ও ডিজেলের খুচরা মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়। এতে ভোক্তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়নি, মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে ভোগব্যয় সক্রিয় থেকেছে। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানিগুলোর কিছুটা ক্ষতি স্বীকার করতে হয়েছে এবং সরকারকে জ্বালানি কর কমিয়ে রাজস্ব ত্যাগ করতে হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনীতিও কাজ করেছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন সামনে থাকায় সরকার জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি নিতে চায়নি। নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই দাম সমন্বয় করা হয়। শুধু ভাগ্যের ওপর নির্ভর করেই ভারত এ সংকট মোকাবেলা করেনি। দীর্ঘমেয়াদে ভারতের প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবু সংকট শেষ হয়ে যায়নি। হরমুজ প্রণালিতে আবারো উত্তেজনা বেড়েছে, তেলের দাম ও রুপির ওপর চাপ বাড়ছে। তাই আমি মনে করি, সাময়িক সাফল্যে সন্তুষ্ট না থেকে ভবিষ্যতের বড় জ্বালানি ধাক্কা মোকাবেলায় ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা শক্তিশালী করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

লিও মিরানি: ইকোনমিস্টের এশিয়াবিষয়ক প্রতিবেদক, অশোকা কলাম থেকে সংক্ষেপিত