উচ্চ শিক্ষার নানা প্রসঙ্গ নিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে বসে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে। এটি অত্যন্ত একটি ইতিবাচক দিক। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই উচ্চ শিক্ষার বেহাল দশার ভুক্তভোগী। এ নিয়ে অনেকদিন ধরেই আমাদের আন্দোলন, সংগ্রাম করে যেতে হয়েছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে শিক্ষাকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে।
- আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়নের একজন শিক্ষার্থী। সে হিসেবে বলতে পারি বর্তমানে বাংলাদেশে স্টেম রিসার্চের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। যেহেতু বাংলাদেশে রোগ-জীবাণুর পরিমাণ অনেক বেশি, সেহেতু এ দেশ থেকে রোগ-জীবাণুর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। যেহেতু এখানে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও সুবিধা না থাকায় বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় ফলাফল বের করা সম্ভব হয় না। বাংলাদেশের বিজ্ঞানী বা গবেষকরা নমুনা সংগ্রহ করে সঠিক ফলাফলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য দেশে পাঠিয়ে দেন। আমাদের গবেষণায় দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয় না। এছাড়া কোনো গবেষক দল যখন বিশেষ কোনো বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করে, তার ফলাফল নিয়ে পেপার বের করতে করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। গবেষণা যদি সফল না হয় তাহলে তাকে অনেক লোকসান গুনতে হয়। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গবেষণার সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো।
- আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করেছি, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখনো পর্যন্ত শিক্ষা নিয়ে কোনো সংস্কার কমিশন গঠন করেনি। আমি শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে বিনয়ের সঙ্গে জানতে চাচ্ছি, কেন এখনো শিক্ষা সংস্কার কমিশন হয়নি। ২০২০-২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ৫০ কোটি টাকার মতো বাজেট রাখা হতো। এ অল্প বাজেটে তো চিড়াও ভিজবে না। প্রাণরসায়ন বা এ ধরনের গবেষণায় তার চেয়ে বেশি অর্থ প্রয়োজন। অথচ গবেষণায় সরকারের বাজেট মাত্র ৫০ কোটি টাকা। আগামী ২০ বা ৩০ বছর পর বাংলাদেশের গবেষণা ও উন্নয়ন খাতের ফ্রেমওয়ার্ক কী হবে বা এটি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা, তা জানা দরকার?
- উচ্চ শিক্ষার মান নিয়ে প্রচুর কথা হচ্ছে। শিক্ষার্থী হিসেবে আমি একেবারে মৌলিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই। আমি মনে করি শিক্ষার্থীরা ন্যূনতম মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত। আমার বিভাগের ক্লাস হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে। সেখানে আরো কয়েকটি বিভাগের ক্লাস হয়। কিন্তু সেখানে খাবারের কোনো ভালো ক্যান্টিন নেই। ভালো মানের কোনো খাবার পাওয়া যায় না। বাকি সমস্যার আলাপ তো আরো পরে। প্রথমে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করাই তো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রাথমিক দায়িত্বের আওতায় পড়ে। খাবার মান ও দাম নিয়ে একটি আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক ভিসি আখতারুজ্জামানের সঙ্গে আমাদের একটি আলোচনা হয়েছিল। উপাচার্য বলেছিলেন, খাবারের ওপর সরকার কোনো ভর্তুকি দেয় না। বর্তমানে বাজারে মোটামুটি মানসম্মত খাবারে বাজারমূল্য ৭০-৮০ টাকা। এ টাকায় মাত্র একটি মুরগির পিস এবং এক প্লেট ভাত পাওয়া যায়। একই খাবার ক্যান্টিনে দেয়া হয় ৩৫-৪০ টাকায়। কিন্তু সে খাবারের প্রোটিন মান খুবই খারাপ। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ভর্তুকির সুযোগ আছে কিনা সে বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে একটি প্রস্তাব রাখছি। উচ্চ শিক্ষা নিয়ে আমার অনেক কিছু বলার ছিল। তা উন্নতির নানা ইস্যুতে সামনেও অনেক আলোচনা হবে—এ আশা রাখছি। যেহেতু শিক্ষা উপদেষ্টাকে সামনাসামনি পেয়েছি, তাই এ প্রশ্ন রেখে গেলাম।
উমামা ফাতেমা: মুখপাত্র, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
[‘উচ্চ শিক্ষায় বৈশ্বিক মান: বাংলাদেশের করণীয়’ শীর্ষক বণিক বার্তা আয়োজিত প্রথম বাংলাদেশ উচ্চ শিক্ষা সম্মেলন ২০২৪ অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচকের বক্তব্য]










