দীর্ঘদিন ধুঁকতে থাকা এ খাতে আচমকা অভাবনীয় মুনাফার জোয়ার এসেছে। ফলে বড় তেল কোম্পানিগুলোর সামগ্রিক আয় অবিশ্বাস্য হারে বেড়েছে। তবে সাময়িক ও দীর্ঘমেয়াদে এ খাতের ভবিষ্যৎ এখনো ধোঁয়াশাপূর্ণ। নানা কারণে দুই দশক ধরে ‘বিগ অয়েল’ খ্যাত বিশ্বমানের জায়ান্টগুলো তেল শোধন ব্যবসা থেকে ধীরে ধীরে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক বিশ্ব ভূরাজনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অবরুদ্ধ, বিভিন্ন শোধনাগারে হামলা এবং ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে ডিজেল, পেট্রল ও জেট ফুয়েল সরবরাহে তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ সংকটকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের শোধনাগারগুলো সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কাজ শুরু করায় চলতি দশকে সর্বোচ্চ রেকর্ড মুনাফা অর্জন করেছে। সাময়িকভাবে মনে হচ্ছে এ খাত নতুন জীবন পেয়েছে। এ দশকের শেষ পর্যন্ত কোম্পানিগুলোর মুনাফা তুলনামূলক ভালো থাকলেও এটা চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট। বর্তমানে জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক দেশই নিজস্ব শোধনাগার তৈরির চিন্তা করছে। এতে ভবিষ্যতে বাজারে তেলের অতিরিক্ত সরবরাহের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আপাতত সাময়িক মুনাফা হলেও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তনের কারণে তেল শোধন খাতের সুদিন স্থায়ী হবে না।

রন বুশো: রয়টার্সের জ্বালানিবিষয়ক কলামিস্ট

রয়টার্সের নিবন্ধ থেকে সংক্ষেপিত