তবে এ রূপান্তর কীভাবে সাশ্রয়ী, রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং নতুন কোনো সংকট তৈরি না করে অর্জন করা যায় সেটিই মূল আলোচনার বিষয়। ঐতিহ্যগতভাবে এ আলোচনা দুই ভাগে বিভক্ত: একপক্ষ মনে করে ইভি ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ানো উচিত, অন্যপক্ষ মনে করে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প জীবাশ্ম জ্বালানি অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন।
অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক কৌশল এ দ্বিধার চমৎকার উদাহরণ। জ্বালানির ঘাটতি মেটাতে দেশটি যেমন নতুন করে একটি তেল শোধনাগার নির্মাণের সম্ভাব্য সমীক্ষা চালাচ্ছে, তেমনি খনি ও কৃষি খাতে দ্রুত বৈদ্যুতিকীকরণ এবং ইভি ব্যবহারের প্রচার করছে। কেবল নতুন শোধনাগার বানালেই পূর্ণ জ্বালানি নিরাপত্তা আসে না; কারণ তা পরিশোধিত জ্বালানির আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে কেবল অপরিশোধিত তেলের আমদানিনির্ভরতায় রূপান্তর করে। সবচেয়ে কার্যকর পথটি হলো, সাময়িক সুরক্ষার জন্য প্রথাগত অবকাঠামো বহাল রেখে ধীরে ধীরে কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে নবায়নযোগ্য শক্তি ও ইলেকট্রিক পরিবহনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। কোনো একক পদক্ষেপে সম্পূর্ণ জ্বালানি নিরাপত্তা সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি হলো দুই দিক দিয়েই বৈচিত্র্য আনা—একদিকে শক্তির উৎস বা আমদানির ভৌগোলিক অঞ্চলে বৈচিত্র্য আনা, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের ধরনেও পরিবর্তন ঘটানো।
ক্লাইড রাসেল: রয়টার্সের পণ্যবাজার ও জ্বালানিবিষয়ক কলামিস্ট
রয়টার্স থেকে সংক্ষেপিত










