অথচ মূল আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত এশিয়াজুড়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহে সৃষ্ট তীব্র সংকট। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটের মতে, তথ্য বিশ্লেষকদের ধারণার চেয়েও বেশি খনিজ তেল হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে (প্রতিদিন প্রায় ৯-১৫ মিলিয়ন ব্যারেল)। অথচ ভেসেল ট্র্যাকিং সেবা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, এ পরিমাণ দৈনিক মাত্র ৫ মিলিয়ন ব্যারেল। রাইটের তথ্য সঠিক কিনা তা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এশিয়ার বন্দরগুলোতে জ্বালানি তেল পৌঁছার পরিসংখ্যান দেখলেই স্পষ্ট হবে। কিন্তু বর্তমানে আসল চাপ সামলাতে হচ্ছে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারকে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের তিন মাসের তুলনায় আগস্টে এশিয়ায় ডিজেল, জেট ফুয়েল ও গ্যাসোলিনের মতো হালকা ও মাঝারি পাতিত তেলের (ডিস্টিলেটস) আমদানি প্রায় ২১ শতাংশ কমেছে। দৈনিক ঘাটতি ১ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ব্যারেল। এ সংকটের প্রভাব সব দেশের ওপর সমানভাবে পড়েনি। ক্রুড তেলের সরবরাহ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও পরিশোধন ব্যয় ও মুনাফার মার্জিন রেকর্ড উঁচুতে অবস্থান করছে। এশিয়ার অধিকাংশ রিফাইনারি মধ্যপ্রাচ্যের মাঝারি ধাঁচের খনিজ তেল প্রক্রিয়াজাত করার উপযোগী। কিন্তু বর্তমানে সঠিক গ্রেডের জ্বালানি তেলের ঘাটতি থাকায় এবং রিফাইনারিগুলো রফতানি না বাড়ানোয় এশিয়াজুড়ে জ্বালানি সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে।

[রয়টার্স থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর]

ক্লাইড রাসেল: রয়টার্সের আন্তর্জাতিক পণ্য ও জ্বালানি খাতবিষয়ক লেখক