ড. মো. মাইন উদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান। ২০১২ সালে জাপানের তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। সবল ব্যাংকের সঙ্গে দুর্বল ব্যাংকের একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াসহ ব্যাংক খাতের সাম্প্রতিক নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দিদারুল হক
মার্জার বা একীভূতকরণ ও অ্যাকুইজিশন বা অধিগ্রহণ কখন হয়? কেন হয়?
কোনো ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়লে তার কার্যক্রম চালু রাখার জন্য বা টিকিয়ে রাখার জন্য মার্জার বা একীভূতকরণ একটি উপায় হিসেবে দেখা হয়। মার্জারের যে লক্ষ্য শুধু দুর্বল ব্যাংকের কার্যক্রম চালু রাখা তা নয়, মাঝেমধ্যে দুটো সবল ব্যাংক বা একটি ভালো ও একটি মাঝারি মানের ব্যাংকের মধ্যে একীভূতকরণ হয়। সেক্ষেত্রে একীভূতকরণের উদ্দেশ্য থাকে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও বাজার শেয়ার বৃদ্ধি করা। সেক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় তুলনামূলক সুবিধা অর্জন করা একীভূতকরণের উদ্দেশ্য থাকে।
তাই মার্জারের উদ্দেশ্য যদি আমরা এভাবে দেখতে চাই—প্রথমত, মার্কেটের শেয়ার দখল করার জন্য অনেক সময় ভালো ব্যাংকের সঙ্গে ভালো ব্যাংকের বা ভালো মানের ব্যাংকের সঙ্গে মাঝারি মানের ব্যাংকের প্রায়ই একীভূতকরণ হয়ে থাকে। আবার ভালো ও মধ্যম মানের ব্যাংকের সঙ্গে দুর্বল মানের ব্যাংকের এক ধরনের একীভূতকরণও দেখা যায়। সেক্ষেত্রে সাধারণত দুর্বল ব্যাংক যাতে ক্ষতির কারণে মার্কেট থেকে উঠে না যায় সেজন্য ও ব্যাংকের একটা সম্মানজনক প্রস্থান খোঁজা হয়।
একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ হলে ব্যাংক খাতের উপকারিতা কী?
অধিগ্রহণের মাধ্যমে ব্যাংক খাতের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। এর মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংক যাতে আরো দুর্বল হয়ে অর্থনীতির ক্ষতি করতে না পারে, তার চেষ্টা করা হয়। কারণ একটি ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেলে এর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যাপক। ব্যাংকের গ্রাহক তখন ব্যাংকের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে। এ অবস্থায় ভালো ব্যাংকও গ্রাহকের আস্থার সংকটে পড়ে দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে। এমনকি গ্রাহকরা শিক্ষিত হলেও আস্থার সংকট কাটিয়ে ওঠা খুবই কঠিন। আস্থার সংকটে পড়া গ্রাহক যুক্তির মাধ্যমে তাড়িত হয় না। তাই কোনো সরকারই চায় না তার সময়ে ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যাক। কারণ একটি ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেলে তখন অর্থনীতিতে তার যে প্রভাব পড়বে সেটা দীর্ঘদিন থাকবে। এ কারণে শুধু বাংলাদেশই নয়, অনেক দেশই তাদের দুর্বল ব্যাংককে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। যদি যৌক্তিকভাবে দেখা হয়, তাহলে পৃথিবীর অনেক ব্যাংকই দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তাদের ব্যাপক প্রভাবের কথা চিন্তা করে অর্থনীতিতে টিকিয়ে রাখা হয়।
বিশ্বের অনেক দেশেই একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এর চর্চা শুরু হতে এত সময় লাগল কেন?
বাংলাদেশে এর চর্চা শুরু হয় ২০০৯ সালে। বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও শিল্প ঋণ সংস্থা—দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান একীভূতকরণ হয়ে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড নামে নতুন ব্যাংক যাত্রা শুরু করে। এ চর্চা দেরিতে হওয়ার কারণ এতদিন যখন লোকজন বলছিল দেশে ব্যাংকের সংখ্যা বেশি এবং এদের অনেকগুলোই দুর্বল, সরকার এসব কথাকে তখন পাত্তা দেয়নি। সরকার তখন মনে করেছে, অর্থনীতির আকার বাড়ছে এবং এর সঙ্গে ব্যাংকের সংখ্যা বাড়ালে খুব বেশি সমস্যা হবে না। কিন্তু অর্থনীতির আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকের সংখ্যা বাড়ারও একটি যৌক্তিক সংখ্যা থাকে, সেটা আসলে তারা আমলে নিতে চাননি। প্রায়ই দেখা গেছে, গুচ্ছ গুচ্ছভাবে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে এ ব্যাংকের অনুমোদন অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে—অর্থনীতির নীতি দিয়ে পরিচালিত না হয়ে রাজনৈতিক সুবিধা হিসেবে দেয়া হয়েছে। যেহেতু সরকার চেয়েছে ব্যাংকের সংখ্যা বাড়ুক, আর কাউকে রাজনৈতিক সুবিধা দিতে গেলে তো ব্যাংকের সংখ্যা বাড়বেই। সরকার যদি ব্যাংকের সংখ্যা একবার বাড়িয়ে আবার কমাতে চায়, তাহলে প্রথম সিদ্ধান্তটা যে ভুল ছিল তা স্পষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে সরকারও চেয়েছে, ব্যাংকের অনুমোদন যেহেতু দিয়েছি, একেবারে খাদের কিনারায় না গেলে আর ওই ব্যাংকগুলোকে একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের আওতায় নিয়ে আসা হবে না। এখন বোধহয়, দেশের অর্থনীতির পরিমাণ ও ব্যাংকের সংখ্যা এ বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছে যে আমাদের এতগুলো ব্যাংকের দরকার নেই। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, কিছু কিছু ব্যাংকের অবস্থা খুবই খারাপ। দেশের ব্যাংকের অবস্থা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এতদিন জনগণের সামনে এত পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেনি। কিন্তু গত দু-এক সপ্তাহে দেখা গেল, বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংককে রেড, ইয়েলো এবং গ্রিন জোন ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে। সেখানে অনেকগুলো ব্যাংকেরই খারাপ অবস্থা দেখা যাচ্ছে।
এক্সিম ব্যাংক পদ্মা ব্যাংককে একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে পদ্মা ব্যাংকের মৌলিক সমস্যার সমাধান হবে?
পদ্মা ব্যাংক নিজে চলতে গেলে যে সমস্যার সম্মুখীন হতো, তার থেকে অবশ্যই উন্নতি ঘটবে। কারণ এক্সিম ব্যাংক একটি প্রতিষ্ঠিত এবং মোটামুটি ভালো ব্যাংক। পদ্মা যখন এর সঙ্গে একীভূত হবে তখন বর্তমানে পদ্মা ব্যাংকের যে অবস্থা, গ্রাহক সংকট, আস্থার সংকট এবং প্রচুর পরিমাণে খেলাপি ঋণ—এ অবস্থা থেকে কিছুটা হলেও বের হয়ে আসতে পারবে। তবে এক্সিম ও পদ্মা ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডের সদস্যরা বসে যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নেন এবং তাদের উদ্দেশ্য যদি ভালো থাকে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এর ভালো ফল পাওয়া যাবে। পদ্মা ব্যাংকের যে সম্পদ রয়েছে তা ভালোভাবে ম্যানেজ করতে হবে। একীভূতকরণে স্বল্পমেয়াদে কোনো ফল পাওয়া যাবে না। যখন দুটি ব্যাংকের একত্রিত সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যাবে এবং স্থির ব্যয় কমে যাবে তখন একীভূতকরণের সুবিধা পাওয়া যাবে। খেলাপি ঋণ যদি কোনো সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়া যায় বা খেলাপি ঋণ আদায় করতে আলাদা কোনো কার্যকরী ইউনিট তৈরি করা যায়, তাহলে আশা করা যায় খেলাপি ঋণ কিছুটা হলেও কমবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশে খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য তেমন শক্তিশালী সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি নেই। বিদেশে এসব কোম্পানি অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর। তারা খুব ভালোভাবেই খেলাপি ঋণ আদায় করতে পারে। তাদের যেমন রয়েছে সক্ষমতা, তেমনি রয়েছে কাজ করার স্বাধীনতা। তাদের কাজে কোনো ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ থাকে না।
ধরুন, পদ্মা ব্যাংকের ১০০ টাকার খেলাপি ঋণ একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ৭০ টাকায় কিনে নিল। সেই ৭০ টাকা পদ্মা ব্যাংক পেয়ে গেল। আর সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি যদি ৭০ টাকার ওপরে আদায় করতে পারে সেটা তার লাভ। তবে আমাদের দেশে রাতারাতি এ ধরনের কোম্পানি তৈরি করা সম্ভব নয়। তবে এ ধরনের শক্তিশালী ও স্বায়ত্তশাসিত কোম্পানি গঠন করে তাদের ক্ষমতা দেয়া এবং সক্ষমতা অর্জন করতে সাহায্য করা সময়ের দাবি। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।
যাদের কারণে পদ্মা ব্যাংকের এ অবস্থা হলো তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া দরকার কিনা
শুধু পদ্মা ব্যাংক নয়, দেশের সামগ্রিক ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। তাই এ খেলাপি ঋণ যদি আমরা কমাতে চাই, তাহলে শুধু পদ্মা ব্যাংকের যারা ঋণখেলাপি তাদের ধরলে তো হবে না, সামগ্রিকভাবে যারা ঋণখেলাপি আছে, তাদের বিরুদ্ধে যদি সরকার সত্যিকারে ব্যবস্থা নেয়, তাহলে আমাদের ব্যাংক খাতের জন্য সুখবর হবে। যদি এ ব্যবস্থা না নেয় তাহলে কিন্তু ভবিষ্যতে দেখা যাবে আজকে পদ্মা ব্যাংকের মতো আগামীতে অন্য একটি ব্যাংক খেলাপি ঋণের ভারে একীভূতকরণের পর্যায়ে চলে গেছে। শুধু পদ্মা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ নয়, বরং যেকোনো ব্যাংকেরই ঋণখেলাপিকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া উচিত। এদের যদি আইনের আওতায় এনে শাস্তির বিধান করা যায়, তাহলে বাকিদের জন্যও এটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
২০১৩ সালে একসঙ্গে নতুন নয়টি ব্যাংক অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তখন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় এ ব্যাংকগুলোর লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংককে লাইসেন্স দেয়ার সুযোগ আছে কিনা।
আসলে আমাদের দেশে কিছু ব্যাংক হয়েছে অর্থনৈতিক কারণে এবং কিছু ব্যাংক সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। এটি রাজনৈতিক-অর্থনীতির একটি বিষয়। যখন আপনি কাউকে রাজনৈতিকভাবে কোনো সুযোগ দিতে না পারবেন অর্থাৎ মন্ত্রী, এমপি বানাতে পারবেন না, তখন তাকে সুবিধা বণ্টনের প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাংক ও বীমার লাইসেন্স দেবেন। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন, ‘আমাকে লাইসেন্স দিতে হলো।’ এর অর্থ, তখন ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল। আর অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে যে লাইসেন্স দেয়া হয়নি, সেটা তার বক্তব্যেই স্পষ্ট। যারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হন, তারা সরকারকে লাইসেন্স প্রদানের বিষয়ে না বলবেন, এ ধরনের সক্ষমতা তাদের আছে কিনা সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
আমরা এর আগে দেখেছি, বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও শিল্প ঋণ সংস্থা একীভূত হয়ে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক হয়েছে। এ একীভূতকরণ ব্যর্থ হিসেবেই রয়েছে। কারণ এ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অনেক বেশি। এক্সিম ও পদ্মা ব্যাংকের একীভূতকরণ কতটুকু সফল হবে?
বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও শিল্প ঋণ সংস্থা একীভূত করে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক হয়েছে। এ দুই প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল বেশি। সরকার তখন চিন্তা করেছে, যেহেতু দুটিই সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং তাদের উদ্দেশ্য শিল্প খাতে ঋণ দেয়া, তাই দুটি প্রতিষ্ঠান না থেকে একটি প্রতিষ্ঠান হোক। সে কারণেই সরকার বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকটি করেছে। ২০২৩ সালের তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তাদের খেলাপি ঋণ ৪২ শতাংশের ওপরে। এর অর্থ, ব্যাংকটি একটি দুর্বল ব্যাংক। সেই হিসেবে বিবেচনা করলে একীভূতকরণের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। তবে এখানে মনে রাখতে হবে, ওই দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল। সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোভাব, তাদের দক্ষতা এবং প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে যাওয়ার মানসিকতা বেসরকারি ব্যাংকের তুলনায় ভিন্ন। দেশের সরকারি ব্যাংকের চেয়ে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মদক্ষতা বেশি। সুতরাং সরকারি ব্যাংক ও বেসরকারি ব্যাংক অধিগ্রহণের মধ্যে সরাসরি তুলনা করা যাবে না। তবে আশা করা যায়, দুটি বেসরকারি ব্যাংকের একীভূতকরণ দুটি সরকারি ব্যাংকের একীভূতকরণের চেয়ে কার্যকর হবে।
দেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি ৬১টি ব্যাংক রয়েছে। আমাদের অর্থনীতির আকার বিবেচনায় কতগুলো ব্যাংক দরকার?
জিডিপির আকার বিবেচনায় ব্যাংকের সংখ্যা কেমন হওয়া দরকার—এর আসলে সঠিক কোনো পরিমাপ নেই। দেশে ব্যাংকের সংখ্যা ৬১। একই সঙ্গে দেশে প্রচুর মানুষ আছে যারা ব্যাংক নেটওয়ার্কের বাইরে। তাই ব্যাংকের সংখ্যা দিয়ে গ্রাহকসেবার প্রসার বিবেচনা করা যাবে না। কারণ বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা এর সেবার পরিসরকে যৌক্তিক পর্যায়ে নিতে পারেনি।
সরকারি ব্যাংকের যে উপস্থিতি, যেমন ইউনিয়ন পর্যায়েও তাদের শাখা রয়েছে, বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত। ভারতের একটি ব্যাংকের সম্পদ ও বিভিন্ন রাজ্যে পরিচালনা করার সক্ষমতা বাংলাদেশের অনেকগুলো ব্যাংকের চেয়েও বেশি। তাই বাংলাদেশে শক্তিশালী ২০টি ব্যাংক হলেই অর্থনীতির জন্য যথেষ্ট। সেক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো অর্থনীতিতে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। ব্যাংক বেশি থাকার কারণে আমাদের দেশের ব্যাংকের মূলধন ভিত্তি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তলানির দিকে। ব্যাংকগুলোর মুনাফা করার সক্ষমতাও কম। আরো লক্ষণীয় যে আমাদের ব্যাংকগুলোর পরিচালনা ব্যয় বেশি হওয়ার কারণে আয়-ব্যয়ের অনুপাত অনেক কম। অর্থনীতির আকার যেহেতু ধীরে ধীরে বাড়ে, তাই ব্যাংকের সংখ্যাও ধীরে ধীরেই বাড়াতে হয়। ব্যাংকের সংখ্যা দ্রুত বাড়লে তাদের মধ্যে অযৌক্তিক প্রতিযোগিতা হয় এবং তাদের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়, যা বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে বর্তমান।










