বাংলাদেশে প্রতি বছর শত শত মেরিন ক্যাডেট প্রশিক্ষণ নিয়ে পাস করলেও তাদের একটি বড় অংশ বছরের পর বছর চাকরির অপেক্ষায় থাকে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ সিফারারদের তীব্র সংকট রয়েছে। তাহলে এ অসমতা কেন? কেন বাংলাদেশের ক্যাডেটরা আন্তর্জাতিক জাহাজে নিয়োগ পাচ্ছেন না, যেখানে ফিলিপাইন, ভারত বা চীন থেকে নিয়োগ অব্যাহত আছে। বিদ্যমান সমস্যার অন্তর্নিহিত কারণ অনুসন্ধান এবং সমাধানের উপায়সহ নাবিক সংগঠনগুলোর আরো কার্যকর অবদান রাখার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করব।
বাংলাদেশী ক্যাডেটদের চাকরি না পাওয়ার পেছনে মূল কারণ
১. ভিসা সমস্যা, কিন্তু কেন শুধুই বাংলাদেশ? এই প্রশ্ন এখন অনেকের। কেন শুধু বাংলাদেশী ক্যাডেটদের ভিসা পেতে সমস্যা হয়, অথচ ভারত বা ফিলিপাইনের ক্যাডেটরা সহজেই বিভিন্ন দেশের শিপিং কোম্পানিতে চাকরি পেয়ে যাচ্ছে?
এর পেছনে কয়েকটি বাস্তব কারণ রয়েছে:
কূটনৈতিক পর্যায়ে উদ্যোগের অভাব: ফিলিপাইন ও ভারতের সরকার তাদের সিফারারদের বৈদেশিক চাকরির জন্য কূটনৈতিক পর্যায়ে চুক্তি করে। তারা নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলভিত্তিক জাহাজ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেখানে সিফারার ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়। বাংলাদেশ সেখানে পিছিয়ে আছে।
দূতাবাসের দুর্বল সমন্বয়: আমাদের অনেক দূতাবাসে মেরিন বা সামুদ্রিক শ্রমবিষয়ক আলাদা কর্মকর্তা নেই। এতে সমস্যা হলে দ্রুত সমাধান হয় না।
ডিপ্লোমেটিক র্যাংকিং ও পাসপোর্ট স্ট্যাটাস: ফিলিপাইন ও ভারতের পাসপোর্ট অনেক দেশে বেশি গ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশী পাসপোর্টের ভিসা-সংক্রান্ত রেকর্ড তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ায় অধিক যাচাই-বাছাই করা হয়।
সুশৃঙ্খল ক্যাডেট রফতানি ব্যবস্থাপনার অভাব: অন্যান্য দেশে একটি সুসংগঠিত ‘সিফারার এক্সপোর্ট মডেল’ আছে। আমাদের দেশে এখনো এটি শুরুর পর্যায়ে।
২. প্রশিক্ষণের মান নিয়ে আস্থার সংকট: অনেক আন্তর্জাতিক কোম্পানি মনে করে বাংলাদেশের মেরিটাইম একাডেমিগুলোর প্রশিক্ষণের মান এখনো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে বেশি ক্যাডেট নিচ্ছে, যা মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
৩. ম্যানিং এজেন্সির স্বল্পতা ও বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগের ঘাটতি: ভারত ও ফিলিপাইনে শত শত অনুমোদিত ম্যানিং এজেন্সি আছে যারা নিয়মিত বিভিন্ন জাহাজ কোম্পানির সঙ্গে কাজ করে। বাংলাদেশের এ সক্ষমতা নেই বললেই চলে। খুব অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সীমিতভাবে কাজ করছে। সরকারের উচিত বাধা সৃষ্টি না করে নিয়োগ সংস্থাগুলোর জন্য প্রণোদনা দেয়া, পাশাপাশি নিশ্চিত করা যে যোগ্য পেশাজীবীরাই এসব সংস্থা পরিচালনা করছেন।
৪. প্র্যাকটিকাল ট্রেনিংয়ের অভাব: প্রশিক্ষণের পর ক্যাডেটদের জন্য ট্রেনিং জাহাজে সমুদ্রে নির্ধারিত সময় অতিবাহিত (Sea Time) নিশ্চিত করার মতো পরিকাঠামো বাংলাদেশে নেই। ফলে তারা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা (real-life experience) দেখাতে ব্যর্থ হয়। সমুদ্র-তীরবর্তী ও উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ‘সিটাইম ব্রিজিং’ বা সাগরে প্রশিক্ষণ সময় পূরণের একটি উপায় হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। নিয়োগ সংস্থাগুলোকে আরো বেশি ক্যাডেট নিয়োগ ও ভবিষ্যৎ কর্মকর্তা গড়ে তুলতে সহায়তার জন্য পুরস্কার ও স্বীকৃতিস্বরূপ প্রণোদনা দেয়া যেতে পারে। ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো প্রশিক্ষণার্থীদের সিটাইম চাহিদা পূরণের জন্য ক্রু প্রণোদনা সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে।
সিফারার্স ইউনিয়নের সম্ভাব্য ভূমিকা: বাংলাদেশী মেরিন ক্যাডেটদের বেকারত্ব নিরসনে সিফারার্স ইউনিয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারি নীতি পরিবর্তনের জন্য যেমন চাপ প্রয়োজন, তেমনি মাঠ পর্যায়ে বাস্তব উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধানের পথও খুলে দেয়া সম্ভব। নিচে তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য করণীয় তুলে ধরা হলো:
১. নিজস্ব ম্যানিং এজেন্সি প্রতিষ্ঠা: সিফারার্স ইউনিয়ন চাইলে একটি স্বচ্ছ, সরকারি অনুমোদিত ম্যানিং এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করতে পারে, যা সরাসরি বাংলাদেশী ক্যাডেটদের বিদেশী শিপিং কোম্পানির সঙ্গে সংযুক্ত করবে। বর্তমানে বাজারে অধিকাংশ ম্যানিং এজেন্সি ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং অনেক সময় অভিযোগ ওঠে তারা আর্থিকভাবে দুর্বল অবস্থানে থাকা ক্যাডেটদের সুযোগ দিতে অনাগ্রহী বা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নিয়োগের চেষ্টা করে। কিন্তু ইউনিয়নের অধীনে পরিচালিত একটি অলাভজনক, ট্রাস্টভিত্তিক এজেন্সি থাকলে সেখানে ক্যাডেটদের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকবে এবং বিদেশী কোম্পানিগুলোর কাছে এটি বেশি বিশ্বাসযোগ্য হবে। এতে নিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং আমাদের ক্যাডেটদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল প্লাটফর্ম তৈরি হবে।
২. দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ ও রেটিং স্কিম চালু করা: ক্যাডেটদের চাকরির উপযোগী করে তুলতে ইউনিয়ন নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্স, ওয়ার্কশপ ও সেমিনার আয়োজন করতে পারে। যেমন ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, ইন্টারভিউ প্রস্তুতি, ডকুমেন্টেশন প্রসেসিং ও আন্তর্জাতিক মেরিটাইম আইন বিষয়ে শর্ট কোর্স চালু করা যেতে পারে। এসব কোর্স যদি আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডে তৈরি করা হয় এবং পরিচিত সার্টিফিকেশন সংস্থার অনুমোদন থাকে তাহলে ক্যাডেটদের প্রোফাইল আরো গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে। ইউনিয়ন এসব কোর্সে সাবসিডিও দিতে পারে, যাতে সবার অংশগ্রহণ সম্ভব হয়।
৩. কূটনৈতিক লবিং ও দূতাবাস পর্যায়ে চাপ সৃষ্টি: সরকারের একার পক্ষে সব কূটনৈতিক বাধা অতিক্রম করা সবসময় সহজ নয়। এখানে ইউনিয়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তারা চাইলে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশী দূতাবাসগুলোর সঙ্গে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে যেসব দূতাবাস মেরিন ভিসা ইস্যু করে সেখানে নিয়মিত লবিং করে বাংলাদেশের সিফারারদের ভিসা প্রক্রিয়াকে সহজ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা যেতে পারে। এমনকি বিদেশী শিপিং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দূতাবাসের মাধ্যমে আলোচনা এগিয়ে নিতে ইউনিয়ন প্রতিনিধি দল পাঠাতে পারে।
৪. প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের জন্য আন্তর্জাতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই: ক্যাডেটদের চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো সি টাইম (সমুদ্রে নির্ধারিত সময় অতিবাহিত করা) না থাকা। ইউনিয়ন চাইলে আন্তর্জাতিক কিছু শিপিং কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে এমওইউ সই করতে পারে, যার মাধ্যমে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্টসংখ্যক ক্যাডেটকে তাদের জাহাজে ট্রেনিংয়ের সুযোগ দেয়া হবে। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এসব কোম্পানিকে আশ্বস্ত করা যেতে পারে যে তারা যেসব ক্যাডেট পাঠাবে, তারা স্কিলড ও নীতিগতভাবে যোগ্য। এতে ক্যাডেটরা চাকরির জন্য দরকারি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে।
৫. ডিজিটাল ডাটাবেজ ও জব প্লাটফর্ম তৈরি করা: সিফারার্স ইউনিয়নের অধীনে একটি আধুনিক, ইউজার-ফ্রেন্ডলি অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরি করা যেতে পারে, যেখানে পাস করা সব ক্যাডেটের প্রোফাইল, ডকুমেন্টেশন, সি টাইম স্ট্যাটাস এবং যোগাযোগের তথ্য থাকবে। এ প্লাটফর্মে বিদেশী শিপিং কোম্পানিগুলো অ্যাকসেস নিয়ে সরাসরি উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে নিতে পারবে। এতে নিয়োগের গতি বাড়বে, স্বচ্ছতা থাকবে এবং দালাল-নির্ভর প্রক্রিয়া থেকে মুক্তি মিলবে। একই সঙ্গে এ ডাটাবেজ সরকারের নীতিনির্ধারণ ও শ্রমবাজার বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে।
৬. ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট বা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা: এমএলসি ২০০৬ অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়ন সরাসরি সামাজিক কল্যাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারলেও তারা চাইলে জাতীয় সামাজিক কল্যাণ আইনের আওতায় অন্য একটি নিবন্ধিত কল্যাণ সংগঠন তৈরি করে কার্যক্রম পরিচালনা করাতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বাংলাদেশ মেরিটাইম ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অথবা বাংলাদেশ সিফারার ফাউন্ডেশন নামে সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাক্ট, সোসাইটি অ্যাক্ট, ট্রাস্ট অ্যাক্ট অথবা কোম্পানি অ্যাক্টের অধীনে নন-প্রফিট কোম্পানি হিসেবে পরিচালিত হতে পারে। এর মাধ্যমে তারা সিফারারদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানসিক সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিপদগ্রস্তদের জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করা, প্রয়োজন বা আইনি পরামর্শমূলক সেবা প্রদান করতে পারে—যা সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে সিফারারদের কল্যাণ নিশ্চিত করে এবং ইউনিয়নের প্রতি আস্থা বাড়ায়। এ ধরনের সংগঠন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তবে ইউনিয়নের সহায়ক বাহু হিসেবে কাজ করে সদস্যদের জন্য সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ বেশি তৈরি করে। এছাড়া এ কল্যাণমূলক উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে ট্রেড ইউনিয়ন শুধু শ্রম অধিকার নিয়েই নয়, বরং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে—যা সিফারারদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ও সংহতি গড়ে তুলতে সহায়ক হয়। ওই ট্রাস্টের ট্রাস্টি বা বোর্ড মেম্বারদের মধ্যে নাবিক ইউনিয়নের দুজন নির্বাচিত প্রতিনিধি, রিক্রুটিং এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশনের একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি, ট্রেনিং ইনস্টিটিউট অ্যাসোসিয়েশনের একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকতে পারে, যা প্রতিষ্ঠানটিকে অংশগ্রহণমূলক এবং নাবিকদের অধিকার ও সেবা প্রদানের অধিকতর যোগ্য করে তুলবে। নটিক্যাল ইনস্টিটিউট, IMarEST, মেরিন সার্ভেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন কিংবা সোসাইটি অব মাস্টার ম্যারিনার্সের পক্ষ থেকেও একজন করে প্রতিনিধি বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন।
৭. মেরিটাইম এমপ্লয়মেন্ট স্ট্র্যাটেজি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়: ওপরে যে ট্রাস্ট বা ফাউন্ডেশনের কথা বলা হয়েছে, তারা দীর্ঘমেয়াদি মেরিটাইম এমপ্লয়মেন্ট স্ট্র্যাটেজি প্রণয়ন করবে, বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন এবং সরকারের সঙ্গে মিলে এটা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এ ট্রাস্ট বা ফাউন্ডেশন নাবিকদের প্রফেশনাল কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট, অধিকার এবং কল্যাণে কতগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করবে, যার মধ্যে থাকবে দেশের বিভিন্ন জেলায় মেরিনার্স হাউজিং প্রজেক্ট, মেরিনার্স হেলথ কেয়ার সেন্টার বা হসপিটাল, একটি মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বিদ্যমান মেরিন একাডেমিগুলোতে গবেষণার ও বৃত্তির সুযোগ তৈরি করা, মিলিটারি এবং আনসারদের মতো একটি মেরিনার ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা, মেরিনারদের জন্য একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, বেনভোলেন্ট এবং পেনশন ফান্ডের মতো কল্যাণ তহবিল প্রতিষ্ঠা করা।
বাংলাদেশী মেরিন ক্যাডেটদের বেকারত্ব কোনো একক সমস্যার ফল নয়—এটি একটি সমন্বয়হীন কাঠামো, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ দুর্বলতা, প্রশিক্ষণের মান নিয়ে সংশয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের অভাবের সম্মিলিত ফলাফল। তবে এ সংকট সমাধান সম্ভব, যদি সঠিক নীতিমালা, কার্যকর সংগঠন এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা একসঙ্গ বাস্তবায়িত হয়। সিফারার্স ইউনিয়নের নেতৃত্বে একটি স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও কল্যাণমুখী প্লাটফর্ম তৈরি করা গেলে, তা শুধু ক্যাডেটদের কর্মসংস্থানেই সহায়তা করবে না, বরং দেশের সামগ্রিক মেরিটাইম সেক্টরকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাবে। এখন সময়—সমুদ্রের সুযোগকে তীরের বাস্তবতায় রূপ দেয়ার।
ড. রেজাউল করিম চৌধুরী: ক্যাপ্টেন, মেরিটাইম পরামর্শদাতা, আইনজীবী; ফ্যাকাল্টি ইউনিভার্সিটি টেরেংগানু, মালয়েশিয়া
কাজী মো. আবু সাইদ: মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ও মেরিটাইম পলিসি গবেষক










