কিন্তু এ অগ্রগতির আড়ালে একটি গভীর ও বহুমাত্রিক সংকট ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে—শিক্ষিত বেকারত্ব ও কর্মবিমুখ সামাজিক মানসিকতা। বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী ডিগ্রি অর্জন করেও কর্মজীবনে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারছে না। এর অন্যতম কারণ শুধু কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা নয়; বরং ‘কোন কাজ সম্মানজনক’ এবং ‘কোন কাজ শিক্ষিত মানুষের জন্য উপযুক্ত’ এ ভুল সামাজিক ধারণা। আমাদের সমাজে এখনো অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারিক, সেবাধর্মী বা উদ্যোক্তামূলক কাজকে নিচু চোখে দেখা হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা ছোট থেকে এমন এক মানসিকতায় গড়ে ওঠে, যেখানে তারা কাজকে মর্যাদার ভিত্তিতে বিভক্ত করে। এ দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন ছাড়া শিক্ষিত বেকারত্ব সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই প্রয়োজন উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায় বাধ্যতামূলক কর্মভিত্তিক কোর্স চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা, আত্মনির্ভরতা এবং ইতিবাচক কর্মসংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে মানসিকতায় পরিবর্তন আনা।
পৃথিবীর অধিকাংশ সফল উদ্যোক্তা তাদের যাত্রা শুরু করেছেন ছোট ও সাধারণ কাজের মধ্য দিয়ে। শুরুতে কঠোর পরিশ্রম, সীমিত পরিসরে কাজ করা এবং নিজ হাতে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করা ছাড়া বড় হওয়ার বিকল্প নেই। কিন্তু আমাদের শিক্ষিত তরুণদের বড় একটি অংশ সামাজিক সংকোচ, পারিবারিক চাপ এবং মান রক্ষার মানসিকতার কারণে এসব কাজে যুক্ত হতে চায় না। ফলে তারা দীর্ঘদিন বেকার থেকে গেলেও ছোট উদ্যোগ বা স্বনির্ভর পেশায় প্রবেশ করতে অনাগ্রহী থাকে। এখানে একটি বড় বৈপরীত্যও স্পষ্টভাবে লক্ষণীয়। দেশের বহু শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা শেষে বিদেশে গিয়ে রেস্টুরেন্ট, সুপারশপ, ডেলিভারি সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা, ফ্যাক্টরি কিংবা অন্যান্য সেবামূলক কাজে যুক্ত হতে কোনো দ্বিধা বোধ করে না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য কাজও তারা নিষ্ঠার সঙ্গে করে থাকে। কিন্তু সে একই ব্যক্তি নিজ দেশে এ ধরনের কাজকে ‘সম্মানজনক নয়’ বলে এড়িয়ে চলে। এ দ্বৈত মানসিকতার মূল কারণ সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে বাধ্যতামূলক কর্মভিত্তিক কোর্স চালু করা একটি যুগোপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে। এটি কোনো সহায়ক বা ঐচ্ছিক কার্যক্রম নয়; বরং প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক কোর্স হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রয়োজন। যেমন ইংরেজি, গণিত বা অন্যান্য বিষয়ের নির্দিষ্ট সিলেবাস, ক্রেডিট এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি থাকে, তেমনি এ কোর্সেরও সুস্পষ্ট কাঠামো থাকতে হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হবে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের কাজের সঙ্গে পরিচিত করা, আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তোলা এবং কোনো কাজই ছোট নয় মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠিত করা।
এ কোর্সের আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নির্দিষ্ট সময়, যেমন ৫০০-১০০০ ঘণ্টা বিভিন্ন বাস্তবমুখী কাজে সম্পৃক্ত থাকতে হতে পারে। কাজের ক্ষেত্র হতে পারে ক্যাম্পাসভিত্তিক, একাডেমিক কিংবা বহিঃপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি, ক্যান্টিন, আইটি সাপোর্ট, ল্যাব ম্যানেজমেন্ট, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ক্যাম্পাস নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে এবং ক্যাম্পাসভিত্তিক এসব কাজে সম্ভব হলে প্রয়োজনের শতভাগ অথবা ন্যূনতম ৫০ শতাংশ জনবল শিক্ষার্থীদের মধ্য হতে নেয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন সেবামূলক কাজ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ফ্যাক্টরি, রেস্টুরেন্ট, সুপারশপ, ডেলিভারি সার্ভিস, স্টার্টআপ কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পার্ট টাইম কাজও এ কোর্সের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষার্থীদের ঘণ্টাভিত্তিক পার্ট টাইম কাজের সুযোগ রয়েছে এ ধরনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরপূর্বক শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ বাড়ানো যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা খরচ মেটানোর জন্য আয়ের পথও সুগম করতে সক্ষম হবে।
২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতা গণ-অভ্যুত্থানের পর সড়ক ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে তরুণ প্রজন্ম সঠিক সুযোগ পেলে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারে। এ অভিজ্ঞতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া সম্ভব। কর্মভিত্তিক শিক্ষাক্রমের অংশ হিসেবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক সহায়তা ও জাতীয় ইভেন্ট ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক নয়, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তামূলক কার্যক্রমেও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা জরুরি, যেমন ফ্রিল্যান্সিং, টিউটরিং, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, হোমমেড ব্যবসা, ক্যাম্পাসভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবসা ইত্যাদি। এতে শিক্ষার্থীরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে এবং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে। বিশেষভাবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ ধরনের কাজে সম্পৃক্ত করা গেলে সমাজে একটি শক্তিশালী বার্তা যাবে যে বাস্তবমুখী কাজ কোনো দুর্বল বা অযোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য নয়; বরং এটি দায়িত্বশীল ও সফল শিক্ষার্থীদেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এ উদ্যোগের অন্যতম বড় সামাজিক প্রভাব হবে মানসিকতার পরিবর্তন। যখন উচ্চবিত্ত পরিবারের ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বাস্তবমুখী কাজে যুক্ত হতে দেখা যাবে, তখন সমাজ ধীরে ধীরে উপলব্ধি করবে যে কোনো কাজই ছোট নয়, বরং কাজের মর্যাদা নির্ভর করে দায়িত্ববোধ ও সততার ওপর। ফলে ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ এ মানসিকতার প্রভাব কমতে শুরু করবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে যে সামাজিক সংকোচ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে, তা অনেকাংশে দূর হবে। বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের শিক্ষিত বেকারদের বড় অংশই মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসে। তারা অনেক সময় নিজের সামর্থ্যরে চেয়ে সামাজিক মর্যাদাকে বেশি গুরুত্ব দেয় এবং অপেক্ষাকৃত ছোট বা ব্যবহারিক কাজ এড়িয়ে চলে। ফলে দীর্ঘ সময় বেকারত্বের মধ্যে থেকেও তারা আত্মনির্ভর হওয়ার পথ খুঁজে পায় না।
এ প্রোগ্রাম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে একটি সুসংগঠিত প্রশাসনিক কাঠামো প্রয়োজন। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘স্টুডেন্ট ওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইভালুয়েশন সেন্টার’ অথবা ‘কর্ম ও দক্ষতা উন্নয়ন সেল’ অথবা অন্য যেকোনো নামে পৃথক ইউনিট গঠন করা যেতে পারে। এ ইউনিট শিক্ষার্থীদের কাজ বরাদ্দ, তদারকি, মূল্যায়ন ও পারফরম্যান্স রিভিউয়ের দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একজন সুপারভাইজার থাকবে, যিনি তার সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ, কাজের মান ও আচরণ মূল্যায়ন করবেন। কাজের অভিজ্ঞতাকে একাডেমিক ক্রেডিট হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে; যেমন নির্দিষ্টসংখ্যক ঘণ্টা কাজের জন্য নির্দিষ্ট ক্রেডিট প্রদান এবং তা ট্রান্সক্রিপ্টে উল্লেখ করা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ঘণ্টাভিত্তিক সম্মানী বা স্টাইপেন্ড চালু করা হলে তারা আরো উৎসাহী এবং আর্থিকভাবেও উপকৃত হবে।
প্রথম পর্যায়ে এ উদ্যোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং দেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা যেতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরীক্ষায় অর্জিত ফলাফলকে গুরুত্ব দিয়ে তার ক্রম অনুযায়ী ধাপে ধাপে সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যেতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীরা যখন বাস্তবমুখী কাজে ইতিবাচকভাবে সম্পৃক্ত হবে, তখন অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ মডেল অনুসরণে আগ্রহী হবে বলে আশা করা যায়।
একই সঙ্গে পাঠ্যক্রমে ‘কর্মের মর্যাদা ও কর্মসংস্কৃতি’ শীর্ষক একটি তাত্ত্বিক কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। সেখানে সফল উদ্যোক্তা, স্বনির্ভর ব্যক্তি এবং ছোট উদ্যোগ থেকে বড় হওয়া মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পরিশ্রমের মর্যাদার ওপর আলোকপাত করা যেতে পারে। সেমিনার, কর্মশালা, ডকুমেন্টারি, টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে ‘কোনো কাজই ছোট নয়’ এ বার্তাকে সমাজে ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন। ‘স্টুডেন্ট ওয়ার্কার অ্যাওয়ার্ড’ বা ‘স্বনির্ভর শিক্ষার্থী সম্মাননা’ চালু করলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং সমাজে বাস্তবমুখী কাজের প্রতি সম্মান বাড়বে। এক্ষত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও যথাযথ উদ্যোগ নেয়া জরুরি। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত দুর্বলতা লক্ষণীয়—অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ধীরে ধীরে শিক্ষিত বেকার তৈরি করার কাঠামোয় পরিণত হচ্ছে। জ্ঞান ও দক্ষতাভিত্তিক সুনাগরিক গঠনের পরিবর্তে এগুলো অধিকাংশ সময় পরীক্ষানির্ভর শিক্ষার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। অতিরিক্ত বইভিত্তিক চাপ থাকলেও বাস্তব কাজ, পরিশ্রমের মর্যাদা ও ইতিবাচক কর্মসংস্কৃতি গঠনের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। তাই শিক্ষাক্রম পুনর্গঠন জরুরি, যেখানে শুধু ফলাফল নয়, বরং কর্মের প্রতি আগ্রহ, বাস্তব দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশকেও সমান গুরুত্ব দেয়া হবে।
এক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষক ও গণমাধ্যমের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই পারিবারিকভাবে শিশুদের কাজে যুক্ত করা হলে তারা শিখবে যেকোনো কাজই ছোট নয় এবং প্রতিটি কাজই মর্যাদাপূর্ণ। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা অর্জনে অনুপ্রাণিত করতে পারেন। গণমাধ্যমও ইতিবাচক কর্মসংস্কৃতি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ অবশ্যই থাকবে। অনেকেই মনে করতে পারেন এতে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে বা তাদের একাডেমিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, সীমিত কর্মঘণ্টা, নমনীয় সময়সূচি ও শিক্ষার্থীর সক্ষমতা অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে এ সমস্যাগুলো সহজেই সমাধান করা সম্ভব। বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, সময় ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়াবে, যা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
উপসংহারে বলা যায়, শিক্ষিত বেকারত্ব দূর করার জন্য শুধু চাকরির সংখ্যা বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। বরং প্রয়োজন কর্মকে মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখার মানসিকতা গড়ে তোলা এবং বাস্তবমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছেন, যা প্রশংসনীয়। তবে উচ্চ শিক্ষায় বাধ্যতামূলক কর্মভিত্তিক কার্যক্রম যুক্ত করা গেলে শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হয়ে উঠবে। বিদেশে গিয়ে যে শ্রমভিত্তিক কাজ করতে তারা সংকোচ বোধ করে না, সে কাজ নিজ দেশেও মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে করার মানসিকতা গড়ে উঠবে। এর মাধ্যমে দেশে ইতিবাচক কর্মসংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে, শিক্ষিত বেকারত্ব কমবে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে। সবশেষে বলা যায় যদি সমাজে সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে হয়, তবে আমাদের তরুণদের শেখাতে হবে কোনো কাজই ছোট নয়। এ মানসিকতা গড়ে উঠলে একটি আত্মনির্ভর, দক্ষ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।
মো. নুরুল আলম: পরিচালক, চট্টগ্রাম অফিস, বাংলাদেশ ব্যাংক










