এআইয়ের আর্থিক লাভ হাতেগোনা কিছু প্রতিষ্ঠান পেলেও কর্মসংস্থান হারানো ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। এ বৈষম্য দূর করার প্রধান হাতিয়ার কর ব্যবস্থা। উন্নত দেশগুলো এআইয়ের প্রভাবে উদ্ভূত সামাজিক সংকট নিয়ে চিন্তিত। আর অনুদান কমায় উন্নয়নশীল বিশ্ব ট্যাক্স হেভেন ও বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থার কর ফাঁকি বন্ধ করে রাজস্ব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ভৌগোলিক সীমানার ভেতর উৎপাদন করে এখন ব্যবসা করতে হয় এমন না। দূরবর্তী স্থানের মেধা বা সম্পদ ব্যবহার করা যায়। অনেক বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লাভজনক মেধাসম্পদ কর স্বর্গে স্থানান্তরের মাধ্যমে সর্বনিম্ন কর পরিশোধের সুবিধা নিচ্ছে। তাই জাতিসংঘে নতুন আন্তর্জাতিক কর চুক্তির আলোচনা চলছে।

এআই প্রতিষ্ঠান থেকে রাজস্ব আদায়ের সাময়িক উপায় হিসেবে বিশ্বের ২০টির বেশি দেশ ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স’ (ডিএসটি) চালু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এর বিরুদ্ধে বাণিজ্য শুল্কের হুমকি দিলেও ডিএসটি নীতি প্রতিষ্ঠা করেছে কোনো কোম্পানির যেখানেই ব্যবহারকারী আছে সেখানেই কর দিতে হবে। এআই-চালিত মুনাফা যদি এ পুরনো কাঠামোর সুযোগ নেয়, তবে বিগ টেকের ক্ষমতা আরো বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ নতুন প্রযুক্তির বৈধতাকেই সংকটে ফেলবে। তাই প্রযুক্তি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক করনীতি সংস্কারই এখন মূল যুদ্ধক্ষেত্র।

[প্রজেক্ট সিন্ডিকেট থেকে সংক্ষেপিত]

জোরকা মিলিন: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুপক্ষীয় জোট ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড করপোরেট ট্রান্সপারেন্সির (ফ্যাক্ট) সহপরিচালক