কিন্তু আমার কাছে এ দৃষ্টিভঙ্গি অসম্পূর্ণ। কারণ মানুষ শুধু ভোক্তা নয়, উৎপাদকও। কাজের মধ্য দিয়েই মানুষ মর্যাদা, পরিচয়, সামাজিক স্বীকৃতি ও জীবনের অর্থ খুঁজে পায়। তাই একটি ভালো চাকরি হারানোর ক্ষতি কেবল আয় কমে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর সামাজিক ও মানসিক অভিঘাতও গভীর।
ভোক্তাকেন্দ্রিক ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক—এ দুই দৃষ্টিভঙ্গি নীতিনির্ধারণে ভিন্ন পথ দেখায়। যেমন দীর্ঘমেয়াদি সেবা খাতে অনেকে শ্রমিক সংকটের কথা বলেন, যাতে প্রবীণরা কম খরচে সেবা পান। কিন্তু আমি মনে করি, মূল সমস্যা শ্রমিকের অভাব নয়; বরং ভালো চাকরির অভাব। যদি এ খাতে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় কর্মপরিবেশ তৈরি করা যায়, তবে শ্রমিকও আসবে, সেবার সরবরাহও বাড়বে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। শুধু সস্তা আমদানির ওপর নির্ভর করলে ব্যয় কমতে পারে, কিন্তু দেশীয় কর্মসংস্থান বাড়ে না। আবার আবাসন খাতে নিয়মকানুন শিথিল করলে নির্মাণ দ্রুত হতে পারে, কিন্তু কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই কিছু দক্ষতা বিসর্জন দিয়েও যদি নিরাপদ ও মানসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, সেটি বিবেচনায় রাখা উচিত।
ড্যানি রডরিক: হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অর্থনীতির অধ্যাপক এবং ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট










