একবার জ্বালানি ভরলে গাড়ি চলবে পাক্কা এক হাজার কিলোমিটার! এমন প্রযুক্তির সুপারকারই বানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হাইপারিওন। এক্সপি-১ মডেলের এই গাড়ি চলবে হাইড্রোজেন এবং বিদ্যুচ্চালিত মোটরে যা উৎপাদন করতে সক্ষম ১০০০ অশ্বশক্তির ক্ষমতা। কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই গাড়িতে ঘণ্টায় শূন্য থেকে ৬০ কিলোমিটার গতি তোলা সম্ভব মাত্র দুই সেকেন্ডে।
হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল কারটি মূলত বিদ্যুচ্চালিত। এ প্রযুক্তিতে কারে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় ঘনীভূত হাইড্রোজেন। যেখানে বৈদ্যুতিক কারের শক্তির একমাত্র উৎস ব্যাটারি।
নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হাইপারিওন জানিয়েছে, তাদের একপি-১ কার কিন্তু সরাসরি হাইড্রোজেন পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদন করে এমন নয়। বরং এর ফুয়েল সেলে থাকা হাইড্রোজেন বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়ায় তৈরি করে পানি। ফলে এই গাড়ি থেকে কোনো গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গত হয় না। আর এই বিক্রিয়া থেকে উৎপাদিন বিদ্যুতে চলবে গাড়ির মোটর। তবে এতে থাকবে ছোট একটি বাফার ব্যাটারি।
এই এক্সপি-১ গাড়িটি প্রচলিত ব্যাটারি চালিত গাড়ির চেয়ে বেশি দূরত্বে চলতে পারবে। কারণ ঘনীভূত হাইড্রোজেন প্রতিলিটারে ব্যাটারির চাইতে বহুগুণ বেশি অশ্বশক্তির ক্ষমতা উৎপাদনে সক্ষম। হাইপারিওনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যাঞ্জেলো কাফান্তারিস এ ধরনের তথ্যই দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, হাইড্রোজেন গ্যাস খুব হালকা। ফলে গাড়িতে ভারী ব্যাটারি ভরতে হচ্ছে না বিধায় সামগ্রিকভাবে গাড়ির ওজন অনেক কমে আসবে। এই কারণে গাড়ি আরো বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী হবে, একই পরিমান জ্বালানিতে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারবে এবং গতিও হবে বেশি।
হোন্ডা, টয়োটা, হুন্দাই এবং জেনারেল মোটরসের মতো বিশ্বের বৃহৎ অটোমোবাইল কোম্পানিগুলো বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির পাশাপাশি হাইড্রোজেন চালিত গাড়িও বানানোর চেষ্টা করছে। তারা এরই মধ্যে গবেষণার খাতিরে কিছু প্রটোটাইপ বানিয়েছে বা খুব ক্ষুদ্র পরিসরে বিক্রিও করেছে।
কাফান্তারিস জানান, তারা এরই মধ্যে কয়েকটি প্রোটোটাইট বানিয়েছেন, যেগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। আগামী বছরের শেষ নাগাদ গ্রাহকের হাতে তুলে দিতে পারবেন বলে আশা করছেন। তবে দাম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেননি কাফান্তারিস। তিনি বলেছেন, এটি নির্ভর করবে গাড়ির ধরনের ওপর। তবে হাজার অশ্বশক্তি ক্ষমতার গাড়ির দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, হাইপারিওন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সঙ্গে বহুদিন ধরে একাধিক প্রকল্পে কাজ করছে। মূলত হাইড্রোজেন প্রযুক্তি নিয়েই তাদের কাজ।
সিএনএন অবলম্বনে










