তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত স্যালদা হ্রদ। সবুজ-নীল জল ও সাদা বালির সৈকতের জন্য এটিকে অনেকেই ‘তুরস্কের মালদ্বীপ’ বলে উল্লেখ করা হয়। তবে এ হৃদ শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত নয়। এটি বৈজ্ঞানিকভাবে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, স্যালদা হ্রদ পৃথিবীর একমাত্র স্থান, যা মঙ্গল গ্রহের জেজেরো ক্রেটারের সঙ্গে তুলনীয়। তাদের মতে, এর ভূমি, জীববৈচিত্র্য এবং ভূতত্ত্বের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা মঙ্গলের বৈশ্বিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে খুঁজে বের করতে সাহায্য করবে।
২০১৯ সালে, পিউরডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞান, পরিবেশ ও গ্রহ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ব্রায়নি হর্গান নাসার পার্সিভারেন্স রোভার দলের সঙ্গে তুরস্কে স্যালদা হ্রদের গবেষণার জন্য সফর করেছিলেন।
তিনি বলেন, এটি সত্যিই একটি অবিশ্বাস্যভাবে অনন্য স্থান। অনেক দিক থেকে, এটি আসলেই মঙ্গল গ্রহের প্রাচীন হ্রদ জেজেরোর তীরে দাঁড়িয়ে থাকার মতো অনুভূত হয়েছিল।
ব্রায়নি হর্গানের মতে, সালদার খনিজ উপাদান ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রন সমৃদ্ধ শিলা মঙ্গলের প্রাচীন ভূ-পৃষ্ঠের অনুরূপ। হ্রদের তলদেশে সৃষ্ট মাইক্রোবিয়ালাইট (অণুজীব দ্বারা গঠিত পাথর) প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়।
স্পেস এক্সপ্লোরেশনে ‘প্ল্যানেটারি অ্যানালগ’ বলতে এমন কোনো স্থানকে বোঝানো হয় যা পৃথিবীতে মঙ্গলের বা অন্য কোনো গ্রহের বা উপগ্রহের মতো হতে পারে।
হর্গান জানান, মঙ্গল গ্রহের পরিবেশের সঙ্গে তুলনা করার জন্য স্যালদা হ্রদ অত্যন্ত উপযুক্ত কারণ এর গঠনটি পৃথিবীর আভ্যন্তরীণ স্তরের মতো, যা মঙ্গল গ্রহের পরিবেশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
স্যালদা হ্রদের পানিতে থাকা মাইক্রোবিয়াল স্ট্রাকচারগুলো অন্তত ২ মিলিয়ন বছরের পুরনো। এই স্ট্রাকচারগুলো এখন হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়ার ফলে উন্মুক্ত হয়ে গেছে। এ স্ট্রাকচারগুলো ক্যালসিয়াম কার্বনেটের মতো দেখতে। এই পাথরের মতো গঠন পৃথিবীতে জীবনের উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করতে পারে।
তুরস্কের ইস্তাম্বুল টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক নুরগুল বালজির মতে, স্যালদা আমাদের সেই সমস্ত তথ্য প্রদান করতে পারে যা ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন বছর আগে জীবনের উৎপত্তি এবং বিবর্তন সম্পর্কে ধারণা দেয়।
স্যালদা হ্রদ বর্তমানে পরিবেশগত হুমকির মুখে রয়েছে। জলস্তরের পতন এবং দূষণের কারণে এটি তার জীববৈচিত্র্য এবং সৌন্দর্য হারাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে স্যালদা হ্রদকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য আরো সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।
তুরস্কের পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞ এরোল কেসিজির মতে, স্যালদা হ্রদে দূষণ এবং বাঁধ নির্মাণের কারণে এর বাস্তুতন্ত্র, টারকোয়েজ জল এবং স্থানীয় প্রজাতি আস্তে আস্তে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।










