প্রজাপতির উড়ন্ত সৌন্দর্য ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। কীটনাশক, জলবায়ু পরিবর্তন ও আবাসস্থল হারানোর কারণে প্রজাপতির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রজাপতির সংখ্যা ২২ শতাংশ কমে গেছে।
বিজ্ঞানী নিক হাদ্দাদ বলছেন, গত ২০ বছর থেকে প্রজাপতির সংখ্যা শুধু কমছেই। আর এতে কোনো বিরতি নেই।
গবেষণায় উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের লোয়ার ৪৮টি রাজ্যে প্রতি বছর প্রজাপতির সংখ্যা গড়ে ১ দশমিক ৩ শতাংশ হারে কমছে। ১১৪টি জাতের প্রজাপতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আর মাত্র ৯ জাতের প্রজাপতি বেড়েছে।

ছবিতে আগস্ট মাসে শিকাগো পার্ক ডিস্ট্রিক্ট স্টোরহাউসের কাছে একটি পরাগায়নকারী আবাসস্থলে একটি 'রাজ' গোত্রীয় প্রজাপতি দেখা যাচ্ছে।
গবেষকরা ১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন প্রজাপতির সংখ্যা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, 'রাজ' প্রজাপতির অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। ১৯৯৭ সালে যেখানে তাদের সংখ্যা ছিল ১ দশমিক ২ মিলিয়ন, সেখানে বর্তমানে তাদের সংখ্যা নেমে এসেছে ১০ হাজারের নিচে।
কানেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডেভিড ওয়াগনার বলছেন, প্রতি বছর সামান্য হ্রাস মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি ভয়ংকর সংকেত।
এছাড়া প্রজাপতিরা শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, তারা প্রকৃতির ভারসাম্যও রক্ষা করে। এরা পরাগায়নকারী হিসেবে কাজ করে, যা ফসল উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গবেষক অনুরাগ আগরওয়াল বলছেন, প্রজাপতিদের এ সংকট আমাদের আগাম সংকেত দিচ্ছে যে আমাদের মহাদেশের স্বাস্থ্য ভালো নেই।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, কীটনাশকের ব্যবহারই প্রজাপতির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। জলবায়ু পরিবর্তন ও আবাসস্থল ধ্বংসের সঙ্গে মিলিয়ে এ সংকট আরো প্রকট হচ্ছে।
তবে আশার কথা, এ বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব। গবেষক হাদ্দাদ বলছেন, নিজের আশপাশে পরিবেশবান্ধব পরিবর্তন আনলেই প্রজাপতিদের জন্য পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে।
একই সঙ্গে প্রজাপতিদের রক্ষা করা মানে শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাঁচানো নয়। বরং বাস্তুতন্ত্রের সুস্থতা নিশ্চিত করা। এখনই পদক্ষেপ না নিলে, হয়তো আগামী প্রজন্ম আর এই রঙিন সৌন্দর্যের ঝলক দেখতে পাবে না।
—সিএনএন










