প্রচণ্ড গরমে মানুষ যেমন কষ্ট পায়, তেমনি পোষা কুকুরেরও নানা সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে যখন তারা মালিকের সঙ্গে বাইরে যায়, তখন অতিরিক্ত গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে তাদের বেগ পেতে হয়। কারণ কুকুরের শরীর ঠান্ডা করার প্রক্রিয়া ভিন্ন। তাপমাত্রা বেড়ে গেলে তাদের হিটস্ট্রোক হতে পারে। তাছাড়া পায়ের তালু পুড়ে যাওয়ার মতো বিপদ হতে পারে। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে গরমেও কুকুরকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।
কুকুরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ভিন্ন
মানুষের মতো কুকুর ঘাম ঝরিয়ে শরীর ঠান্ডা করতে পারে না। তারা মূলত হাঁফিয়ে মুখ দিয়ে লালা ঝরানোর মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। তবে যেসব কুকুরের মুখ ছোট বা চ্যাপ্টা (যেমন পাগ, বুলডগ, ফ্রেঞ্চ বুলডগ), তাদের হাঁফানোর ক্ষমতা কম। ফলে গরমে তাদের হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি।
অন্যদিকে বিড়াল সাধারণত বাইরে কম যায়, আর গরমে নিজের শরীর রক্ষা করার ক্ষেত্রে তারা তুলনামূলক বেশি পারদর্শী। তবে সূর্যের নিচে বেশি সময় থাকলে তাদেরও ঝুঁকি রয়েছে।
হঠাৎ গরমে সাবধানতা
শীতকালে কুকুরকে বাইরে বের করা কমে আসে। প্রতিদিনকার চলাফেরাও কম হয়। ফলে যখন গরম পড়তে শুরু করে, তখন একটুতেই তারা ক্লান্ত হয়ে যায়। এ অবস্থায় কুকুরের শরীর ফিট না থাকলে তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তনে হতে পারে হিটস্ট্রোক। তাই এ সময় সতর্ক থাকা খুব জরুরি। গ্রীষ্মের শুরু থেকেই পর্যায়ক্রমে তাদের বাইরে বের করা ও হাটতে নেয়া এ ক্ষেত্রে হতে পারে উপযুক্ত সমাধান।
যেসব কুকুরের ঝুঁকি বেশি
ব্রাকিওসেফালিক বা চ্যাপ্টা মুখো কুকুরদের (যেমন পাগ, বুলডগ) গরমে বেশি কষ্ট হয়। কারণ তাদের মুখ ছোট ও শ্বাসনালি সরু হওয়ায় শ্বাসপ্রশ্বাস তুলনামূলক নাজুক। ফলে তারা সহজে শরীর ঠান্ডা করতে পারে না। আর যেসব কুকুর অতিরিক্ত মোটা বা ওষুধ সেবন করে, তাদেরও গরম সহ্য করার ক্ষমতা কম হয়ে থাকে।
লোম কাটার ক্ষেত্রে সতর্কতা
অনেকেই গরমে কুকুরের লোম কেটে ফেলেন। কিন্তু সব কুকুরের জন্য তা ঠিক নয়। যেমন হাশকি বা মালামিউটের মতো ডাবল কোটযুক্ত (দুই স্তরের লোম) কুকুরদের ক্ষেত্রে লোম আসলে শরীর ঠান্ডা রাখতেও সাহায্য করে। ভুলভাবে লোম কেটে দিলে গরমে তাদের আরো বেশি অসুবিধা হতে পারে। বরং লোম নিয়মিত আঁচড়ে দেয়া যেতে পারে। এতে লোমের জট খুলে যাবে এবং হাওয়া চলাচল সহজ হবে। ফলে কুকুর স্বস্তি পাবে।

গরমের সময় সকাল ও সন্ধ্যার দিকে হাটতে বের হওয়ার উপযুক্ত সময়, ছবি: ফ্রিপিক
বাইরে নেয়ার উপযুক্ত সময়
গরমের সময় কুকুরকে সকাল বা সন্ধ্যায় হাঁটতে নিয়ে যাওয়াই ভালো। দুপুরে যখন রোদ ও গরম দুই-ই বেশি থাকে, তখন বাইরে নেয়া বিপজ্জনক হতে পারে। তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে এবং আর্দ্রতা ৬৫ শতাংশের বেশি হলে কুকুর সহজে শরীর ঠান্ডা করতে পারে না।
কোনোভাবেই কুকুরকে গাড়ির ভেতর, সানরুম বা বন্ধ কক্ষের মধ্যে রেখে যাওয়া যাবে না। এমনকি ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়ও ১০ মিনিটে গাড়ির ভেতর ১১ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
পানির ব্যবস্থা ও ছায়ার খোঁজ
বাইরে গেলে অবশ্যই কুকুরের জন্য পানি সঙ্গে রাখা জরুরি। মাঝেমধ্যে পানি খাওয়ালে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং বাড়ি ফিরে ক্লান্ত থাকার কারণে হঠাৎ বেশি পানি খেয়ে পেট ফোলার ঝুঁকিও কমে যায়। ছায়াযুক্ত জায়গা বেছে নেয়ার পাশাপাশি সরাসরি রোদ যেন গায়ে না লাগে সে দিকেও লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।
পথে হাঁটার সময় রাস্তা গরম কিনা তা পরখ করে দেখা যেতে পারে। তাপমাত্রা খুব বেশি থাকলে কুকুরের পায়ে বিশেষ জুতা পরানো যেতে পারে। তবে ঠিকমতো না পরানো হলে বা আকারের কম বেশি হলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে।
অতিরিক্ত গরমের লক্ষণ
কুকুর যদি সাধারণ হাঁফানোর চেয়ে বেশি হাঁফায় বা নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয় (শোঁ শোঁ শব্দ করে), তাহলে বুঝবেন গরমে সমস্যায় পড়েছে। এমন অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে না পারা, বিভ্রান্ত লাগা বা লালচে মাড়ি দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।
যদি চিকিৎসকের কাছে যেতে সময় লাগে, তাহলে ঠান্ডা পানি ঢেলে শরীর ভেজান এবং পাখার বাতাস দিতে হবে। তবে বরফ ঠান্ডা পানি ঢালা ঠিক হবে না, এতে রক্তনালী সঙ্কুচিত হয়ে শরীর শীতল হতে আরো বেশি সময় লাগতে পারে।
বিবিসি অবলম্বনে










