সমুদ্রের ঢেউয়ে গা ভাসিয়ে সার্ফিং করা কিংবা নীল পানিতে ডুব দিয়ে প্রবাল প্রাচীর দেখা— এসব এখন যেন অনেকটাই নিশ্চিন্ত। কারণ গত বছর থেকেই বিশ্বজুড়ে হাঙরের আক্রমণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে কেন এমনটা ঘটল, তা এখনো রহস্যে ঘেরা।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে মাত্র ৪৭টি অবাঞ্ছিত হাঙরের আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২২টি কম। আর গত এক দশকের গড় হিসেব করলে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৭০টিরও নিচে। তাহলে কি সত্যিই বিপদ কমেছে, নাকি এটা সাময়িক স্বস্তি?
যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটলেও, সেখানেও আগের বছরের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে আক্রমণের সংখ্যা। ফ্লোরিডার সমুদ্র সৈকতে সার্ফিং করতে নেমেও এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত বোধ করেন পর্যটকেরা।
শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, অস্ট্রেলিয়াতেও আক্রমণ কমেছে। দেশটিতে গেল বছরে মাত্র ৯টি হাঙর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। তবে কেউ এতে নিহত হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে—মহাসাগরীয় স্রোতের পরিবর্তন, নির্দিষ্ট এলাকায় মানুষের সংখ্যা ওঠানামা ও পানিতে সতর্কতা বৃদ্ধি।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞ গ্রেগ স্কোমাল হামলার সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে জনসচেতনতা বাড়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, মানুষ এখন বেশি সতর্ক হয়ে সাঁতার কাটছে, গভীর পানিতে যাচ্ছে না।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঙরের হামলার ঝুঁকি এখনো একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই সমুদ্রে নামার আগে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। যেমন— প্রতিফলিত গয়না এড়িয়ে চলা, একা সাঁতার না কাটা ও অতিরিক্ত ছড়াছড়ি না করা।
এদিকে শার্ক গবেষক নিল হ্যামারশ্লাগ মনে করেন, এটি একটি স্বাভাবিক পরিবর্তনশীলতা। তিনি বলেন, আগের চেয়ে এখন বেশি মানুষ সমুদ্রে যায়। তাই আক্রমণের সংখ্যা কমে যেতে পারে। তবে এবারের মতো হ্রাসের ঘটনা প্রমাণ করে যে, মানুষ হাঙরের স্বাভাবিক শিকার নয়।
হাঙরেরা সাধারণত মানুষ শিকার করে না। বরং তারা ভুল করেই মানুষকে আক্রমণ করে বসে। তাই সমুদ্রে মানুষের আনাগোনা বাড়লেও আক্রমণের সংখ্যা কমে আসাটা যেন অন্যরকম এক স্বস্তি এনে দেয়। তবুও সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা রহস্যের সমাধান হয়তো এখনো কিছুটা বাকি।
তাহলে কি হাঙরের আচরণ বদলাচ্ছে? নাকি মানুষের সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
—সিএনএন










