অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র প্রযোজক, নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার ও মানবহিতৈষী। ১৯৭৫ সালের ৪ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে তার জন্ম। তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার বিশেষ দূত হিসেবেও কাজ করেন। অ্যাঞ্জেলিনা অস্কারের পাশাপাশি তিনবারের গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার এবং দুবারের স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী। তিনি ১৯৮২ সালে অভিনেয় শিল্পী বাবা জন ভয়েটের সঙ্গে ‘লুকিং টু গেট আউট’ এ অভিনয়ের মাধ্যমে রূপালী পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন। উল্কিপ্রিয় এই অভিনেত্রীর একটি ভয়ঙ্কর শখ আছে- বিভিন্ন ধরনের ছুরি সংগ্রহ করা! কিশোরী বয়স থেকেই নাকি এ অস্ত্র সংগ্রহের নেশা তাকে পেয়ে বসেছে।
অবশ্য লারা ক্রফট: টুম্ব রাইডার, সল্ট, মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথ এর মতো অ্যাকশনধর্মী সিনেমা দেখলে অস্ত্র চালনায় জোলির পারদর্শিতার কথা যে কেউ একবাক্যে শিকার করবেন। তবে ছুরির প্রতি তার আলাদা আকর্ষণ আছে। কৈশোরে মায়ের সঙ্গে মেলায় গিয়ে নাকি বিভিন্ন আকার আকৃতি ও নকশার ছুরির সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হতে তিনি। সেই থেকেই ছুরি সংগ্রহের নেশা পেয়ে বসে। পরে সেলিব্রেটি হওয়ার কারণে দামি ও ঐতিহ্যবাহী ছুরি সংগ্রহ আরো সহজ হয়ে যায়। এখন তার বাড়িতে ছুরির বিশাল কালেকশন।
দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকায় দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জোলি জানিয়েছিলেন, ১১ কিংবা ১২ বছর বয়সে প্রথম ছোরা হাতে পান তিনি। এরপর ওই বয়সেই অসংখ্য ছুরি ও ড্যাগার (ছোরা) নেড়েচেড়ে দেখার অভিজ্ঞতা হয় তার। একটি পত্রিকায় সাক্ষাৎকারে ছুরি দিয়ে বহুবার নিজের শরীর ক্ষত বিক্ষত করার কথা অকপটে স্বীকার করেন এ অভিনেত্রী। জোলি বলেন, ছুরি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। প্রতিটি দেশের ছুরির ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য আলাদা। এজন্যই এ অস্ত্রটি তাকে খুব আকর্ষণ করে।
ছয় সন্তানের জননী জোলি। এর মধ্যে তিন সন্তান দত্তক। ছেলে ম্যাডক্সকে ছুরি উপহার দেয়ার জন্য ২০০৮ সালে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। যদিও ছুরির ধারালো অংশটা ভোঁতা করেই ছেলের হাতে দিয়েছিলেন। পরে তিনি ছেলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে বলেন, আমরা সামুরাই এবং আত্মরক্ষার কৌশল নিয়ে প্রচুর কথা বলি।
তবে ব্যক্তিগত প্রায় সব বিষয়ে জোলি বেশ খোলামেলা কথা বললেও তার সাধের ছুরি নিয়ে তেমন একটা কথা বলেন না। যদিও কোনান ও’ব্রায়ানের টক শোতে একটি বাটারফ্লাই ছুরি দিয়ে তার দক্ষতা প্রদর্শন করেছিলেন।
জোলির সংগ্রহে ড্যারাল রাল্ফ-বালিসং, হাতে তৈরি বাটারফ্লই ছুরি রয়েছে। এই ধরনের ছুরির চাহিদা এতো বেশি যে কয়েক মাস আগে অর্ডার করতে হয়। জোলি নিজের নামাঙ্কিত কিছু উইলিয়াম হেনরি ফোল্ডিং ছুরিও রয়েছে। ছুরিগুলো দেখতে যেমন সুন্দর। দামটাও কিন্তু পিলে চমকানো। কিছু কিছু মডেলের মূল্য ২২ হাজার ডলারেরও বেশি। জোলির শরীরে আঁকা উল্কিতেও স্থান পেয়েছে ছোরার নকশা।
সূত্র: টেলিগ্রাফ, কোনান ও’ব্রায়ানের টক শো










