প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগের এক মানুষের গল্প যেন নতুনভাবে জানা গেল। পিরামিড তৈরির সেই যুগের এক ব্যক্তির কঙ্কাল নিয়ে গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা এমন কিছু তথ্য পেয়েছেন, যা শুধু ইতিহাস নয়, মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই আর স্বপ্নের কথাও বলে। মিশরের নুয়াইরাত গ্রামের এক সিল করা মাটির পাত্রে সমাধিস্থ ছিলেন এই মানুষ। তাকে ঘিরে জড়িয়ে আছে প্রাচীন মিশরের সভ্যতার গল্প।

গবেষণায় দেখা গেছে, ওই ব্যক্তির ৮০ শতাংশ বংশগতি প্রাচীন উত্তর আফ্রিকার মানুষের সঙ্গে মেলে। বাকি ২০ শতাংশ মেলে মেসোপটেমিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার মানুষের সঙ্গে। গবেষকরা বলছেন, এটি প্রমাণ করছে প্রাচীন মিশর শুধু পিরামিডের দেশ ছিল না, ছিল নানা সভ্যতার মিলনস্থল। হয়তো দূরের কোনো যাত্রী বা ব্যবসায়ীর বংশধর ছিলেন তিনি, যার জীবনে মিশে ছিল ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির গল্প।

লিভারপুল জন মুরস বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. অ্যাডেলিন মোরেজ জ্যাকবসের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল সমাধিস্থ কঙ্কালটি নিয়ে কাজ করেছেন। তারা এর দাঁতের সিমেন্টাম টিস্যু থেকে নমুনা নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ‘শটগান সিকোয়েন্সিং’ পদ্ধতিতে জিনোম বিশ্লেষণ করেছেন।

গবেষক দলটি জানিয়েছে, মানুষটি মধ্যবয়স্ক ছিলেন। দাঁত আর হাড়ে কঠোর পরিশ্রমের চিহ্ন স্পষ্ট। শিরদাঁড়ার বাঁক, পায়ের হাড়ের বাতের ছাপ বলছে, এই মানুষটি সহজ জীবন কাটাননি। তিনি ছিলেন সংগ্রামী ও কঠিন পরিশ্রমী। হয়তো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল বানাতেন, মাটির গন্ধে ভরে যেত তার চারপাশ। তার তৈরি জিনিসে হয়তো খাবার রান্না করত তখনকার পরিবারগুলো।

গবেষণায় আরো জানা গেছে, ওই ব্যক্তি ছোটবেলায় নীলনদের তীরে গম, যব আর প্রাণিজ আমিষ খেয়ে বড় হয়েছেন। তার চোখ ও চুল বাদামি, ত্বক ছিল শ্যামলা। ৫ ফুট উচ্চতার মানুষটি মৃত্যুর সময় ৪৪ থেকে ৬৪ বছরের ছিলেন, যা সেই সময়ের মানুষের জন্য অনেক বড় আয়ু।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গবেষণা শুধু ইতিহাসই নয়, মানুষের লড়াই, বেঁচে থাকা আর সমাজে নিজের জায়গা করে নেয়ার গল্পও বলছে। আরো এমন কঙ্কালের বিশ্লেষণ একদিন হয়তো প্রাচীন মিশরের অজানা ইতিহাসের পর্দা তুলবে।

— সিএনএন