মেক্সিকোর তামাউলিপাস রাজ্যের বাগদাদ সৈকত। এই সৈকত এক সময় কেম্পস রিডলি প্রজাতির বিপন্ন সামুদ্রিক কচ্ছপের বাসার জন্য পরিচিত ছিল। সেই শান্ত সৈকত আজ ভরে গেছে গলিত প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম টুকরা, নীল আঠা আর স্টিলের পাইপে। আর এসবই স্পেসএক্সের রকেট বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ। শুধু কচ্ছপ নয়, পুরো উপকূলবাসীও আজ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

গত বছরের নভেম্বর থেকে কনিবিও গ্লোবাল নামের একটি এনজিও এ বর্জ্য পরিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটির প্রধান যিশু ইলিয়াস ইবারা বলেন, ‘শুধু বর্জ্য সরানোই নয়, সঙ্গে আমরা প্রাণও বাঁচানোর চেষ্টা করছি। প্রতিটি টুকরো সরানোর সময় ভাবি, হয়তো এই টুকরোতেই কোনো কচ্ছপের ছোট্ট প্রাণ বাঁচবে।’

মে মাসের রকেট উৎক্ষেপণে লাখ লাখ টুকরা সৈকতে ছড়িয়ে পড়ে। ইবারা জানান, মাত্র ৫০০ মিটার এলাকার মধ্যে থেকে প্রায় এক টন বর্জ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে।

এরপর সবচেয়ে ভয়াবহ হয়েছে জুনের শেষ দিকের রকেট উৎক্ষেপণটি। ইবারা জানিয়েছেন, কচ্ছপের বাসা চাপা পড়ে মারা যায় অন্তত ৩০০ বাচ্চা কচ্ছপ। পুড়ে গেছে গাছপালা, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সীমান্ত এলাকার দরিদ্র মানুষের ঘরবাড়ি।

স্পেসএক্স বলছে, তারা সরকারি উদ্যোগে সহায়তা করতে আগ্রহী। কিন্তু কনিবিওর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ তাদের হয়নি। প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইবারা শেষ কথায় বলেন, আমরা চাই সমুদ্রটা আবার সেই শান্ত বাসা হোক। যেখানে কচ্ছপরা ফিরে আসবে। এই বর্জ্য না সরানো গেলে সেই স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে।

—সিএনএন