মানুষের কল্পনার থেকেও বড় ছিল প্রাগৈতিহাসিক মেগালোডন হাঙর। নতুন গবেষণা বলছে, এটি ৮০ ফুট পর্যন্ত লম্বা ছিল। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছে, আগের গবেষণাগুলোতে মেগালোডনের দেহ গঠন ভুলভাবে কল্পনা করা হয়েছিল।
প্যালিওবায়োলজিস্ট ড. কেনশু শিমাদা ও তার গবেষক দল ১৪৫টি জীবিত ও ২০টি বিলুপ্ত হাঙর প্রজাতির তুলনা করে দেখেছেন। তারা বলছেন, মেগালোডনের আকৃতি আগের ভাবনার চেয়েও বেশি সরু ও দীর্ঘ ছিল। এটি দেখতে গ্রেট হোয়াইট হাঙরের মতো নয়। বরং মসৃণ লেমন হাঙরের মতো ছিল।
গবেষণায় উঠে এসেছে, এই হাঙরের গড় দৈর্ঘ্য ৫০ ফুটের বেশি হলেও, কিছু মেগালোডন ৮০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারত।
প্রায় ১৫ মিলিয়ন থেকে ৩.৬ মিলিয়ন বছর আগে সমুদ্রের ভয়ংকর শিকারি ছিল মেগালোডন। এর দাঁত পাওয়া গেলেও সম্পূর্ণ কঙ্কাল এখনো পাওয়া যায়নি। দাঁতের গঠন দেখে বিজ্ঞানীরা আগে ধারণা করেছিলেন, এটি দেখতে আধুনিক গ্রেট হোয়াইট হাঙরের মতো ছিল।
২০১৯ সালে শিমাদার গবেষণায় বলা হয়েছিল, মেগালোডনের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৫০ ফুট। তবে নতুন গবেষণা বলছে, এর দেহ আরো বড় ও সরু ছিল, যা এটিকে বিশাল আকৃতি ধারণ করতে সাহায্য করেছে।

যেহেতু সম্পূর্ণ মেগালোডন হাঙরের কোনো নমুনা পাওয়া যায়নি, তাই ইলাস্ট্রেশনে আঁকা মেগালোডন হাঙরের একটি স্থিরচিত্র
গবেষকরা জানিয়েছেন, মোটা শরীরের হাঙর ২০ ফুটের বেশি হলে সাঁতার কাটতে সমস্যা হয়। কিন্তু সরু দেহবিশিষ্ট প্রাণীরা নীল তিমির মতো ১০০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হলেও সহজেই চলাচল করতে পারে।
শিমাদা বলেন, মেগালোডনের সম্পূর্ণ কঙ্কাল পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে, এটি দেখতে কেমন ছিল। তবে এখন পর্যন্ত গবেষণাগুলো বলছে, পৃথিবীর অতীতের সবচেয়ে বড় শিকারিদের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম।
—সিএনএন










