মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউক্রেন নীতির সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্প কার্যত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তুষ্ট করার চেষ্টা করছেন। বাইডেনের অভিযোগ, ইউক্রেনকে ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে চাপ দিয়ে ‘আধুনিক যুগের তোষণ নীতি’ অনুসরণ করছেন ট্রাম্প। খবর বিবিসি।

ডেলাওয়্যারে নিজ বাসভবনে বিবিসিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বাইডেন বলেন, ‘যখন একজন আগ্রাসীকে ভূমি ছাড়ার বিনিময়ে শান্তির প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়, তখন সেটা কেবল আগ্রাসনকে উৎসাহিত করে।’ তিনি ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, এই ধরনের তুষ্টি নীতির ফলাফল সবসময়ই বিপজ্জনক হয়েছে এবং এটি শুধু ইউক্রেনের জন্য নয়, বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্যও হুমকি। বাইডেন বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্বাস করেন যে, ইউক্রেন রাশিয়ারই অংশ। যারা মনে করেন, কিয়েভের কিছু অংশ পেলেই পুতিন থেমে যাবেন- তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।

বাইডেন আরো বলেন, ট্রাম্পের এমন অবস্থান ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের ওপর আস্থা ক্ষুণ্ণ করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান দুর্বল করে, তাহলে পুতিনের মতো নেতারা আরো আগ্রাসী হয়ে উঠবেন।

মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের আচরণ নিয়ে জানতে চাইলে পানামা খাল ‍পুনরুদ্ধার, গ্রিনল্যান্ড দখল এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত করার আহ্বানগুলোর তীব্র নিন্দা করেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উদ্বেগজড়িত কণ্ঠে বাইডেন বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের পক্ষে। দখলের পক্ষে নই।’

সাক্ষাৎকারে ইউক্রেন নিয়ে বাইডেনের নিজস্ব নীতি ও ২০২৪ সালের নির্বাচন থেকে দেরিতে সরে দাঁড়ানোর বিষয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি করা হয়। জবাবে বাইডেন বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে এক বিতর্ক অনুষ্ঠানে দুর্বল পারফরম্যান্সের পর ডেমোক্রেটদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হলে ওই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তিনি। প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বিদায় নেয়ার পর এই প্রথম সরাসরি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন জো বাইডেন।