কোনো প্রকার ব্যাখ্যা দেয়া ছাড়াই বন্ধ হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির ওয়েবসাইট। ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন বৈদেশিক সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্তের কারণে কয়েক হাজার কর্মীকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো বা ছাঁটাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। খবর এপি।
কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা ক্রমাগত আরো প্রকাশ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধিতা করতে থাকেন। কারণ তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে ট্রাম্প হয়তো ইউএসএআইডিকে একটি স্বাধীন সংস্থা হিসেবে বন্ধ করে এটিকে পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত করার দিকে এগোচ্ছেন। ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, কংগ্রেসের অর্থায়নে পরিচালিত একটি স্বাধীন সংস্থাকে বাতিল করার জন্য ট্রাম্পের কোনো আইনগত অধিকার নেই। তাছাড়া ইউএসএআইডির কাজ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্প ও কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা বলছেন, বিদেশী সাহায্য ও উন্নয়ন কর্মসূচির অনেকাংশই অপচয় হয়ে থাকে। তারা এমন কিছু কর্মসূচিকে আলাদা করে চিহ্নিত করছেন, যা তাদের মতে উদারনৈতিক সামাজিক এজেন্ডাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
ইউএসএআইডির বিরুদ্ধে আরো কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সহায়তার কোটি কোটি ডলার অর্থায়ন বন্ধ করে রেখেছে। প্রশাসন এত বড় পরিমাণে সহায়তা বন্ধ করার পরে এখন আরো গুরুতর পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে বলে মানুষ উদ্বিগ্ন। এর সরাসরি প্রভাব ইউএসএআইডির ওপর পড়তে পারে। যেমন সংস্থাটির ক্ষমতা কমানো, তহবিল সংকুচিত করা বা বন্ধ করার চেষ্টা করা।
যুক্তরাষ্ট্র একক দেশ হিসেবে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানবিক সহায়তা দিয়ে থাকে। তবে দেশটি মোট বাজেটের ১ শতাংশেরও কম সহায়তা খাতে ব্যয় করে, যা অন্য কিছু দেশের তুলনায় কম।
ট্রাম্প হয়তো ইউএসএআইডির স্বাধীন মর্যাদা শেষ করার পরিকল্পনা করছেন বলে আইনপ্রণেতাসহ অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ সম্পর্কে গত শনিবার প্রশাসনের কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫তম প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি শীতল যুদ্ধের সময় সোভিয়েত প্রভাব মোকাবেলার জন্য সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কংগ্রেস ১৯৬১ সালে বিদেশী সহায়তা আইন পাস করে এবং কেনেডি সে আইনে ও একটি কার্যনির্বাহী আদেশে সই করেন। এর সমন্বয়ে ইউএসএআইডি একটি স্বাধীন সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।










