যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মার্কো রুবিওকে অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সিনেট। সোমবার (২০ জানুয়ারি) ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পর সিনেটে এই ভোট গ্রহণ করা হয়। দ্বিদলীয় সমর্থনের মাধ্যমে এই ভোটে ৯৯-০ ভোটে রুবিওর মনোনয়ন নিশ্চিত হয়, যেখানে কেউই তার বিপক্ষে ভোট দেয়নি। খবর সিএনএন।

রুবিও ২০১১ সাল থেকে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার মনোনয়ন সিনেটের অনেক ডেমোক্র্যাট সদস্যেরও শক্ত সমর্থন পেয়েছে, যারা তাকে এই দায়িত্বের জন্য অত্যন্ত যোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।

সম্প্রতি কয়েক বছরে রুবিও ট্রাম্পের বিরোধী থেকে মিত্রে পরিণত হয়েছেন, যা একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পরিবর্তন। ২০১৬ সালের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রাইমারির সময় রুবিও এবং ট্রাম্পের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। তখন রুবিও ট্রাম্পকে ‘প্রতারক’ বলেছিলেন, আর ট্রাম্প তাকে ব্যঙ্গ করে ‘লিটল মার্কো’ বলে উল্লেখ করেন।

২০১৬ সালের প্রাইমারিতে পরাজিত হওয়ার পর রুবিও তার পররাষ্ট্র নীতির দক্ষতা বাড়ানোর জন্য সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটিতে রিপাবলিকানদের প্রধান হিসেবে কাজ করেন এবং দলের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের সম্পর্ক তৈরি করেন।

ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস রুবিওর পদত্যাগে সৃষ্ট আসনে রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাশলি মুডিকে নিয়োগ দিয়েছেন।

সিনেটরদের প্রশ্নের জবাবে রুবিও ন্যাটোর প্রতি তার সমর্থন জানান। তিনি চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কথা বলেন এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে ‘শক্তিশালী’ ও ‘বিপজ্জনক’ প্রতিপক্ষ বলেও উল্লেখ করেন।

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে রুবিও বলেন, ২০২২ সালের আগের অবস্থানে রুশ বাহিনীকে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি ‘অবাস্তব’। তিনি আরো বলেন যে, যুদ্ধ শেষ হওয়া উচিত এবং এটিই হওয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অবস্থান।

রুবিও এবং ট্রাম্প একমত যে, যুদ্ধ শেষ হওয়া দরকার এবং এই যুদ্ধের একটি সর্বশেষ লক্ষ্য নির্ধারণ না করায় তিনি বাইডেন প্রশাসনের সমালোচনা করেন।