রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ‘দীর্ঘ ও অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ ফোনালাপ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এই ফোনালাপে তারা ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার ব্যাপারে আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছেন। খবর বিবিসি।

ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে বলেছেন, তিনি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট তাদের নিজ নিজ দলকে অবিলম্বে আলোচনা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরস্পরকে নিজেদের রাজধানীতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

এরপর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

যুদ্ধরত পক্ষগুলোর সঙ্গে এই ফোনালাপের মধ্যেই ট্রাম্প এবং তার প্রতিরক্ষা সচিব বলেছেন যে, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের সম্ভাবনা নেই, যা কিয়েভের জন্য বড় হতাশার কারণ হবে।

জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি শুক্রবার মিউনিখে ইউক্রেন সংক্রান্ত একটি প্রতিরক্ষা সম্মেলনে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে লিখেছেন, এখন সময় এসেছে এই হাস্যকর যুদ্ধ বন্ধ করার, যেখানে ব্যাপক হারে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় মৃত্যু ও ধ্বংস হয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের জনগণের জন্য ঈশ্বরের আশীর্বাদ কামনা করি।

তিনি পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের কোনো তারিখ নির্ধারণ করেননি, তবে পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, তারা সৌদি আরবে সাক্ষাৎ করবেন।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ট্রাম্পের এই ধারণাকে পুতিন সমর্থন করেছেন যে, এখন একসঙ্গে কাজ করার সময় এসেছে।

পেসকভ জানান, পুতিন ও ট্রাম্পের ফোনালাপ প্রায় দেড় ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল, যেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে মস্কো সফরের আমন্ত্রণ জানান।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প আরো বলেন, ইউক্রেন সম্ভবত ২০১৪ সালের আগের সীমানায় ফিরে যেতে পারবে না। তবে এর কিছু অংশ ফিরে আসবে।

ট্রাম্প জানান, তিনি তার প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে একমত, যিনি বুধবার ন্যাটো সম্মেলনে বলেছিলেন যে, ইউক্রেনের সামরিক জোটে যোগদানের কোনো সম্ভাবনা নেই। ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি, এটি সম্ভবত সত্য।

যুক্তরাজ্য সরকার বলেছে যে, তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে। ব্রিটেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার আইটিভিকে বলেছেন যে, কিয়েভের প্রতি লন্ডনের সমর্থন অটল থাকবে।