ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনা ও শীর্ষ সামরিক নেতাদের ওপর হামলার জবাবে ইরান শুক্রবার (১৩ জুন) একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েলে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইসরায়েল সফলভাবে ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাউন্ড-ভিত্তিক প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অ্যাটিটিবউড এরিয়া ডিফেন্স ব্যবস্থা। পাশাপাশি, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজও ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করেছে।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার হামলা ও পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউএসএস থমাস হাডনার নামের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে সক্ষম যুদ্ধজাহাজকে পশ্চিম ভূমধ্যসাগর থেকে পূর্ব দিকে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আরো একটি ধ্বংসকারী জাহাজকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে হোয়াইট হাউসের নির্দেশে দ্রুত মোতায়েন সম্ভব হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান। একইসঙ্গে, অঞ্চলের বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে নেয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। সেনা পরিবারের সদস্যদের স্বেচ্ছায় ঘাঁটি ত্যাগের অনুমতি দেয়া হয়েছে, যাতে ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার মুখে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজারে, সাধারণত এ সংখ্যা ৩০ হাজারের মধ্যে থাকে। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে রেড সি-তে ধারাবাহিক হামলার পাশাপাশি ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যাওয়ার কারণে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল ৪৩ হাজার ।
এছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজও প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেগুলো প্রয়োজনে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হতে পারে।
বর্তমানে ইউএসএস কার্ল ভিনসন বিমানবাহী রণতরী আরব সাগরে অবস্থান করছে। পাশাপাশি, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস নিমিৎজ বর্তমানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে রয়েছে এবং পরমানবিক শক্তিচালিত আরেক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন জাপান থেকে যাত্রা শুরু করেছে। প্রয়োজনে তাদেরও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সেনা মোতায়েনের উদ্দেশ্য হলো অঞ্চলজুড়ে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী ও স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা, সেইসঙ্গে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার জেরে উদ্ভূত যেকোনো হুমকির দ্রুত মোকাবিলা করা।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের পাশে দাঁড়াতে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সামরিক শক্তি জোরদার করেছিলেন। সেটি ছিল হিজবুল্লাহ ও ইরানকে সতর্ক করার একটি কৌশল। এখন, ইরানের সরাসরি জবাবি হামলার প্রেক্ষিতে সেই কৌশল ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আরো সক্রিয়ভাবে ফিরে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের সম্ভাবনা এখন প্রবল। যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে সাময়িকভাবে স্থিতিশীল রাখতে পারলেও, যেকোনো মুহূর্তে তা বড় আকারের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।










