সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি খাতেও পরিবর্তন আসছে। বিভিন্ন কোম্পানি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে ও সেগুলোকে পণ্য তৈরিতে ব্যবহার করছে। প্রযুক্তি খাতের মধ্যে স্মার্টফোন অনেক দূর এগিয়েছে। কোম্পানিগুলো নতুন উদ্ভাবনে মনোযোগী হলেও বিভিন্ন দেশের সরকার অধিবাসী তথা ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় নীতিমালা প্রণয়ন করছে।

গিজমোচায়নায় প্রকাশিত খবরে এ তথ্য উঠে এসেছে। স্মার্টফোন বাজারে অ্যাপল অন্যতম প্রভাব বিস্তারকারী কোম্পানি। উন্নত প্রযুক্তির পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে কোম্পানিটি গ্রাহকদের অন্যতম আস্থার জায়গায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশের সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাপের কারণে অ্যাপলও দোটানায় রয়েছে। প্রশ্ন এসেই যায়, বিভিন্ন দেশের সরকার কি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে বাধা দিচ্ছে নাকি ব্যবহারকারীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করছে।

বিভিন্ন দেশ বা অঞ্চলের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব ডিভাইসে একই চার্জিং পদ্ধতি চালুর আহ্বান জানায়। অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে অনেক আগেই ইউএসবি-সি পোর্টের ব্যবহার শুরু হয়েছে। কিন্তু অ্যাপল এর ব্যতিক্রম ছিল। কিন্তু চাপের মুখে ১৫ সিরিজে সি পোর্ট ব্যবহার করেছে কোম্পানিটি। মূলত ই-বর্জ্য কমানো এবং গ্রাহকদের সুবিধা নিশ্চিতে এ উদ্যোগ নেয়া হলেও একটি বিষয় পরিষ্কার। সেটি হলো সরকারের চাপে অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। যেকোনো কোম্পানির মৌলিক নীতির ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রভাব পড়ার বিষয়টি দৃশ্যমান।

নিয়ন্ত্রক হিসেবে ইইউ একাই যে নীতিমালা প্রণয়ন করছে তা নয়। প্রযুক্তি খাতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন বিরূপ। চীনে প্রযুক্তি রফতানিতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরো প্রভাব ফেলছে। এরই মধ্যে বিদেশী অ্যাপ ডেভেলপারদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারি অনুমোদন গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। এ কারণে হয়তো ভবিষ্যতে চীনের স্মার্টফোনে থেকে বিশ্বে পরিচিত ও প্রচলিত অনেক অ্যাপ হারিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতে করে অ্যাপলের আয়ে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

ইইউ বর্তমানে আধুনিক স্মার্টফোনে পুনরায় পরিবর্তনযোগ্য ব্যাটারি যুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ উদ্যোগকে ইতিবাচক মনে হলেও স্মার্টফোন উৎপাদনের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে সেটি পর্যালোচনার কথাও জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশারদরা। ই-বর্জ্য কমানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলেও বর্তমানে হালকা ওজনের ও পাতলা স্মার্টফোন তৈরির যে প্রচেষ্টা তা অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হবে।

চীনের হুয়াওয়ে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ব্যবহারের উপায় না থাকায় হুয়াওয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিতে চিপ তৈরি করেছে। দেশটির সরকার প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যেতে চাইলেও কোম্পানিগুলোকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, যা তাদের উদ্ভাবনের বিপরীত।

প্রযুক্তি খাতে গুগলের আধিপত্যের বিষয় সবারই জানা। অসম প্রতিযোগিতার জন্য ভারত এ প্রযুক্তি জায়ান্টকে জরিমানা করেছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমতাভিত্তিক বাজার ব্যবস্থা তৈরিতে এ উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও তা ভারতে অ্যান্ড্রয়েডের বিস্তারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চর্চায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সব দিকে সমতা বিধান করা এ খাতের জন্য কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা।

অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা বিধিনিষেধ যে প্রযুক্তি খাতের উদ্ভাবনের জন্য বাধা অতীতে সেটিও দেখা গেছে। গ্রাহক বা ভোক্তার নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারকে আরেকটি বিষয় দেখতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তিবিদরা। সেটি হলো প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে কোনো বাধা তৈরি না করা।