মাইক্রোসফট ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ৬ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে কল অব ডিউটি গেমের নির্মাতা অ্যাক্টিভিশন ব্লিজার্ড অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেয়। এ চুক্তি বাস্তবায়নের পথে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হয় যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রযুক্তি জায়ান্টকে। সবশেষ যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষও এর বিরোধিতা করে। তবে চুক্তি সম্পন্নে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থাও সবুজ সংকেত দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, অনুমতি পাওয়ার প্রেক্ষিতে প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলারে অ্যাক্টিভিশন ব্লিজার্ড অধিগ্রহণ করেছে মাইক্রোসফট। যা গেমিং শিল্পে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুক্তি।

যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিএমএ বলছে, এ অধিগ্রহণ আটকে দেয়ার পর সংস্থাটি উত্থাপিত শঙ্কাগুলো নিয়ে কাজ করেছে মাইক্রোসফট। অ্যাক্টিভিশনের সঙ্গে এ চুক্তি নিশ্চিত হওয়াকে অসাধারণ বলে আখ্যা দিয়েছেন এক্সবক্স প্রধান ফিল স্পেন্সার।

বিবিসিতে প্রকাশিত অন্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিটি ঘোষণার পর অ্যাক্টিভিশন সিইও ববি কটিক কর্মীদের পাঠানো চিঠিতে নিশ্চিত করেছেন, ২০২৩ সাল শেষে তিনি নিজ পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।

তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘ সময় ধরেই বলে আসছি, এ পরিবর্তনে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আমাদের কর্মী ও গেমাররা যেন সহজেই এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন, তা নিয়ে আমি ও (ফিল স্পেন্সার) উভয়ই একজোট হয়ে কাজ করব।’

অন্যদিকে আগে কল অব ডিউটি গেম নিয়ে প্লেস্টেশনের নির্মাতা সনির মতো প্রতিদ্বন্দ্বী ও গেমিং শিল্পের নিয়ন্ত্রকরা শঙ্কা প্রকাশ করলেও গেমারদের এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন মাইক্রোসফট গেমিংয়ের প্রধান নির্বাহী স্পেন্সার।

তিনি বলেন, ‘আপনি এক্সবক্স, প্লেস্টেশন, নিনতেনদো, পিসি বা মোবাইল, যে সংস্করণেই গেম খেলেন না কেন, আপনাদের সবাইকে এখানে স্বাগতম। আর আপনার পছন্দের ফ্রাঞ্চাইজি খেলার জন্য এক্সবক্স না থাকলেও চলবে।

নতুন করে কাজ করা এ চুক্তিতে ফরাসি ভিডিও গেম নির্মাতা ইউবিসফটের ক্লাউড সেবায় অ্যাক্টিভিশনের বিভিন্ন গেম কনসোল ও পিসিতে খেলার সুযোগ দিয়েছে মাইক্রোসফট। তবে এমন ছাড় দেয়ার পরও কল অব ডিউটি, ওয়ার্ল্ড অব ওয়ারক্রাফট ও ক্যান্ডি ক্রাশের মতো জনপ্রিয় গেমগুলোর নিয়ন্ত্রণ থাকবে মাইক্রোসফটের হাতে, যা থেকে বড় আর্থিক লাভ পাবে কোম্পানিটি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সিএমএ বলেছে, পুনর্গঠিত চুক্তিটি গেমিং শিল্পের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামের নিশ্চয়তা দেবে। ফলে আগের চেয়ে বেশি বিকল্প পছন্দ ও ভালোমানের সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন গেমার তথা ব্যবহারকারীরা। তবে অনুমোদন দেয়ার পরও মাইক্রোসফটের প্রায় দুই বছর দীর্ঘ এ লড়াই নিয়ে সমালোচনা করেছে সিএমএ।

সিএমএর প্রধান নির্বাহী সারাহ কার্ডেল বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যবসা ও তাদের পরামর্শকদের জানা উচিত, মাইক্রোসফট যে কৌশলে সিএমএর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, তা সঠিক ছিল না। আমাদের প্রাথমিক তদন্তের সময়ই মাইক্রোসফট এ চুক্তি পুনর্গঠনের সুযোগ পেয়েছিল। তারা এর বিকল্প পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানালেও আমরা তাতে সায় দিইনি। এমন কার্যক্রম একই সঙ্গে ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। বছরের শুরুতে অধিগ্রহণ আটকে দেয়ার পর মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট সিএমএর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেন, ‘এটা যুক্তরাজ্যের জন্য বাজে ফল বয়ে আনতে পারে। আর তাদের প্রযুক্তিবান্ধব দেশ হওয়ার লক্ষ্যেও বাধা সৃষ্টি করবে এটি।’