ব্রিটিশ চারটি মোবাইল নেটওয়ার্ক কোম্পানির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৩০০ কোটি পাউন্ড দাবি করে আদালতে যাচ্ছেন গ্রাহকরা। তাদের পক্ষ থেকে সিটিজেন অ্যাডভাইস নামে একটি ল ফার্ম এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে চুক্তি শেষ হওয়ার পরও গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেয়া হয়েছে। খবর বিবিসি।

যুক্তরাজ্যের ৪৮ লাখ মানুষের পক্ষ থেকে ৩০০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি ক্ষতিপূরণ চেয়ে আপিল ট্রাইব্যুনালে একটি দাবি (লয়্যালটি পেনাল্টি ক্লেম) উত্থাপন করা হয়েছে। এ অর্থ মূলত গ্রাহকের মোবাইল ফোন, ডাটা, কল মিনিট এবং টেক্সটের মতো পরিষেবাগুলোর ক্ষেত্রে যে অতিরিক্ত ফি নেয়া হয়েছে, তার ভিত্তিতে হিসাব করা।

সিটিজেন অ্যাডভাইসের সাবেক এক্সিকিউটিভ জাস্টিন গুটম্যান জানান, ২০০৭ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের ২ কোটি ৮২ লাখ মোবাইল ফোন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। যদি এ দাবি সঠিক প্রমাণিত হয়, তাহলে একজন গ্রাহক ১ হাজার ৮০০ পাউন্ডেরও বেশি পেতে পারেন। যখন প্রাথমিকভাবে চুক্তি করা হয়েছিল, তখন অর্থ পরিশোধের ন্যূনতম মেয়াদ ছিল ২৪ মাস। এর মধ্যে মোবাইলের ফোনের দাম ও নেটওয়ার্কের পরিষেবা উভয়ই অন্তর্ভুক্ত ছিল।

অভিযোগে আরো জানা যায়, যুক্তরাজ্যের চারটি বৃহত্তম নেটওয়ার্ক অপারেটর এভরিথিং এভরিহয়্যার (ইই), ওটু, থ্রি এবং ভোডাফোন এবং তাদের মূল কোম্পানিগুলো ন্যূনতম চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও গ্রাহকের কাছ থেকে চার্জের পরিমাণ কমায়নি। যদিও গ্রাহক মোবাইল হ্যান্ডসেটের জন্য অর্থ দিয়েছেন। এর অর্থ হলো বর্তমানে গ্রাহকের কাছ থেকে এমন কিছুর জন্য চার্জ নেয়া হয়েছে, যার জন্য তারা আগে অর্থ দিয়েছিলেন। যেমন সিম-অনলি প্যাকেজের ক্ষেত্রে বেশি চার্জ নেয়া হয়েছিল।

জাস্টিন গুটম্যান বলেন, ‘‌আমাদের দাবি সঠিক প্রমাণিত হলে এসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহক থেকে অনৈতিক সুবিধা নেয়া থেকে বিরত থাকবে। তাদের অনৈতিক চর্চা বন্ধ হবে।’

তিনি আরো জানান, এর ফল আসতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। গুটম্যান বর্তমানে প্রমাণ খুঁজছেন, দাবিটি বিচারে যাওয়ার আগে একটি পদক্ষেপ।

ইই নেটওয়ার্কের এক মুখপাত্র জানান, তাদের বিরুদ্ধে যে অনুমানভিত্তিক অভিযোগ আনা হয়েছে তার সঙ্গে কোম্পানি একমত নয়। ইই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন ট্যারিফ ও চুক্তির মেয়াদ শেষের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।

এদিকে ভোডাফোন জানায়, বিষয়টি তাদের নজরে আনা হয়েছে। কোম্পানির আইনজীবীরা এটি মূল্যায়ন করছে।

ওটু নেটওয়ার্কের এক মুখপাত্র জানান, এ দাবি নিয়ে তাদের আইনি দলের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা হয়নি। তিনি জানান, ওটু নেটওয়ার্ক ১০ বছর আগে প্রথম এমন চুক্তির প্রস্তাব করেছিল। যেখানে চুক্তির মাধ্যমে গ্রাহক তার ডিভাইসটির মূল্য পরিশোধ করার পর বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে আসে। ওটু সে সময় প্রচার চালিয়েছে যাতে গ্রাহক পেমেন্ট করা ডিভাইসগুলোর জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রদান না করেন।

২০২২ সালের মে মাস থেকে এ পদ্ধতি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে আসছে ল’ ফার্ম সিটিজেন অ্যাডভাইস। এতে বলা হয়েছে, গ্রাহকের মোবাইল বিলের বিষয়টি পরিষ্কারভাবে দেখতে হবে। গ্রাহক নেটওয়ার্ক পরিষেবা ও ডিভাইসের জন্য কত অর্থ প্রদান করছে, তা স্পষ্ট করতে হবে।

সেন্ট আলবানসের ২৭ বছর বয়সী জ্যাক ড্রুরি এ আইনি দাবি নিয়ে বেশ খুশি। তিনি জানান, মাসিক ফির মাধ্যমে অনেক সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী উপায়ে মোবাইল ডিভাইস কিনে থাকে। তবে ফির মধ্যে নেটওয়ার্ক পরিষেবা ও ডিভাইসের দাম আলাদা করে দেখাতে হবে। এতে গ্রাহকের কাছে একটি স্বচ্ছতা তৈরি হবে।