ব্রিটিশ জাদুঘরের দুই হাজারেরও বেশি শিল্পকর্ম চুরির ঘটনা সামনে আসার পর কঠোর সমালোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে সেজন্য জাদুঘরে থাকা সংগ্রহগুলোর সুরক্ষায় ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর টেক টাইমস।
তদন্ত চলমান থাকলেও জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এখনো চুরির সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারেনি। সেজন্যই ব্রিটিশ জাদুঘর কর্তৃপক্ষ নিজেদের নিরাপত্তা বাড়াতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ তাদের সম্পূর্ণ স্থায়ী সংগ্রহে থাকা শিল্পকর্ম ও নিদর্শনগুলোকে ডিজিটালাইজড করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
যে প্রকল্পে জাদুঘরে থাকা আট মিলিয়নেরও বেশি শিল্পকর্ম রয়েছে। চুরি প্রতিরোধ এবং জাদুঘরের অমূল্য নিদর্শনগুলো সুরক্ষিত রাখা এ পরিকল্পনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ব্রিটিশ জাদুঘরে থাকা ২৪ লাখের বেশি শিল্পকর্ম ও নিদর্শন ডিজিটাল ফাইল আপলোডের প্রক্রিয়াটি শেষ করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
ব্রিটিশ জাদুঘরের বোর্ড চেয়ারপারসন জর্জ অসবর্ন জানান, এখানকার শিল্পকর্মগুলো ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি কারণ প্রত্যাবাসন করা। তিনি আরো জানান, শিগগিরই জাদুঘরের ওয়েবসাইটে সবার জন্য ডিজিটাল প্রবেশাধিকার সুবিধা চালু করা হবে।
গত ২০ বছরে প্রায় দুই হাজারের মতো শিল্পকর্মের চুরির ঘটনা উন্মোচিত হওয়ার পর এমন রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় জাদুঘরটি। যদিও ডিজিটালাইজেশনের মূল উদ্দেশ্য এখনো সবার কাছে অস্পষ্ট রয়ে গেছে। তবে উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে জাদুঘরের মূল্যবান নিদর্শনগুলো নিরাপদ থাকবে। পাশাপাশি অফসাইট ভল্টে সংরক্ষণের কারণে ভবিষ্যতে শিল্পকর্ম চুরির ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিল্পকর্মকে মানব সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের জানালা হিসেবে দেখা হয়ে থাকে। জাদুঘরগুলোও এ অমূল্য শিল্পকর্মগুলো সংরক্ষণে গুরু দায়িত্ব পালন করে। উদাহরণস্বরূপ ২০১৪ সালে নিউইয়র্কের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টের শিল্পী আইকনিক অ্যান্ডি ওয়ারহলের আগে প্রকাশিত হয়নি এমন শিল্পকর্মগুলো প্রদর্শন করা হয়। যার মাধ্যমে শিল্পীর অনবদ্য সৃষ্টিশীল কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হয়।










