বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের (ভিপিএন) ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবহারকারীরা বর্তমানে গোপনীয়তা ও সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন হচ্ছেন। এছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহারে সরকারি নিয়ন্ত্রণের প্রভাব থেকে বের হয়ে আসতে ভিপিএনও নির্ভরতা বাড়ছে বলে অ্যালয়েড মার্কেট রিসার্চের এক প্রতিবেদনের উঠে এসেছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
বিশ্বে সামগ্রিকভাবে ১৬০ কোটি মানুষ ভিপিএন ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কোনো ওয়েবসাইট ব্যান করা হলে বা কোনো তথ্য আড়াল করা হলে সে বিষয়ে জানতে পারেন। হো চি মিন সিটির একটি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত একজন জানান, তাদের পক্ষে দেশের ভেতর থেকে বাইরের গণমাধ্যমে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। এ কারণে অবাধ ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ভিয়েতনাম সরকারের বিধিনিষেধ এড়াতে ভিপিএন সহায়ক।
অ্যালায়েড মার্কেট রিসার্চের তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালে বিশ্বে ভিপিএন বাজার ছিল ২ হাজার ৫৪০ কোটি ডলারের। ২০২২ সালে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক পর্যায়সহ সামগ্রিকভাবে তা বেড়ে ৪ হাজার ৪৬০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। গবেষণা সংস্থাটির মতে, ২০২৭ সাল নাগাদ ভিপিএনের বাজার ৭ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। কভিড-১৯ মহামারীতে রিমোট ওয়ার্কের কারণে ভিপিএনের ব্যবহার বাড়তে শুরু করে। এরপর তা অব্যাহত রয়েছে
ভিপিএন মূলত এমন একটি প্রযুক্তি যা ইন্টারনেটে প্রবেশের জন্য ডেডিকেটেড ভার্চুয়াল সংযোগ তৈরি করে। প্রয়োজন বিশেষে ভিপিএনের বিভিন্ন পরিষেবা রয়েছে। এর মধ্যে ফ্রি স্মার্টফোন অ্যাপ থেকে শুরু করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পেইড ভার্সনও রয়েছে।
ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় দুই প্রান্ত থেকেই তথ্য আদান-প্রদান করা হয়। ওয়েবে এ তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য ভিপিএন প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট প্রটোকল বা আইপি ঠিকানা আড়াল করে। এছাড়া ইন্টারনেটে যুক্ত প্রতিটি ডিভাইসের জন্য আলাদা আইডি দেয়া হয়। এনক্রিপশন সুবিধা থাকায় দুই পক্ষের মধ্যে কী বিষয়ে কথা হচ্ছে বা কী তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে সেটি তৃতীয় পক্ষ জানতে পারবে না।
লিথুয়ানিয়াভিত্তিক স্টার্টআপ নর্ড সিকিউরিটিতে পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আদ্রিয়ানাস ওয়ারমেনহোভেন। তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট জগৎ বর্তমানের তুলনায় বেশি বিপজ্জনক কখনই ছিল না। বর্তমানে নিজেদের তথ্য ও কথোপকথনের সুরক্ষায় অনেকেই নিরাপত্তা টুলের সন্ধান করছে।’
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, রিমোট ওয়ার্ক ছাড়াও কর্তৃত্ববাদী দেশগুলোতে ভিপিএন বিখ্যাত। কেননা সেখানে সরকার বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য প্রকাশ বন্ধে ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করে। জাপানে নর্ড সিকিউরিটির মুখপাত্র পল অ্যাশটন এ কথা জানান। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইন্টারনেট ব্যবহারে নীতিমালাও প্রণয়ন করছে। উদাহরণস্বরূপ ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার সংসদে টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধন করা হয়। এতে বিধিনিষেধ ও প্রবেশ এবং তথ্য সংরক্ষণের বিষয় যুক্ত করা হয়। এ নীতিমালার অধীনে ইন্টারনেট পরিষেবা কোম্পানিগুলোকে ব্যবহারকারীদের ব্রাউজিং তথ্য দুই বছরের জন্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। দেশটির সরকারের দাবি, সন্ত্রাসবাদ দমনেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় নর্ড সিকিউরিটির ব্যবহারকারী দ্বিগুণ বেড়েছিল।
ভিপিএন পরিষেবা প্রদানের দিক থেকে সার্ফশার্ক বেশ পরিচিত। এর পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি বছর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৬০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এক জরিপে অংশ নিয়ে সার্ফশার্কের ৪৩ শতাংশ গ্রাহক জানায়, মূলত নিরাপত্তার জন্যই তারা ভিপিএন ব্যবহার করে।










