কনটেন্টে শিশু নিপীড়নের মতো ঘটনা বন্ধে এক্সের (সাবেক টুইটার) ভূমিকা জানতে চেয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ই-সেফটি কমিশন। এ নিয়ে একটি তদন্তও পরিচালনা করেছে সংস্থাটি। ওই তদন্তে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়ায় সম্প্রতি এক্সকে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্স।
বর্তমান এক্স ও সাবেক টুইটারের মালিকানায় পরিবর্তন আসার পর থেকে বিভিন্ন বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্লাটফর্মটির কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থা। এটি নিয়ে অভিযোগ বাড়তে থাকায় বিজ্ঞাপনদাতাদের ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে এক্স। এর মধ্যে আবারো জরিমানার শিকার হলো ইলোন মাস্ক মালিকানাধীন প্লাটফর্মটি।
অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ই-সেফটি কমিশন এক্সকে জরিমানা করেছে। সংস্থাটির দাবি, প্লাটফর্মে শিশু নিপীড়ন সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট বন্ধে কোম্পানি কত সময় নেয় বা কোন পদ্ধতিতে এগুলো শনাক্ত করা হয় এক্স সেগুলোর জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্র্যান্ট বলেন, ‘আপনার কাছে যদি এসব প্রশ্নের জবাব থাকে বা আপনি বিশ্বব্যাপী অবৈধ কনটেন্ট ঠেকানোর মতো যথেষ্ট জনবল বা প্রযুক্তি রাখাকে অগ্রাধিকার দেন, তবে বিষয়টি সহজ।’ ২০১৬ সাল পর্যন্ত টুইটারের জননীতি বিভাগের পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। জুলি ইনম্যান বলেন, ‘অবৈধ কনটেন্ট ও প্লাটফর্মের কার্যবিধি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারার একমাত্র কারণ হতে পারে, আপনাদের কাছে এর জবাব নেই।’
২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ায় কার্যকর হওয়া আইন অনুসারে, বিভিন্ন কোম্পানি নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অনলাইন সুরক্ষাবিষয়ক তথ্য দিতে বাধ্য। এ নির্দেশ না মানলে জরিমানার মুখে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। গ্র্যান্ট বলেন, ‘এক্স জরিমানা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোম্পানির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করতে পারে।’
টুইটারকে প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে পরিচালনা শুরুর পর এক পোস্টে মাস্ক বলেন, ‘কোম্পানির প্রথম অগ্রাধিকার থাকবে শিশু নিপীড়নবিষয়ক কনটেন্ট সরানোর দিকে।’ তবে অস্ট্রেলীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা যখন জিজ্ঞেস করে, এক্স কীভাবে শিশু নিপীড়নের কনটেন্ট ঠেকাচ্ছে, তখন এর জবাবে এক্স জানায়, বেশির ভাগ তরুণ তাদের পরিষেবা ব্যবহার করে না।’
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিকে এক্স আরো জানায়, তাদের কাছে থাকা অ্যান্টি-গ্রুমিং প্রযুক্তিটি পুরোপুরি নির্ভুল নয়। এছাড়া কমিশন গুগলকেও একই ধরনের নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্র্যান্ট। গুগলের কিছু জবাবকে সুনির্দিষ্ট নয় বলে আখ্যা দিয়েছে সংস্থাটি। গুগল বলেছে, তারা সংস্থাটিকে সবসময় সহযোগিতা করলেও তাদের দেয়া সতর্কবার্তার কারণে কোম্পানি হতাশ।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছে, এক্স-এর বেলায় প্রশ্নগুলো কিছুটা গুরুতর। এর মধ্যে রয়েছে শিশু নিপীড়নবিষয়ক কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তারা কত সময় নেয়, লাইভস্ট্রিমে শিশু নিপীড়ন শনাক্তে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় ও তাদের কনটেন্ট মডারেশন, সুরক্ষা ও জননীতি বিভাগে কতজন কর্মী রয়েছে। নিজেদের বৈশ্বিক কর্মী সংখ্যা থেকে ৮০ শতাংশ ছাঁটাইয়ের বিষয়টি সংস্থাটির কাছে নিশ্চিত করেছে এক্স। এছাড়া মাস্কের অধিগ্রহণের আগে কোম্পানির অস্ট্রেলিয়া অংশের জননীতি বিভাগে দুজন কর্মী কাজ করলেও এখন আর কেউই নেই বলে জানা গেছে। মাস্ক কোম্পানিকে প্রাইভেট করে ফেলার পর প্লাটফর্মের শিশু নিপীড়ন সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট শনাক্ত করার ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে যায়।










