অপ্রাপ্তবয়স্ক বা শিশুদের সুরক্ষায় ইউটিউব ও টিকটক কী পদক্ষেপ নিয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে প্লাটফর্ম দুটির কাছে তথ্য চেয়েছে কমিশন। খবর টেকটাইমস।
ডিজিটাল কনটেন্ট প্রচার ও ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে ইউরোপীয় কমিশন। তারই প্রাথমিক ধাপের কার্যক্রম এটি। ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ) মেনে চলার ক্ষেত্রে প্রধান প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চাইছে ইইউ। যে কারণে অবৈধ ও ক্ষতিকর কনটেন্টের প্রচার বন্ধে ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্মগুলো কী উদ্যোগ নিয়েছে সে বিষয়ে জানতে আগ্রহী কমিশন।
তদন্তের প্রাথমিক লক্ষ্য ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ) মেনে চলার জন্য প্লাটফর্মগুলো কী উদ্যোগ নিয়েছে তা যাচাই করা। বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ডিএসএর নীতি অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি যদি নীতিমালা ভঙ্গ করে তাহলে বৈশ্বিক আয়ে ৬ শতাংশ অর্থ জরিমানা দিতে হবে। ইইউর এ উদ্যোগ অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীর সুরক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রযুক্তি সংস্থাগুলো যেন কনটেন্ট প্রচারে সতর্ক হয় সে বিষয়টিকে নির্দেশ করে।
আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়া এক বিবৃতিতে ইউটিউব ও টিকটকের কাছ থেকে কী ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে সেটি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে ইউরোপীয় কমিশন। এর মধ্যে ডিএসএর অধীনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় প্লাটফর্মগুলো কী পদক্ষেপ নিয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে। এটি ঝুঁকি মূল্যায়নের সঙ্গে অনলাইনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় গৃহীত ব্যবস্থার বাস্তবায়ন নিয়েও কাজ করবে।
তথ্য দেয়ার বিষয়ে টিকটকের সিইও শও জি চিউকে ব্রেটন বলেন, ‘প্লাটফর্মটিতে গুজব ঠেকাতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখা যাবে না।’
৩০ নভেম্বরের মধ্যে ইউটিউব ও টিকটককে ইউরোপীয় কমিশনের কাছে তথ্য সরবরাহ করতে হবে বলে সূত্রে জানা গেছে। পদক্ষেপের বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনার পর নতুন পরিকল্পনা নেয়া হবে। ডিএসএর ৬৬ নম্বর ধারার পরিপ্রেক্ষিতে কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। ডিএসএর ৭৪(২) ধারা অনুযায়ী, কোম্পানির কাছে চাওয়া তথ্যে কোনো অসংগতি বা ভুল কিংবা অপরিপূর্ণ থাকলে কমিশন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। যেসব ক্ষেত্রে প্লাটফর্মগুলো তথ্য দিতে পারবে না, একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেটি সমাধানে কমিশনের এখতিয়ার রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেটি সম্পাদনে ব্যর্থ হলে নিয়মানুযায়ী জরিমানা করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগের বড় প্লাটফর্ম হিসেবে ইউটিউব ও টিকটক ডিএসএর বিধান মেনে চলতে বাধ্য। এর মধ্যে বেআইনি ও ক্ষতিকর বিষয়বস্তু প্রচারে সম্পর্কিত ঝুঁকির মূল্যায়ন এবং প্রশমন, শিশুদের অধিকারসহ মৌলিক অধিকারের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব কমানোও অন্তর্ভুক্ত।
কমিশনের তথ্যানুযায়ী, এর আগে গত ১৯ অক্টোবর একই ধরনের তথ্যের জন্য টিকটকের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও হিংসাত্মক বিষয়বস্তু, ঘৃণামূলক বক্তব্য, বিভ্রান্তি এবং অনলাইনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষাসংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়গুলো ছিল।










