বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিভিন্ন দেশ ব্যয় বাড়াচ্ছে। এশিয়া অঞ্চলের পাশাপাশি ইউরোপেও ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। চলতি বছর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে (আইসিটি) ইউরোপের ব্যয় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এ খাতের শীর্ষে থাকবে সফটওয়্যার ও বিজনেস সার্ভিস বিভাগ।

ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) ওয়ার্ল্ডওয়াইড আইসিটি স্পেন্ডিং গাইড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড এসএমবি বাই ইন্ডাস্ট্রি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। আইসিটি খাতে ইউরোপ অঞ্চলের ব্যয় ২০২৭ সাল নাগাদ ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ইউরোপ অঞ্চলে সফটওয়্যার ও ব্যবসা পরিষেবা খাত ব্যয়ের শীর্ষে থাকবে। বিশেষ করে রিমোট বা দূর থেকে কার্যক্রম পরিচালনা, নিরাপত্তায় ব্যবহৃত টুল এবং এআইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে এ খাত এগিয়ে থাকবে।

প্রযুক্তি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরও ইউরোপীয় অঞ্চলের শিল্প খাতগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে থাকবে। তবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ কমার সঙ্গে অঞ্চলটিতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যয়ও গতি ফিরে পাবে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর সুইডেন, ফিনল্যান্ড এবং নরওয়েতে তথ্যপ্রযুক্তি খাত দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। মূলত দেশগুলোয় থাকা সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো ডিজিটাল উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করছে। আর এটি প্রবৃদ্ধিতে বড় প্রভাব ফেলবে। তবে রোমানিয়ার বাজার এদিক থেকে অনেকটাই নিম্নমুখী থাকবে। দেশটির উচ্চ মূল্যস্ফীতি ডিভাইসের বাজারমূল্যে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে এবং এতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যয় কমেছে।

আইডিসি ইউরোপের সিনিয়র রিসার্চ অ্যানালিস্ট জসোল্ট সাইমন বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি পণ্যের দাম কমলেও ভূ-রাজনৈতিক সংকট এবং অর্থনৈতিক মন্দাভাব চলতি বছর ইউরোপের ব্যবসায় বিরূপ প্রভাব ফেলবে। তবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এখনো সুরক্ষিত আছে এবং সব খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।’

জসোল্ট সাইমনের অভিমত, অঞ্চলটির সফটওয়্যার ও তথ্য পরিষেবা খাতে ব্যয় আকর্ষণীয়ভাবে বাড়বে। কেননা জেনারেটিভ এআইয়ের অগ্রগতি সামনের বছরগুলো ব্যয় বাড়াবে। 

বাণিজ্যিক পর্যায়ে ২০২৪ সালে তেল ও গ্যাস, সফটওয়্যার, তথ্য পরিষেবা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে বছরওয়ারি হিসেবে ব্যয় ৯ শতাংশ বাড়বে। সফটওয়্যার এবং তথ্য পরিষেবা সংস্থাগুলো ক্লাউড সলিউশন এবং এআই সরঞ্জামে প্রচুর বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে বলেও জানা গেছে। চ্যাটবট, ভাষা প্রক্রিয়াকরণ এবং কোডিংসহ বিস্তৃত ক্ষেত্রে জেনারেটিভ এআইকে গ্রহণ করা হবে। এর মাধ্যমে গ্রাহক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা অ্যাপ্লিকেশন (সিআরএম) এবং সহযোগিতামূলক সফটওয়্যারের উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়বে।

ইউরোপ যখন প্রবৃদ্ধিতে ফেরার পথে রয়েছে তখন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রযুক্তি খাতও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।  বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা ও ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অঞ্চলটি। বৈশ্বিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের তথ্যের বরাতে সিএনবিসির খবরে এ তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রুস ক্যাসম্যান জানান, প্রযুক্তি খাত পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে, যে কারণে গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এশিয়া এ খাতে ভালো অবস্থানে ছিল। 

কভিড-১৯ মহামারীর সময় বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানি ডিজিটালাইজেশনের দিকে বেশি নজর দিয়েছিল। কিন্তু এরপর ২০২২ ও ২০২৩ সালে মূল্যস্ফীতি ও সুদহার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় ভোক্তা ব্যয় বাধাগ্রস্ত হয় এবং পণ্য ক্রয়ের চাহিদাও কমে যায়। ২০২৪ সালে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর অবস্থা সম্পর্কিত এক প্রতিবেদনে এ কথা জানায় যুক্তরাজ্যের পেশাদার পরিষেবা নেটওয়ার্ক ডেলয়েট।