ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় বিভিন্ন লেখনিতে বড় পাসওয়ার্ড ব্যবহারের কথা বলা হয়। অনেকের মতে, ১৫ বা তার বেশি অক্ষরের পাসওয়ার্ড বেশি শক্তিশালী। তবে স্পেকপ্স সফটওয়্যারের জরিপ ভিন্ন কথা বলছে। তাদের মতে, হ্যাকাররা চাইলে ১৫ অক্ষরের পাসওয়ার্ডও ভাঙতে পারবে। খবর টেকটাইমস।

ক্ষতিগ্রস্ত বা হ্যাকারদের হাতে চলে যাওয়া পাসওয়ার্ড ডাটাবেজ অনুযায়ী, ৮ অক্ষরের পাসওয়ার্ড সবচেয়ে বেশিবার হামলার শিকার হয়েছে। এ ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত পাসওয়ার্ডের পরিমাণ ২১ কোটি ২৫ লাখ। আগে থেকেই প্রচলিত রয়েছে বড় পাসওয়ার্ড সবসময় অ্যাকাউন্টকে বেশি সুরক্ষিত রাখবে। তবে এটি আসলে ততটা কার্যকর নয় বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

স্পেকপ্সের সিনিয়র প্রডাক্ট ম্যানেজার ড্যারেন জেমসের বরাতে টেকরাডার জানায়, বড় পাসওয়ার্ড ব্যবহার ভালো হলেও এটি সবসময় সুরক্ষা দেবে না। জেমসের মতে, বড় পাসওয়ার্ড থাকলেই যে হ্যাকাররা আক্রমণ করবে না এমন ভাবার কারণ নেই। এটি শুধু সুরক্ষিত থাকার মাত্রা ও সময় বাড়াচ্ছে। নির্দিষ্ট সময় পর এটি ভাঙাও সম্ভব হবে।

শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরির ক্ষেত্রে বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা, বিশেষ চিহ্ন  ব্যবহারের কথা বলা হয়। এতে পাসওয়ার্ড শনাক্ত করা কঠিন হয়। ফলে হ্যাকারদের পক্ষে হয়তো তাৎক্ষণিক প্রবেশ সম্ভব হয় না। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে এটিও বেশিদিন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে না বলে অভিমত প্রযুক্তিবিদদের। অন্যদিকে বর্তমানে অনলাইন হ্যাকিং ও প্রতারণা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এ কারণে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা।

পাসওয়ার্ড ক্র্যাক করার সময়ের বিষয়ে স্পেকপ্স জানায়, আট অক্ষরের যেকোনো পাসওয়ার্ড ক্র্যাক করতে হ্যাকারদের পাঁচ মিনিট সময় লাগে। এমনকি এতে বিভিন্ন চিহ্ন থাকলেও সময়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ১৫ অক্ষরের পাসওয়ার্ড ক্র্যাক করার জন্য একজন পেশাদার হ্যাকার ৩ কোটি ৭০ লাখ বছর কাটিয়ে দিতে পারে। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে সেটি আলাদা।

গবেষণা প্রতিবেদনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সাইবার হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাসওয়ার্ড শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পরামর্শও দিয়েছেন প্রযুক্তিবিদ ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

পাসওয়ার্ডে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার না করা: অধিকাংশ মানুষই পাসওয়ার্ড তৈরির সময় পোষ্য প্রাণী বা নিজের সন্তানের নাম, জন্ম তারিখ বা মাস এগুলো ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু হ্যাকার যদি আপনার সম্পর্কে জানতে পারে তাহলে সহজেই এসব তথ্যের মাধ্যমে পাসওয়ার্ড জানতে পারবে। কমন বা প্রচলিত পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করা: ইন্টারনেট জগতে ব্যবহৃত হয়েছে বা হচ্ছে এমন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা যাবে না। সাইবারনিরাপত্তা কোম্পানি সফোস ৫০টি প্রচলিত পাসওয়ার্ডের তালিকা দিয়েছে। হ্যাকাররা এগুলো ব্যবহার করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। এর মধ্যে ১২৩৪৫৬, পাসওয়ার্ড ও কোয়ারটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত।

এক বা দুই শব্দ ব্যবহার না করা: অভিধানে থাকা এক বা দুই শব্দে কোনো পাসওয়ার্ড তৈরি করা যাবে না। কেননা হ্যাকারদের কাছে সব শব্দ স্ক্যান বা যাচাইয়ের সফটওয়্যার রয়েছে।

পাসওয়ার্ডে বিভিন্ন ক্যারেক্টার ব্যবহার: যেকোনো পাসওয়ার্ডকে শক্তিশালী করতে চাইলে বিভিন্ন কিছু ব্যবহার করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল বা আপারকেস লেটার, লোয়ার কেস লেটার, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন।

নির্দিষ্ট সময় পর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা: নির্ধারিত সময় পর পর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হলে হ্যাকার বা হামলাকারীর পক্ষে তা শনাক্ত করা কঠিন হবে।