কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) চিপ উৎপাদনের পথে হাঁটছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। বর্তমানে এআই চিপের বাজারে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এনভিডিয়া করপোরেশন। তবে নিজেদের চিপ নিজেরাই বানাতে চায় ওপেনএআই। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। 

খবরে বলা হয়, মাইক্রোসফটের মালিকানাধীন ওপেনএআই এরই মধ্যে তাদের এ টার্গেট নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি তারা। 

ব্যয়বহুল এআই চিপের ঘাটতি মোকাবেলায় গত বছর থেকেই বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে ওপেনএআই। এসব আলোচনায় নিজস্ব এআই চিপ তৈরি করা, এনভিডিয়াসহ অন্যান্য চিপ নির্মাতাদের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিটের ঘাটতি নিয়ে চ্যাটজিপিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যানের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তিনি বরাবরই এআই চিপের ওপর জোর দিয়ে আসছেন।

২০২২ সালের নভেম্বরে চ্যাটজিপিটি চালু করে ওপেনএআই। বাজারে আসতে না আসতেই এটি যে ক্যারিশমা দেখিয়েছে তাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে প্রযুক্তি দুনিয়া। তবে প্রযুক্তি–দুনিয়ায় হইচই ফেলে দিলেও চ্যাটজিপিটির কার্যক্রম পরিচালনা বেশ ব্যয়বহুল। এটির পেছনে দৈনিক খরচের পরিমাণ ৭ লাখ ডলার। বিশ্লেষক স্ট্যাসি রাসগন জানিয়েছেন, প্রতিটি প্রশ্নের জন্য কোম্পানিটির চার সেন্টের মতো খরচ হয়। কিন্তু খরচ অনুযায়ী সেভাবে আয়ের মুখ দেখছে না তারা। 

মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে শিক্ষকতা করছেন অধ্যাপক টম গোল্ডস্টেইন। তিনি বলেন, ‘‌বর্তমানে যেসব মডেল দেখা যাচ্ছে, এগুলো যতই চমকপ্রদ হোক না কেন, এ মডেলগুলো এখনো তাদের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারেনি।’ এমন কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও রিটেইল পরিষেবায় চ্যাটবটের ব্যবহার গত কয়েক বছরে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রহণ করে নিচ্ছে উদীয়মান এ প্রযুক্তিকে। মূলত এমন বাস্তবতা মাথায় রেখেই ব্যয় সংকোচনে নিজস্ব এআই চিপ তৈরির দিকে ঝুঁকছে ওপেনএআই।