গত বছর ভারতের ডেস্কটপ, নোটবুক ও ট্যাবলেটের বাজার খুব বেশি প্রবৃদ্ধিতে না থাকলে চতুর্থ প্রান্তিকে ডেস্কটপ বিক্রি ২৭ শতাংশ বেড়েছিল। তবে চলতি বছর এ খাতে ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে এশিয়ার দেশটি। সম্প্রতি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যানালিসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ডেস্কটপ, নোটবুক ও ট্যাবলেট এ তিন ক্যাটাগরিতে ট্যাবলেট ডিভাইসের বিক্রি ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্যানালিসের একজন বিশ্লেষক আশউইজ আইথাল বলেন, ‘২০২৩ সালের শেষ দিকে ভারতে কম্পিউটার পণ্যের মজুদ বেড়ে গিয়েছিল। আমদানিসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার ভয়ে পণ্য সরবরাহের চাহিদাও বেড়ে যায়। বর্তমানে সরকার এসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে। আর এ কারণে মজুদকৃত পণ্য বিক্রিতে ভেন্ডররা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।’

সরকারি পর্যায়ে গৃহীত উদ্যোগের কারণে টানা দুই প্রান্তিক ধরে ভারতে কম্পিউটার পণ্য বিক্রি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে চলতি বছর সব গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রি বাড়বে এবং বাজার পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বছর ছুটির মৌসুমে কম্পিউটার পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ভোক্তা ব্যয় ইতিবাচক পর্যায়ে ছিল। বাণিজ্যিক পর্যায়ে ব্যয় কিছুটা কম থাকলেও বর্তমানে তা বাড়ছে। ক্যানালিসের প্রত্যাশা ভোক্তা ও ব্যবসায়িক দুই পর্যায়েই চলতি বছর দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। এর মধ্যে ভারতে কম্পিউটার বাজার বছরওয়ারি হিসেবে ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখতে পাবে। ২০২৫ সালে এর হার থাকবে ১৫ শতাংশ।

বিশ্লেষক আইথাল বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) ও অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে উৎপাদিত কম্পিউটার চলতি বছর বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখবে। এছাড়া উইন্ডোজ ১০ থেকে ১১-তে স্থানান্তরের কারণে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নতুন কম্পিউটার পণ্যের চাহিদা বাড়বে।’

উৎপাদনের দিক থেকে অধিকাংশ কোম্পানি স্থানীয় পর্যায়ে মনোযোগ বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। ভারত সরকারের প্রণোদনা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২৭টির বেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে অনুমোদন পেয়েছে।

অন্যদিকে আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যয় ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে, অর্থাৎ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যয় ১১ শতাংশ বাড়বে।

আইডিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যয় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ চক্রাকার বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হারে সম্প্রসারণ হবে। এ অনুসারে, ২০২৭ সাল নাগাদ ৫ হাজার ৯০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এতে আরো দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে এআই প্রযুক্তিতে ব্যয় চলতি বছর ৩৫ শতাংশ বাড়বে এবং জেনারেটিভ এআইয়ের ক্ষেত্রে ব্যয় ১৬০ শতাংশ বাড়বে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চলতি বছর মূল আলোচনায় থাকলেও আগামী কয়েক বছরে এর পরিধি আরো বাড়বে। প্রযুক্তিবিশারদদের মতে, আগামী কয়েক বছর তথ্যপ্রযুক্তির সব খাতে বিনিয়োগের দিক থেকে জেনআই এগিয়ে থাকবে। চলতি বছর এআইয়ের ব্যবহার শুরু হলেও সামনের বছরগুলোয় পুরো প্রযুক্তি খাতেই আমূল পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদী বিশ্লেষকরা।

আইডিসির গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতে জেনারেটিভ এআইতে ব্যয় চলতি বছর ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৭ সালের মধ্যে ২৬ শতাংশ হবে, যা ১০১ দশমিক ৬ শতাংশ চক্রাকার বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হারে বাড়বে। এর আগে পূর্বাভাস করা হয়েছিল, ২০২৩ সালে ভারতে এআই বাজার ১৭০ কোটি ডলারে পৌঁছবে। ইন্ডিয়া সিআইও সামিট ২০২৪-এ উপস্থাপিত গবেষণা অনুসারে, সফটওয়্যার বাজার আগামী তিন বছরে ধারাবাহিকভাবে দ্বিগুণ প্রবৃদ্ধি দেখবে বলে পূর্বাভাস করা হয়েছে।