তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দ্রুত এগোচ্ছে ভারত। ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালুর পর দেশটিতে ওয়্যারলেস বা মোবাইল ডাটা ব্যবহারও বাড়ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ খাত থেকে দেশটির রাজস্ব ২২ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৭৪ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে।

ভারতের টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি (টিআরএওয়াই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তথ্যানুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে এ খাত থেকে রাজস্বের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৩ হাজার কোটি রুপি।

টিআরএওয়াইয়ের টেলিকম সার্ভিসেস পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরে ওয়্যারলেস ডাটা ব্যবহারের খাত থেকে ভারতের ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৬৯ কোটি রুপি রাজস্ব আয় হয়েছিল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা ২১ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৪৪ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে।

ওয়্যারলেস ডাটা খাতে রাজস্ব বাড়ার পেছনে টেলিকম খাতে ব্যবহারকারী বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ২০২২ সালের অক্টোবরে ফাইভজি পরিষেবা চালু করা হলেও এখনো সেটিকে মনিটাইজেশনের আওতায় আনা হয়নি। টেলিকম পরিষেবা খাতসংশ্লিষ্টরা ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি রুপি আয় করেছে, যেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়ে ৩ লাখ ৩৩ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছেছে।

লাইসেন্স ফির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় ১৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১৯ হাজার ৯৫৪ কোটিতে পৌঁছেছে। এক বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৬২৭ কোটি রুপি। অন্যদিকে স্পেক্ট্রাম ব্যবহার বাবদ বার্ষিক ফি এক-তৃতীয়াংশ বা ২৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমে ২০২৩ অর্থবছরে ৪ হাজার ৯৬৮ কোটি রুপিতে নেমে এসেছে। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৭২ কোটি রুপি। গত অর্থছরে টেলিফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১১৬ কোটি ৬৯ লাখ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে ১১৭ কোটি ২০ লাখে পৌঁছেছে। 

শহরাঞ্চলে টেলিফোন সাবস্ক্রিপশন বা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ শতাংশ বেড়ে ৬৫ কোটি ৩৭ লাখে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু টেলি ডেনিসিটি বা প্রতি হাজার মানুষের মধ্যে টেলিফোন ব্যবহারের হার দশমিক ৮৪ শতাংশ কমে ১৩৩ দশমিক ৮১ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে গত বছর এর হার ছিল ১৩৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ। প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুটির হারই কমেছে।

ওয়্যারলেস ডাটা খাতে ভারতে রাজস্ব যেমন বেড়েছে, সেই সঙ্গে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রযুক্তি খাত। বৈশ্বিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান এ কথা জানিয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রুস ক্যাসম্যান জানান, প্রযুক্তি খাত পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে, যে কারণে গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এশিয়া এ খাতে ভালো অবস্থানে ছিল। চীনসহ উত্তর এশিয়া এ খাতে ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

কভিড-১৯ মহামারীর সময় বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানি ডিজিটালাইজেশনের দিকে বেশি নজর দিয়েছিল। কিন্তু এরপর ২০২২ ও ২০২৩ সালে মূল্যস্ফীতি ও সুদহার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় ভোক্তা ব্যয় বাধাগ্রস্ত হয় এবং পণ্য ক্রয়ের চাহিদাও কমে যায়। ২০২৪ সালে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর অবস্থা সম্পর্কিত এক প্রতিবেদনে এ কথা জানায় যুক্তরাজ্যের পেশাদার পরিষেবা নেটওয়ার্ক ডেলয়েট। 

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে প্রযুক্তি খাত পুনরুদ্ধার হওয়ার ক্ষেত্রে নতুন আশা দেখা দিয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মন্দার ঝুঁকিহার কমিয়েছেন। পাশাপাশি বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন চলতি বছর বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাত প্রবৃদ্ধিতে ফিরবে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ উৎপাদনকারীদের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে এবং প্রযুক্তি খাত পুনরুদ্ধারে সহায়তা করছে।