সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরিতে আরো শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছতে কারখানা নির্মাণ ও পরিধি বাড়াচ্ছে ইন্টেল। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি প্রদেশে আরো ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিটি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, কোম্পানিটি এরই মধ্যে ফেডারেল অনুদান ও ঋণ হিসাবে ১ হাজার ৯৫০ কোটি ডলার তহবিল পেয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, কর মুক্তির মাধ্যমে আরো আড়াই হাজার কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে ইন্টেল।

আগামী পাঁচ বছরে এ বিনিয়োগ করবে ইন্টেল। এর মাধ্যমে ওহাইওর কলম্বাসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এআই চিপ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের কথা জানিয়েছেন কোম্পানির সিইও প্যাট গেলসিঙ্গার। ২০২৭ সাল নাগাদ এর কার্যক্রম শুরুর কথা। অন্যদিকে চলতি সপ্তাহে চিপস অ্যাক্টের অধীনে ইন্টেলকে ফেডারেল তহবিল দেয়া হয়েছে বলে জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

নিউ মেক্সিকো ও অরিগনের উৎপাদন কেন্দ্র সংস্কারের পরিকল্পনাও নিয়েছে ইন্টেল। পাশাপাশি অ্যারিজোনায়ও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিও (টিএসএমসি) সেখানে বড় কারখানা স্থাপন করছে বলে জানা গেছে। কোম্পানিটির কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত চিপ তৈরিতে বাইডেন প্রশাসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অর্থায়ন পাবেন তারা।

প্রযুক্তিবিশারদদের মতে, বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে ইন্টেলের ব্যবসা অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে পাওয়া এ তহবিলের মাধ্যমে কোম্পানিটি দ্রুত ব্যবসা পুনরুদ্ধার করতে পারবে। কয়েক দশকেরও বেশি সময় ধরে দ্রুতগতির ও ছোট আকারের সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে ইন্টেল এগিয়ে ছিল। প্রিমিয়াম ক্যাটাগরিতে প্রসেসর বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানি ভালো মুনাফা করেছে এবং গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু ২০১০ সালে টিএসএমসির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে ইন্টেল।

২০২১ সালে এক ঘোষণায় গেলসিঙ্গার ইন্টেলকে চিপ উৎপাদনে শীর্ষে নিয়ে আসার ঘোষণা দেন। তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তার সরকারি সহায়তা প্রয়োজন বলেও জানান। প্রযুক্তিবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, ইন্টেল ফেডারেল তহবিল থেকে যে অর্থ পেয়েছে সেটি এ লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে। গেলসিঙ্গার জানান, পরিকল্পনার ১০ হাজার কোটি ডলারের মধ্যে ৩০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হবে নির্মাণ খাতে। অন্যদিকে এএসএমএল, টোকিও ইলেকট্রন, অ্যাপ্লায়েড ম্যাটারিয়াল অ্যান্ড কেএলএর কাছ থেকে চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত টুল কিনতে বাকি অর্থ ব্যয় হবে। এসব টুলের সহায়তায় ২০২৭ বা ২০২৮ সাল নাগাদ ওহাইওর কারখানা চালু হবে বলে জানা গেছে। তবে গেলসিঙ্গার সময় পেছানোর সতর্কবার্তাও দিয়েছেন।

সামিট ইনসাইটসের এক বিশ্লেষক কিনগাই চান বলেন, ‘ফাউন্ড্রি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানি হিসেবে জায়গা তৈরি করতে ইন্টেলের তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে।’ তবে এ সময়ের মধ্যে টিএসএমসি শীর্ষে থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

গেলসিঙ্গার জানিয়েছিলেন, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রকে শীর্ষে নিয়ে আসতে হলে চিপ খাতে দেশটিকে দ্বিতীয় দফায় অর্থায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় পর এ খাতে শীর্ষ অবস্থান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই চিপস অ্যাক্টের অধীনে তিন থেকে পাঁচ বছর বিনিয়োগ করলেই আগের অবস্থান ফিরে আসবে না।’

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিসের সিইও বেন বাজারিন বলেন, ‘ফেডারেলের অর্থায়ন থাকলেও তাইওয়ান ও কোরিয়ার কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ইন্টেলের সক্ষমতার বিষয় এখনই তুলে ধরতে হবে।’