প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বিরোধ বৈশ্বিক চিপ খাতকে প্রভাবিত করছে। ফলে এ খাতের প্রবৃদ্ধি অনেকটাই বাধার সম্মুখীন হবে। সম্প্রতি তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির (টিএসএমসি) প্রতিষ্ঠাতা মরিস চ্যাং এ কথা জানান। খবর রয়টার্স।
১৯৮০-এর দশকে টিএসএমসি প্রতিষ্ঠা করেন চ্যাং। সম্প্রতি নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অলাভজনক সংস্থা এশিয়া সোসাইটি। সেখানে চ্যাং জানান, তাইওয়ানকে চিপ উৎপাদনে বিশ্বের অন্যতম দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তার কোম্পানি ভূমিকা রাখছে।
হুয়াওয়ে গত মাসে চীনের স্থানীয় চিপ দিয়ে তৈরি স্মার্টফোন উন্মোচনের পর এ মাসের শুরুতে চিপ ও চিপ তৈরির কাঁচামাল রফতানিতে চীনের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ৯২ বছর বয়সী চ্যাং বলেন, ‘চিপ শিল্পে চীনকে একঘরে করে ফেললে এর প্রভাব অন্যান্য দেশের ওপরও পড়বে।’
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এমন নিষেধাজ্ঞার কারণে সব পক্ষেরই কাজের গতি কমে আসবে। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য চীনকে ঠেকানো। আমার মনে হয় না এটি তেমন কাজে লাগছে।’
চ্যাং আরো বলেন, ‘এমন একঘরে করে ফেলার বিষয়টি এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর আগে বিভিন্ন উদীয়মান পরাশক্তির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী সময়ে যুদ্ধে রূপ নিতেও দেখা গেছে।’
চ্যাংয়ের মতে, বিভিন্ন দেশ হয়তো একে অন্যের ওপর নারাজ। আর এটি তাইওয়ানের জন্যও ভয়ের কারণ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশ দুটোকে যথাক্রমে পরাশক্তি ও উদীয়মান বলে আখ্যা দিয়েছেন চ্যাং। তিনি বলেন, ‘আমাদের একমাত্র আশা, এমন উত্তেজনা যেন গুরুতর রূপ না নেয়।’
আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশংসা করেন চ্যাং। এর পাশাপাশি অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে টিএসএমসির কারখানা তৈরির বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। চ্যাংয়ের জন্ম ও কৈশোর চীনে কাটলেও তিনি ক্যারিয়ার গড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। তাইওয়ানে চিপ কোম্পানি চালুর আগেই ১৯৬২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান তিনি। বর্তমানে তাকে দেখা হয় চিপ শিল্পের এমন এক কিংবদন্তি হিসেবে, যিনি দুই দেশের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আটকা পড়েছেন।
অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতে চীনের আধিপত্য রোধে দীর্ঘদিন থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে দেশটিতে চিপ তৈরির সরঞ্জাম রফতানিতে আরো বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। এ নিয়ে আলোচনা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এমনটি জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বজুড়ে চিপ তৈরির উপকরণের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও জাপান। চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশ তিনটি চীনের কাছে এসব উপকরণ রফতানি সীমিত করতে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিদেশী প্রযুক্তিনির্ভরতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বেইজিং। দেশীয় কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় সফটওয়্যার ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে দেশেই চিপ উৎপাদনের ওপর।
রয়টার্স জানিয়েছে, চীনে সেমিকন্ডাক্টর সরঞ্জাম ও উন্নত এআই চিপের চালান সীমিতের বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছে মার্কিন কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, নতুন আপডেটে আরো বিধিনিষেধ যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে আগের বিধিনিষেধগুলোয় যেসব ফাঁকফোকর ছিল সেগুলোও বন্ধ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রথম এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে ২০২২ সালের ৭ অক্টোবর। এটিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের ওপর ক্ষুব্ধ হয় বেইজিং। এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো অবনতি হয়।










