সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক স্মার্টফোন খাতের আয় ১০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু বছরওয়ারি হিসাবে আয় সেভাবে বাড়েনি। খবর ইকোনমিক টাইমস।

চলতি সপ্তাহের বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আয়ের দিক থেকে ৪৩ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে শীর্ষে অ্যাপল। গবেষণা সংস্থাটির মতে, তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাবে এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এ বিষয়ে কাউন্টারপয়েন্ট জানায়, আগের ভার্সনগুলোর তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে আইফোন ১৫ সিরিজ বাজারে এক সপ্তাহ পর এসেছে। কিন্তু তার পরও এর প্রভাবে অ্যাপলের বাজার হিস্যা বেশি ছিল। এর মাধ্যমে সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিকে অ্যাপল বৈশ্বিকভাবে সবচেয়ে বেশি আয় করা স্মার্টফোন কোম্পানির জায়গা দখল করেছে।

কুপারটিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটি তৃতীয় প্রান্তিকে ৮ হাজার ৯৫০ কোটি ডলার আয়ের কথা জানিয়েছে। আগের বছরের তুলনায় যা ১ শতাংশ কম। আইফোন বিক্রির মাধ্যমেই কোম্পানিটি ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার আয় করেছে। কাউন্টারপয়েন্টের প্রবীণ বিশ্লেষক হারমিত সিং ওয়ালিয়া জানান, আইফোন ১৫ সিরিজের মধ্যে প্রো ম্যাক্স ভার্সন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি সবচেয়ে বেশি আয় করতে পেরেছে। কিন্তু হুয়াওয়ে ও অনার পুনরায় বাজারে প্রবেশ করায় বিশ্ববাজারে কোম্পানিটির মুনাফা কম ছিল। এছাড়া চীনের অরিজিনাল ইকুইপমেন্ট উৎপাদনকারীরা মুনাফার দিকে মনোযাগ বাড়িয়েছে।

ওয়ালিয়া জানান, বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনে খাতের মুনাফা সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে একটি জিনিস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সেটি হলো কভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী স্মার্টফোনের নিম্নমুখী চাহিদার মধ্যে কীভাবে খাতটি খাপ খাইয়ে নিয়েছে। 

অন্যদিকে ফোল্ড ৫ ডিভাইস বাজারে আনার মাধ্যমে স্যামসাংয়ের গড় বিক্রি মূল্য আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। এস২৩ সিরিজের সঙ্গে এটি ফ্ল্যাগশিপ ক্যাটাগরিতে ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির সেলফোন বিক্রি ৮ শতাংশ কমেছে। কাউন্টারপয়েন্টের তথ্যানুযায়ী, এর ফলে স্যামসাংয়ের আয় বার্ষিক হারে ৪ শতাংশ কমেছে।

তৃতীয় প্রান্তিকে গড় বিক্রি মূল্য বেশি এমন ডিভাইসে নজর ছিল অপোর। সেদিক থেকে চীনের বাজারে কোম্পানিটির সবচেয়ে বেশি বিক্রীত ডিভাইস ছিল ফাইন্ড এন২ ফ্লিপ। এ ডিভাইসের মাধ্যমে অপো মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। কিন্তু কোম্পানিটি চীন ও ভারতের বাইরে সেলফোনের বাজার বাড়াতে পারেনি। যে কারণে কোম্পানিটির সেলফোন বিক্রিও কমেছে। এমনকি মহামারীর পর চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে অপোর মুনাফা ছিল সবচেয়ে কম। এদিকে ভিভো মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলেও চীনের বাজারে চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। মূলত হুয়াওয়ে ও শাওমির প্রচারণার কাছে কোম্পানি পিছিয়ে। বছরওয়ারি হিসাবে ভিভোর মুনাফা ১২ শতাংশ কমেছে।

শীর্ষ পাঁচটি স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের মধ্যে শুধু শাওমির ডিভাইস বিক্রি বেড়েছে। চীন ও ভারতের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার মাধ্যমে এ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে কোম্পানিটি। ভোক্তা ও রিটেইলার পর্যায়ে মিডরেঞ্জ ও সাশ্রয়ীমূল্যের ডিভাইস বাজারজাতের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে।

কাউন্টারপয়েন্টর ভাষ্য, তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের স্মার্টফোন বাজারে ৩ শতাংশ অবনমন হয়েছে। এ সময় দেশটিতে অ্যাপলের আয় ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। মূলত হুয়াওয়ের ফাইভজি ডিভাইসের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণে আয়ে প্রভাব পড়েছে।