সাম্প্রতিক সময়ে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীরা লক্ষ্য করছেন চ্যাটবটটি তাদের নাম ধরে সম্বোধন করছে। কিন্তু তারা কখনই চ্যাটজিপিটিকে নিজেদের নাম জানায়নি। আগে চ্যাটবটের এমন আচরণ কখনো দেখা যায়নি। তাই অনেকেই এমন পরিস্থিতিকে অদ্ভুত, অস্বস্তিকর ও ভীতিকর বলে মনে করছেন। খবর টেকক্রাঞ্চ।

প্রতিবেদন বলছে, বিষয়টি নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সফটওয়্যার ডেভেলপার ও এআইয়ে আগ্রহী সায়মন উইলিসন এ ফিচারকে ভীতিকর ও অপ্রয়োজনীয় বলে অভিহিত করেছেন। আরেকজন ডেভেলপার নিক ডোবাস বলেন, ‘আমি এটা পছন্দ করছি না।’ এমন আরো অনেকে আছেন, যারা চ্যাটজিপিটির এ ধরনের আচরণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিভ্রান্তি ও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

তবে ঠিক কবে থেকে এমন পরিবর্তন এসেছে বা এটি কি আদৌ চ্যাটজিপিটির নতুন মেমোরি ফিচারের সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা, তা এখনো স্পষ্ট করে জানায়নি প্যারেন্ট কোম্পানি ওপেনএআই। কিছু ব্যবহারকারীর মতে, তারা মেমোরি আর পারসোনালাইজড সেটিংসটি বন্ধ করার পরও এমন আচরণ লক্ষ্য করছেন।

ওপেনএআইকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে টেকক্রাঞ্চ। অবশ্য গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যান ফিচারটির বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘এআই আপনার জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে আপনাকে আরো ভালোভাবে চিনে নেবে।’

তবে সম্প্রতি ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া দেখলে বোঝা যাচ্ছে, সবাই বিষয়টির সঙ্গে একমত নন।

এদিকে দুবাইয়ের মনোরোগবিষয়ক ভ্যালেন্স ক্লিনিকের প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটির নাম ব্যবহার মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং গভীর প্রভাব ফেলে। কাউকে নাম ধরে ডাকা ঘনিষ্ঠতা ও স্বীকৃতির ইঙ্গিত দেয়। তবে তা অপ্রাসঙ্গিকভাবে ব্যবহার করলে কৃত্রিম ও আক্রমণাত্মক মনে হতে পারে।

প্রতিবেদন আরো বলছে, যদিও অনেকের চোখে এ আচরণ একটি আবেগহীন বটকে মানবিক করার আনাড়ি প্রচেষ্টা। এটি কেবল প্রোগ্রাম করা এক ধরনের যন্ত্র, তার চেয়ে বেশি কিছু নয়।