তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম একটি অংশ ক্লাউড পরিষেবা। বছরওয়ারি হিসেবে ২০২৩ সালে এ খাতে ব্যয় ১৮ শতাংশ বেড়ে ২৯ হাজার ৪০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যেখানে ২০২২ সালে এর পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলার।
চতুর্থ প্রান্তিকেই (২০২৩) বছরওয়ারি হিসেবে এ খাতে ব্যয় ১৯ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৮১০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। সম্প্রতি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যানালিস প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ক্লাউড পরিষেবা বাজারে এন্টারপ্রাইজ আইটি অপ্টিমাইজেশনের প্রভাব ক্রমেই কমছে। এর বিপরীতে আরো বেশি গ্রাহক হাইপারস্কেলারদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। নতুন চাহিদার পাশাপাশি ক্লাউড মাইগ্রেশন প্রচেষ্টাও বাড়ছে। বিশেষ করে এআই অ্যাপ্লিকেশন গ্রহণের হার বাড়ায় এ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
হাইপারস্কেলাররা ক্রমাগত জেনারেটিভ এআইতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। তাদের আশা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলে নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি হবে। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে ক্যানালিসের প্রত্যাশা, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক পর্যায়ে ক্লাউড অবকাঠামো পরিষেবা খাতের ব্যয় ২০ শতাংশ বাড়বে।
২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস), মাইক্রোসফট অ্যাজুর ও গুগল ক্লাউডের বাজার সম্মিলিতভাবে ২১ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া এ সময় বৈশ্বিক পর্যায়ে মোট ব্যয়ের ৬৬ শতাংশই ছিল কোম্পানি তিনটির দখলে। চতুর্থ প্রান্তিকে মাইক্রোসফট অ্যাজুর ও গুগল ক্লাউড ভালো আয় করেছে। সম্মিলিতভাবে কোম্পানি দুটির ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছাড়িয়ে গেছে। ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাজারের শীর্ষে উঠে এসেছে মাইক্রোসফট।
বাজারের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে এডব্লিউএস আগের প্রান্তিকের তুলনায় ভালো অবস্থানে থাকলেও বছরওয়ারি হিসেবে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা অ্যাজুর ও গুগলের তুলনায় কম। ক্যানালিসের বিশ্লেষক ই ঝ্যাং বলেন, ‘এআইয়ের অগ্রগতির ক্ষেত্রে অন্য প্রতিযোগীদের তুলনায় এডব্লিউএস পিছিয়ে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মূল সফটওয়্যার পণ্যগুলোয় জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো এগিয়ে যাচ্ছে।’ সম্প্রতি জিমেইল, ডকসসহ বিভিন্ন ওয়ার্কস্পেস পরিষেবায় জেমিনি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল যুক্ত করেছে গুগল। একই সময়ে মাইক্রোসফট ৩৬৫-এর জন্য কোপাইলট চালু করা হয়েছে। আর এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা উন্নয়নে এআইয়ের গুরুত্ব প্রকাশ্যে আসছে।
২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ব্যয়ের দিক থেকে ক্লাউড অবকাঠামো পরিষেবা বাজারের শীর্ষে ছিল এডব্লিউএস। মোট ব্যয়ের ৩১ শতাংশই ছিল কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। কয়েক প্রান্তিক ধরে কোম্পানির আয় নিম্নমুখী থাকলেও বছর শেষে পুনরুদ্ধারের পথে ছিল এডব্লিউএস।
ক্লাউড পরিষেবা প্রদানে দ্বিতীয় বৃহত্তম কোম্পানি হচ্ছে মাইক্রোসফট অ্যাজুর। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে কোম্পানির বাজার হিস্যা বেড়ে ২৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এআই-নির্ভরতার কারণে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে। বর্তমানে ওপেনএআইয়ের জিপিটি-ফোর টার্বু, জিপিটি ফোর উইথ ভিশন ও ডাল-ইথ্রিসহ সব কয়টি মডেলের সাপোর্ট দিচ্ছে অ্যাজুর।
গত বছরের শেষ প্রান্তিকে ক্লাউড পরিষেবা খাতে তৃতীয় অবস্থানে ছিল গুগল ক্লাউড। এআইয়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিষেবা দেয়ায় চতুর্থ প্রান্তিকে গুগল ক্লাউডের বাজার বাড়তে থাকে। গুগলের আশা, জেমিনি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের মাধ্যমে এআই খাতে কোম্পানিটি শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে পারবে। সার্বিক বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে ক্যানালিসের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি ও সামনের বছরগুলোয় ক্লাউড পরিষেবা খাতে এন্টারপ্রাইজ ও গ্রাহক ব্যয় আরো বাড়বে।










