যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস) জানিয়েছে, মাইক্রোসফটের কাছে ২৮ কোটি ৯ লাখ ডলার বকেয়া রয়েছে। ২০০৪-১৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ ও বিচার ব্যবস্থার মধ্যে প্রযুক্তি জায়ান্টটি কীভাবে তার মুনাফা বরাদ্দ করেছিল তা নিয়ে একটি বিস্তৃত আইআরএস তদন্ত থেকে এ দাবিটি উত্থাপিত হয়েছে। খবর এপি। 

ট্রান্সফার প্রাইসিং নামে পরিচিত এ পদ্ধতিটির সমালোচকরা যুক্তি দেখান যে এটি কোম্পানিগুলোকে উচ্চ কর অঞ্চলে কম মুনাফা প্রতিবেদন দেখায় এবং কম-কর অঞ্চলে উচ্চ মুনাফা প্রতিবেদন দেখিয়ে থাকে।

ওয়াশিংটনের রেডমন্ডে অবস্থিত মাইক্রোসফটের প্রধান কার্যালয় জানিয়েছে যে তারা আইআরএস আইন মেনে চলে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ট্যাক্স কাট অ্যান্ড জবস অ্যাক্ট’-এর অধীনে আইআরএসের দাবির ভিত্তি নেই। এ তথ্য প্রকাশের পর মাইক্রোসফটের শেয়ারগুলো সামান্য পতনের সম্মুখীন হয়েছে।

আইআরএস ২০০৭ সালে মাইক্রোসফট কোম্পানির জন্য অডিট শুরু করে। সম্প্রতি মাইক্রোসফট আইআরএসের কাছ অডিট শেষ হওয়ার নোটিস পেয়েছে। এবার বকেয়া অর্থ নিষ্পত্তির জন্য একটি নতুন ধাপ শুরু হয়েছে।

আইআরএস তদন্তে ২০০৫ সালে পুয়ের্তো রিকোতে মাইক্রোসফটের একটি কারখানার ওপর নজর আসে। আইআরএস অভিযোগ করেছে মাইক্রোসফট পুয়ের্তো রিকোর অনুমোদিত সংস্থার সঙ্গে ‘কস্ট শেয়ারিং’ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য অ্যাকাউন্টিং ফার্ম কেপিএমজিকে ব্যবহার করেছিল। যার কারণে করযোগ্য রাজস্ব যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাহিরে নেয়া হয়। 

এক ব্লগ পোস্টে মাইক্রোসফটের বিশ্বব্যাপী কর ও কাস্টমস বিষয়ক করপোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড গফ জানান, অডিটের আওতাভুক্ত সময়ের পর থেকে কোম্পানিটি তার করপোরেট কাঠামো এবং অনুশীলনগুলো পরিবর্তন করেছে। আর  বড় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে ‘কস্ট শেয়ারিং’ নামে পরিচিত ব্যয়-ভাগাভাগি ব্যবস্থার ব্যবহার অস্বাভাবিক নয়। গফ আরো জানান, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত ২০১৭ সালের কর আইনের ফলে প্রদত্ত ট্যাক্সের কারণে আইআরএসের চাহিদা সম্ভবত ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত  কমতে পারে। আইআরএসের দাবির সঙ্গে দ্বিমত করে সেটিকে কঠোরভাবে চ্যালেঞ্জ জানানোর কথা বলেছে কোম্পানিটি।