সংস্কৃতি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর বেশকিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এরই অংশ হিসেবে সংস্কৃতির বিকাশ ও বিকেন্দ্রীকরণে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের আটটি বিভাগীয় শহরে কর্মশালাভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণে উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঢাকার ও ঢাকার বাইরের সৃজনশীল তরুণ প্রজন্ম যুক্ত হবে এবং দেশবরেণ্য ও মেধাবী চলচ্চিত্রকারদের কর্মশালায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণ বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করবে।
এ উদ্দেশ্যে গত ডিসেম্বরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি সার্চ কমিটি গঠিত হয়। এ সার্চ কমিটির লক্ষ্য ছিল আটজন চলচ্চিত্রকার নির্বাচন করা, যারা ২০২৫ সালে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে চলচ্চিত্রবিষয়ক কর্মশালা পরিচালনা করবেন এবং কর্মশালায় প্রশিক্ষিত জনবল নিয়ে আটটি চলচ্চিত্র তৈরি করবেন। পরিশেষে সে সার্চ কমিটি খুঁজে বের করেছে উপযুক্ত আট নির্মাতাকে।
এ নির্বাচিত নির্মাতারা হচ্ছেন অনম বিশ্বাস, হুমায়রা বিলকিস, নুহাশ হুমায়ুন, শঙ্খ দাশগুপ্ত, শাহীন দিল রিয়াজ, রবিউল আলম রবি, তাসমিয়াহ আফরিন মৌ ও মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম। সিনেমা নির্মাণের আগে এ আট নির্মাতার কাজ হবে আট বিভাগজুড়ে প্রডাকশন ওরিয়েন্টেড ফিল্মমেকিং ওয়ার্কশপ করা। এ সিনেমাগুলোয় সহকারী পরিচালক হিসেবে হাতেকলমে কাজ শেখার সুযোগ পাবেন ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচিত আট পরিচালকের একজন তাসমিয়াহ আফরিন মৌ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মূলত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে সামনে রেখে প্রোগ্রামটি নেয়া হয়েছে। কিন্তু এমন নয় যে এখানে শুধু শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বা জুলাই অভ্যুত্থানকে ঘিরেই কথা বলা হচ্ছে। এখানে আমাদের মূল ফোকাস থাকবে এত বছর যে ধরনের গল্প বলতে পারিনি, সে জায়গা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে সিনেমার মাধ্যমে সময়ের কথা বলা।’
সিনেমা নির্মাণের প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকে একটি করে মাঝারি দৈর্ঘ্যের সিনেমা বানাব। যার দৈর্ঘ্য হবে ৪০ মিনিট বা তার কমবেশি। এর আগে আমরা দেশব্যাপী ওয়ার্কশপ করব। আটজন নির্মাতা আটটি বিভাগে যাবেন। তারপর সে বিভাগ থেকে ১০ জন করে ফিল্মমেকারকে হাতেকলমে কাজ শেখানো হবে। তারা নির্মাণে অংশ নিতে পারবেন।
এ উদ্যোগ আগামী দিনে সিনেমার জন্য ভালো দিক বয়ে আনবে বলে মনে করি। নির্বাচিত আট পরিচালকের মধ্যে রয়েছেন শঙ্খ দাশগুপ্ত। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রিমেম্বারিং মুনসুন রেভল্যুশন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একটি চমৎকার উদ্যোগ। আমরা অনেক বছর ধরেই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে কখনো ফিল্ম নিয়ে কোনো পদক্ষেপ দেখিনি। তাই আমি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভাইকে ধন্যবাদ জানাই এমন পদক্ষেপ নেয়ায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে সামনে এগিয়ে নেয়ার ফিল্ম একটা গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ফারুকী ভাইয়ের পদক্ষেপটা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে। বিভাগ ও জেলা শহরগুলোয় নতুন প্রজন্মের মেধাবীরা এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উঠে আসতে পারবে, এটি নিয়ে আমি খুব আনন্দিত।’










