ব্রিটিশ অভিনেত্রী কিরা নাইটলি। অভিনয় করেছেন ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, ‘অ্যাটনমেন্ট’, ‘আনা কারেনিনা’, ‘বেন্ড ইট লাইক বেকহ্যাম’, ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’-এর মতো সিনেমায়। সম্প্রতি তিনি জানালেন, অভিনয়ের শুরুর দিনগুলোর একদিন তাকে পাপারাজ্জিদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। সেই সময় আলোকচিত্রীরা দিনের পর দিন তার বাড়ির সামনে অবস্থান করত এবং তাকে উত্তেজিত করার জন্য নানা অপশব্দ ব্যবহার করত।
যুক্তরাজ্যের দ্য টাইমসের সঙ্গে এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে কিরা জানান, এ রকম অনেক ঘটনাই ঘটে থাকে অভিনেত্রীদের সঙ্গে। প্রায়ই ট্যাবলয়েডগুলো লিঙ্গবৈষম্যমূলক ও অবমাননাকর প্রতিবেদন প্রকাশ করে অভিনেত্রীদের নিয়ে। কিরা বলেন, ‘আমার মনে আছে, একদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেখি, আমার দরজার সামনে ১০ জন লোক দাঁড়িয়ে আছে। তারা প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেখানেই ছিল। আমি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। আমি কেবল সেটা লুকাতে পেরেছিলাম।’
নানা সময়ই দেখা যায়, সাংবাদিক ও আলোকচিত্রীরা অভিনেত্রীদের মনোযোগ পাওয়ার জন্য নানা ধরনের শব্দ প্রয়োগ করে। এ নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ সময়ই তারা ‘‘বেশ্যা’’ শব্দটি ব্যবহার করত। বিশেষ করে যখন আমি কারো সঙ্গে থাকতাম, তখন এটা করত। আমার সঙ্গে প্রেমিক, ভাই বা বাবা থাকলেও এটা করত। তারা আসলে তাদের উত্তেজিত করে প্রতিক্রিয়া পাওয়ার চেষ্টা করত, যেন কেউ ওদের ঘুষি মারে, তাহলে তারা মামলা করতে পারবে।’
চিত্রগ্রাহকদের ফাঁকি দিতে নাইটলি একসময় দুটি অ্যাপার্টমেন্টে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে থাকতেন। কিন্তু পরে সে পরিকল্পনাও ভেস্তে যায়, কারণ কিছু পাপারাজ্জি ঠিক তার অ্যাপার্টমেন্টের উল্টো পাশে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়, ফলে তিনি আর সহজে বেরোতে পারতেন না।
কিরা জানান, তিনি এ সময় একটা বিচিত্র অনুভূতির মধ্যে থাকতেন। তার মনে হতো কেউ না কেউ তাকে অনুসরণ করছে। এক পর্যায়ে নাইটলি ‘নির্বিকার প্রতিরোধ’ কৌশল বেছে নেন। তিনি একই পোশাক বারবার পরতেন আর নড়াচড়া করতেন না, যাতে তোলা ছবি একঘেঁয়ে ও বিরক্তিকর হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ‘আমি আমার সব পোশাক দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর যখন বুঝতাম আমাকে অনুসরণ করা হচ্ছে, আমি হাঁটা বন্ধ করে দিতাম। একেবারে দাঁড়িয়ে থাকতাম। একদিন ৫ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলাম।’ এ সময়ের পর নাইটলি কিছুদিনের জন্য হলিউড থেকে দূরে সরে যান। পরে তিনি ছোট বাজেটের সিনেমা ও মঞ্চে আবার অভিনয়ে ফেরেন। বর্তমানে তাকে দেখা যাচ্ছে নেটফ্লিক্সে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত থ্রিলার ‘দ্য ওম্যান ইন কেবিন টেন’ ও ‘ব্ল্যক ডাভস’ সিরিজে।
সূত্র: ডেডলাইন










