ওয়ার্ল্ড ওয়ার জেড ও প্যানিক ইন দ্য স্ট্রিট—দুটি দুই শতাব্দীর ছবি। একটির কাহিনী আবর্তিত জম্বি নিয়ে, অন্যটি প্লেগ নিয়ে। একটিতে পুরো পৃথিবীকে রক্ষার প্রচেষ্টা, অন্যটিতে শুধু একটি শহরকে বাঁচানোর চেষ্টা। অসংখ্য অমিলের ভিড়েও একটি জায়গায় দুটি চলচ্চিত্রই এক। দুটি ছবিতেই মরণঘাতী ভাইরাস ও সেটিকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যকার আতঙ্ক তুলে ধরা হয়েছে। 

ওয়ার্ল্ড ওয়ার জেড

হঠাৎ করেই পৃথিবীতে নতুন আতঙ্ক শুরু হয়েছে। অজানা এক ভাইরাসের কারণে মানুষ জম্বি হয়ে গেছে। এরপর সেই জম্বি যাকেই কামড়ে দিচ্ছে, ১০ সেকেন্ডের মধ্যে সেও জম্বিতে পরিণত হচ্ছে। পৃথিবীর প্রায় ৫ শতাংশ মানুষ এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়ে গেছে। এত দ্রুত ছড়াচ্ছে যে প্রতিষেধক আবিষ্কারের সময়ই পাচ্ছে না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বড় বড় প্রতিষ্ঠান। 

ভাইরাসের শুরু কীভাবে হলো, তা জানতে জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা গ্যারি লেন ও একটি দল আমেরিকা থেকে দক্ষিণ কোরিয়া যায়। সেখান থেকে ইসরায়েলে। সেখানে জানতে পারে ভারতের সেনাবাহিনীও বেশ কিছুদিন ধরে এমন একদল জম্বির সঙ্গে যুদ্ধ করছে। এসব জম্বি যেকোনো শব্দের উৎস বরাবর আক্রমণ করে। তবে গ্যারি ইসরায়েলে দেখতে পান একজন সুস্থ-সবল মানুষ জম্বিদের মধ্যে আটকা পড়েছে, কিন্তু জম্বিরা তাকে আক্রমণ করছে না। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে গ্যারি জানতে পারেন ভাইরাসই ভাইরাসের প্রতিরোধ করতে পারে। অন্য কোনো ভাইরাসজনিত রোগ কারো মধ্যে থাকলে জম্বিরা আক্রমণ করছে না। এরপর শুরু হয় বিশ্বকে বাঁচানোর মিশন। 

ম্যাক্স ব্রুকসের বই ওয়ার্ল্ড ওয়ার জেড অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ২০১৩ সালে। মার্ক ফস্টার পরিচালিত এ ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন ব্রাড পিট, মিরেইলি ইনোস, জেমস ব্যাজ ডেল ও ম্যাথু ফক্স। ১১৬ মিনিটের ছবিটি বানাতে খরচ হয় প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার এবং সারা বিশ্বের বক্স অফিস থেকে ৫৪০ মিলিয়ন ডলার আয় করে।

 

প্যানিক ইন দ্য স্ট্রিট

আমেরিকার নিউ অরলিন্সে এক ব্যক্তি গ্যাংস্টারের হাতে নিহত হন। পরিচয়বিহীন লোকটিকে মর্গে খুবই গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে ডাক্তার ক্লিনটন রিড বুঝতে পারেন যে তিনি এক বিশেষ ধরনের প্লেগ রোগে আক্রান্ত। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, যারা মরদেহের সংস্পর্শে এসেছেন, সবাইকে এক ধরনের বিশেষ প্রতিষেধক গ্রহণ করতে হবে।


তবে ঘটনা মোড় নেয় যখন তিনি বুঝতে পারেন পুরো শহরে রোগটির অবাধ বিস্তার ঠেকাতে তার হাতে মাত্র দুদিন সময় আছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মেয়রের সঙ্গে দেখা করেন এবং পরিস্থিতি বর্ণনা করেন। এমনকি মানুষের মধ্যে আতঙ্ক যেন ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য সংবাদমাধ্যমকেও খবরটি না দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তদন্তে রিড জানতে পারেন মৃত লোকটি একটি রেস্টুরেন্টে খাওয়ার সময় যিনি তাকে খাবার পরিবেশন করেছিলেন, সেই নারী মারা গেছেন একই রোগে। এর মধ্যে সংবাদমাধ্যমেও খবরটি নিয়ে গুঞ্জন ওঠে। বাধ্য হয়ে খবরটি ঠেকাতে একজন সাংবাদিককে অন্যায়ভাবে জেলেও পাঠানো হয়। এরপর হন্যে হয়ে ওঠেন মেয়র, ডাক্তার ও নিরাপত্তাকর্মীরা, কীভাবে ছড়াল রোগটি এবং কার কার সংস্পর্শে এসেছিল কোচাক তা খুঁজে বের করতে।

৯৬ মিনিটের এ চলচ্চিত্র ১৯৫০ সালের জুনে মুক্তি পায়। সল সি. সিগেলের প্রযোজনা ও ইলিয়া কাজানের পরিচালনায় ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন রিচার্ড উইডম্যাক, পল ডগলাস, বারবারা বেল গেডেস ও জ্যাক প্যালান্স। ছবিটি ২৩তম অস্কারে সেরা মোশন পিকচার গল্প ক্যাটাগরিতে এবং ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের বিচারে সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতে নেয়।