মৃতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২৫। ধসে পড়েছে ১২ হাজারের বেশি স্থাপনা। ঘরছাড়া হয়েছে লাখো মানুষ। গোটা বিশ্বের নজর এখন লস অ্যাঞ্জেলেসে। তবে বৈশ্বিক বিনোদনের রাজধানীতে এমন নজিরবিহীন দাবানলের প্রভাব হলিউডে ঠিক কতটুকু পড়তে পারে, সেটা নিয়েও চলছে হিসাব-নিকাশ। দাবানল হলিউডের ব্যবসায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। গুঞ্জন উঠেছে, আগামী ২ মার্চ অনুষ্ঠেয় অস্কারের আসর স্থগিত হতে পারে। যদিও বিষয়টিকে গুজব বলেই উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, তবে সার্বিক বিবেচনায় প্রভাব নেহায়েত কম নয়। বিনোদন শিল্প ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনীতিতে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি ডলার যোগ করে। দাবানলের ঘটনা কেবল সে আয়কেই থামিয়ে দেয়নি, ভবিষ্যত নিয়েও তৈরি করেছে উদ্বেগ।
হলিউড তারকা জিন স্মার্ট সম্প্রতি গোল্ডেন গ্লোব জিতেছেন। তিনি এ বছর অস্কারের মতো পুরস্কারের আসর করা নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবার দাবি তুলেছেন। ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, ‘আশা করি, যেসব টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পুরস্কার অনুষ্ঠানগুলো সম্প্রচার করে, তারা যেন সে অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত তহবিলে দিতে পারে’। অন্যদিকে স্টিফেন কিং লিখেছেন, ‘আমার মতে এবারের অস্কার বাতিল করা উচিত। লস অ্যাঞ্জেলেস যখন আগুনে পুড়ছে, তখন ঝলমলে কোনো অনুষ্ঠান নয়।’
মহামারীতে হলিউড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সে প্রভাব অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছিল। প্রভাব ফেলেছিল প্রযোজনা ও সিনেমা দর্শকের উপস্থিতি উভয় ক্ষেত্রেই। কিন্তু সেটা শেষ না হতেই ২০২৩ সালে শুরু হয় লেখক ও অভিনেতাদের ধর্মঘট। গত বছর মার্কিন বক্স অফিস ৮৭৫ কোটি ডলার আয় করেছিল। এ আয় ২০১৯ সালের ১ হাজার ১৩০ কোটি ডলার থেকেও কম। ধর্মঘটের বাতাস যেতে না যেতেই আঘাত হানল দাবানল।
দাবানলের কারণে ‘দ্য লাস্ট শোগার্ল’, ‘উলফ ম্যান’ ও ‘বেটার ম্যান’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার বাতিল করা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে ‘গ্রেস অ্যানাটমি’, ‘স্যুটস: এলএ’ ও ‘হ্যাকস’-এর মতো বিভিন্ন শোয়ের প্রযোজনা। পুরস্কার বিজয়ী কমেডি হ্যাকস একটি প্রধান শুটিং লোকেশনও হারিয়েছে প্রাসাদ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে। ফিল্ম এলএর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দর্শকের প্রিয় অনেক জায়গা হয়তো আর কখনো পর্দায় ফিরে আসবে না।’
বাড়তি শুটিং খরচের কারণে এরই মধ্যে অনেকে প্রযোজনাকে অন্যান্য স্থানে স্থানান্তর করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে আটলান্টার মতো জায়গাগুলোয়। হলিউডের কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন আইএটিএসইয়ের অনুমান প্রায় ৮,০০০ কর্মী দাবানল প্রভাবিত এলাকায় বসবাস করেন। বছরের শুরুটি সাধারণত বার্ষিক পুরস্কার মরসুমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, কিন্তু দাবানল শুরু হওয়ার পর দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। অস্কার মনোনয়ন ঘোষণার দিন পেছানো হয়েছে, ক্রিটিকস চয়েসের আসর নেয়া হয়েছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। গ্র্যামি এখনো আগামী ২ ফেব্রুয়ারি লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, তবে আয়োজকরা আপাতত আগতদের সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহের ওপর মনোনিবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংগীত তারকা বিয়ন্সের মা টিনা নোলসও বাড়ি হারানোদের মধ্যে একজন। এছাড়া বাড়ি হারিয়েছেন জেফ ব্রিজেস, বিলি ক্রিস্টাল, ম্যান্ডি মুর, জোশুয়া জ্যাকসন, অ্যান্থনি হপকিন্স ও অ্যাডাম ব্রোডি। ম্যান্ডি মুর ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘আমাদের মধ্যে যারা এত কিছু হারিয়েছে, তাদের জন্য আমি বিধ্বস্ত ও ভেঙে পড়েছি।’
অবশ্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত সাড়া দিয়েছে। নেটফ্লিক্স, ডিজনি, প্যারামাউন্টসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সাহায্যের জন্য অনুদান দিয়েছে। ফায়ারএইড নামে একটি বেনিফিট কনসার্ট ঘোষণা করা হয়েছে, যার আয় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ব্যয় হবে। এগিয়ে এসেছেন তারকারাও। তার পরও হলিউডের এ নতুন ক্ষত কাটিয়ে উঠতে ঠিক কত সময় লাগবে, সেটা নিয়ে আশঙ্কা কম নেই বিশ্লেষকদের মনে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান










