অভিনেতা অ্যাড্রিয়েন ব্রডি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। গত বছর মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত ‘দ্য ব্রুটালিস্ট’। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ব্র্যাডি করবেট। এর আগে তাকে দর্শক বড় পরিসরে চিনেছিল ‘দ্য পিয়ানিস্ট’ দিয়ে। রোমান পোলানস্কির সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০০২ সালে। এ দুটো ছাড়াও বহু সিনেমায় অভিনয় করেছেন ব্রডি, কিন্তু তাকে কখনো ‘লিডিং ম্যান’ হিসেবে দেখেনি ইন্ডাস্ট্রি। দ্য ব্রুটালিস্টের পর ব্রডিকে নতুন করে দেখছে সিনেমা সংশ্লিষ্টরা।

রোমান পোলানস্কির দ্য পিয়ানিস্ট ২০০৩ সালে অস্কার এনে দেয় ব্রডির ঝুলিতে। সে সময় তার বয়স মাত্র ২৯ বছর এবং তিনি সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে সেরা অভিনেতার পুরস্কারটি পান। কিন্তু এর পরও প্রথম সারির অভিনেতা হিসেবে গণ্য করেনি তাকে ইন্ডাস্ট্রি। এ নিয়ে ব্রডি বলেন, ‘হ্যাঁ, বিষয়টা আমি সবসময়ই জানতাম। আমার মুখপাত্ররা জানিয়েছেন আমাকে কীভাবে দেখা হয়।’

২০০৭ সালে তিনি ওয়েস অ্যান্ডারসনের রেপার্টরিতে যুক্ত হন, কিন্তু ম্যাট ডেমন, বেন অ্যাফ্লেক বা লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রির মতো সবসময় প্রধান চরিত্র পেয়ে আসেননি। এর অন্যতম কারণ হতে পারে চেহারায় প্রথাগত নায়কোচিত বিশেষত্ব না থাকা।

একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাকে প্রমাণ করতে হয়েছে সিনেমার প্রধান চরিত্র আর দশজন নায়কের মতো সুদর্শন বা নায়কোচিত না-ও হতে পারে। আমারো মনে হয়েছিল ওই ঘরানার সিনেমার চেয়ে একটু ভিন্ন ধারার চিত্রনাট্যে কাজ করা আমার জন্য নিরাপদ হবে।’

ক্যারিয়ারের প্রায় তিন দশকে তিনি নায়িকাদের সঙ্গে রোমান্স করা নায়ক না হয়েও একজন পুরোদস্তুর অভিনেতা হয়ে উঠেছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

ব্রডির খুব ভালো বন্ধু অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন। ব্রডিকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘অ্যাড্রিয়েনের চেহারা দেখেই মনে হয়, সে অন্য এক সময়ের মানুষ। ওর মুখে সবসময় অভিব্যক্তি খেলা করে। আমাদের সিনেমার দুনিয়ায় এ রকম চেহারা ক্লোজআপ শটের জন্য খুব ভালো। চোখেই যে অভিব্যক্তি থাকে, কখনো তা মূলধারার সিনেমার জন্য অতিরিক্ত মনে হলেও তা একদম নির্ভেজাল।’

ব্রডি তার কাজের স্বীকৃতি বহুবারই পেয়েছেন। খুব অল্প বয়সেই পেয়েছেন অস্কার। কিন্তু নায়ক হয়ে উঠতে পারেননি। তার খুব একটা আফসোস নেই এতে। ব্রডি বলেন, ‘এটা জীবনের একটা অংশ। যেহেতু আমাকে দেখতে আর দশজন নায়কের মতো নয়, কিছু চরিত্র পেতে আমার অসুবিধা হয়। কিন্তু কিছু চরিত্র আমি সহজেই পাই এবং সেটা আমার পক্ষেই যায়।’

সূত্র ও ছবি: ভ্যারাইটি